kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

শিক্ষা প্রশাসন

অভিভাবকশূন্য তিন প্রতিষ্ঠান

৪০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বন্ধ ♦ দুর্ভোগে অবসরপ্রাপ্ত ১৬ হাজার শিক্ষক

শরীফুল আলম সুমন   

১০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বায়ত্তশাসিত কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, অবসর সুবিধা বোর্ড, শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট—এ তিনটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদ দুই মাস ধরে শূন্য থাকায় প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন অবসরপ্রাপ্ত প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষক। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। এ ছাড়া শিক্ষা প্রশাসনে নতুন পদায়ন না হওয়ায় অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়েছে একাধিক প্রতিষ্ঠান।

জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই মূলত বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রশাসনের বদলি-পদায়ন। জানুয়ারিতে নতুন শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপমন্ত্রী আসার পরও বড় পদগুলোতে পদায়ন, বদলি ও নতুন দায়িত্ব প্রদান করা হয়নি। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর, নায়েম, এনসিটিবিসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে বদলি-পদায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ক্যাডারের একাধিক কর্মকর্তা।

সূত্র জানায়, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান গত ৪ ফেব্রুয়ারি অবসরে যাওয়ার পর নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা হয় না। প্রতি মাসের প্রথম দিন বেতন হলেও ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এখনো পাননি প্রতিষ্ঠানটির ১৩০ জন স্থায়ী এবং ২৫০ জন অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী। এ ছাড়া চেয়ারম্যান না থাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও আটকে আছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, কারিগরি বোর্ডের চেয়ারম্যান নিয়োগের ফাইল প্রসেস করা হয়েছে। শিগগিরই পদটি পূরণ করা হবে।

বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধা প্রদান করে অবসর সুবিধা বোর্ড ও শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট। এ দুই প্রতিষ্ঠানে সদস্যসচিবই হচ্ছে সর্বোচ্চ পদ। গত ১২ জানুয়ারি পদ দুটি শূন্য হয়েছে। সদস্যসচিব না থাকায় বেসরকারি শিক্ষকদের নতুন করে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার টাকা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ গত সরকারের শেষ সময় এ দুই প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল থেকে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সদস্যসচিব না থাকায় টাকা ছাড় করা যাচ্ছে না। অবসর ও কল্যাণ সুবিধার জন্য বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষকের আবেদন জমা পড়ে আছে। এ ছাড়া এই দুই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতনও বন্ধ রয়েছে।

শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের সব কাজ এবং সরকারি স্কুল-কলেজের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলি-পদায়ন মাউশি অধিদপ্তরের পরিচালকের (কলেজ ও প্রশাসন) দায়িত্ব। কিন্তু গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি অবসরে যাওয়ার পর নতুন কেউ এখনো নিয়োগ পাননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, মূলত এসএসসি পরীক্ষার জন্যই বদলি-পদায়নে হাত দেওয়া হয়নি। ২ মার্চ এ পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এখন দ্রুতই শূন্যপদ পূরণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা