kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

দ্বিতীয় স্ক্যানিংয়ে ধরা পড়ে পিস্তল

বেবিচক ও মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইলিয়াস কাঞ্চন অসত্য বলছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের স্ক্যানারে পিস্তল ও গুলি ধরা না পড়া নিয়ে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন অসত্য বলেছেন বলে দাবি করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। প্রথম স্ক্যানের না হলেও দ্বিতীয় স্ক্যানের বিমানবন্দরের অ্যান্টি হাইজ্যাক পয়েন্টে চেকিংয়ের সময় ইলিয়াস কাঞ্চনের ব্যাগে থাকা পিস্তলটি শনাক্ত হয় বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

নভোএয়ারের ভিকিউ-৯০৯ ফ্লাইটে গত মঙ্গলবার বিকেলে শাহজালাল বিমানবন্দর হয়ে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। ভুলে লাইসেন্স করা পিস্তলটি তাঁর ব্যাগেই রয়ে যায় বলে জানান তিনি। এরপর বুকিং কাউন্টারে গিয়ে তিনি জানান যে তাঁর সঙ্গে নাইন এমএম পিস্তল আর ১০ রাউন্ড গুলি আছে, যা অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের প্রথম গেটের স্ক্যানারে ধরা পড়েনি। তিনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পিস্তলটি সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামে যান। দায়িত্বে অবহেলার দায়ে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্ক্যানার অপারেটর ফজলার রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত এবং দুই কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে।

চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের ৯ এমএম পিস্তল ও ১০ রাউন্ড গুলিসহ বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পেরিয়ে ঢোকা নিয়ে সেদিনের স্ক্যানিংয়ের ভিডিওচিত্র প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা যায়, ইলিয়াস কাঞ্চন অ্যান্টি হাইজাকিং পয়েন্টে ঢোকার সময় ফোনে কথা বলছিলেন। প্রথমে তিনি হ্যান্ডব্যাগেজ, গায়ের ব্লেজারসহ আনুষঙ্গিক সামগ্রী স্ক্যানিংয়ে দেন। স্ক্যানারে ঢোকার পরই দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী জানতে চান ব্যাগটি কার। পরে সেটি স্ক্যান থেকে ফেরত পাঠান। যদিও এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ইলিয়াস কাঞ্চন কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘স্ক্যানারে ব্যাগ দিয়ে পরে আমি নিজেই জানিয়েছিলাম।’

এদিকে বেবিচক জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের স্ক্যানারে ধরা না পড়ার বিষয়টি সঠিক ও তথ্যভিত্তিক নয়। এ বিষয়ে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের বক্তব্য নিতান্তই তাঁর নিজস্ব। তাঁর বক্তব্যর ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থায় ত্রুটির বিষয়ে যেসব সংবাদ ছাপা হয়েছে তা তথ্যভিত্তিক নয়। প্রকৃত ঘটনা হলো—ইলিয়াস কাঞ্চন তাঁর ব্যাগে থাকা পিস্তলের বিষয়ে কোথাও ঘোষণা করেননি। অ্যান্টি হাইজ্যাক পয়েন্টে চেকিংয়ের সময় ইলিয়াস কাঞ্চনের ব্যাগে থাকা পিস্তলটি শনাক্ত হয়। তখন দায়িত্ব পালনরত স্ক্যানার ও সুপারভাইজার উঠে এসে তাঁর ব্যাগে অস্ত্র থাকার বিষয়টি জানালে তিনি ভুলক্রমে এটি ল্যাপটপের ব্যাগে নিয়ে এসেছেন মর্মে দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক পিস্তলটি নভোএয়ারের কাউন্টারে হস্তান্তর করা হয়। বিষয়টি বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আইকাও স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী নির্ভরযোগ্য। যাত্রী ও দেশবাসীকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তা না করার এবং বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বেবিচক।

এদিকে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে পিস্তলসহ প্রবেশ করা নিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন অসত্য কথা বলছেন বলে দাবি করা হয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। গতকাল মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানভীর আহমেদের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওই দাবি করা হয়। এতে বলা হয়, ‘ইলিয়াস কাঞ্চন নিজের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে সংবাদমাধ্যমে অন্যায়ভাবে একের পর এক অসত্য কথা বলছেন। প্রকৃতপক্ষে ওই দিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে যা ঘটেছে তা হলো—ইলিয়াস কাঞ্চনের ল্যাপটপের ব্যাগে থাকা পিস্তল ও গুলি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের অ্যান্টি হাইজাকিং পয়েন্টে স্ক্যান করার সময় তা মেশিনে শনাক্ত হয়। বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি তাঁর ভুল স্বীকার করেন। তখন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা তাঁকে বিমানবন্দরের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পিস্তলটি বহন করার জন্য অনুরোধ করলে তিনি ওই স্থান থেকে ফেরত যান। পরে তিনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিমানে চট্টগ্রামে যান।’

মন্তব্য