kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

শ্রীপুরে দলিল লেখকদের টানা আন্দোলন

ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সাবেক সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে অবসরে যাওয়া সাবরেজিস্ট্রার সৈয়দ নজরুল ইসলাম দায়িত্বকালীন তাঁর ঘুষ-দুর্নীতির কারণে অতিষ্ঠ ছিল দলিল লেখকসহ সেবাগ্রহীতারা। গত ৩১ জানুয়ারি তিনি অবসরে গেলে গাজীপুর সদরের সাবরেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম মনিকে খণ্ডকালীন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে মেনে না নিয়ে সাবরেজিস্ট্রি অফিসকে ‘ঘুষ ও দুর্নীতি’ মুক্ত করাসহ দুর্নীতিবাজ কয়েকজন নকলনবিশকে অপসারণের দাবি জানিয়ে টানা কলমবিরতিসহ আন্দোলন শুরু করেন দলিল লেখকরা। পরে কালিয়াকৈর উপজেলার সাবরেজিস্ট্রারকে খণ্ডকালীন দায়িত্ব দেওয়া হলে তাঁকেও মেনে নেয়নি দলিল লেখকরা।

দলিল লেখকদের দাবি, গাজীপুরে চাহিদার দিক থেকে অন্যতম শ্রীপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিস। এখানে গড়ে প্রতিদিন ১০০টি দলিল সম্পাদন করা হয়। এ অফিসে যেকোনো সাবরেজিস্ট্রারের খণ্ডকালীন দায়িত্বে সেবাগ্রহীতাদের দুর্ভোগ বাড়বে। ফলে তারা পূর্ণকালীন সাবরেজিস্ট্রার চায়।

দলিল লেখকদের টানা আন্দোলনের কারণে ৩৫ দিন ধরে শ্রীপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে কোনো দলিল সম্পাদন হচ্ছে না। ফলে অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে হাজারো মানুষ।

এদিকে অবসরে যাওয়া সাবরেজিস্ট্রার সৈয়দ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্তদল। তদন্তদলের সদস্যরা তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করেছেন বলে জানান গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রার মোখলেসুর রহমান। সৈয়দ নজরুল ইসলামের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত অন্তত ১৫ জন দলিল লেখকের সনদপত্র গত বুধবার বাতিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দলিল লেখকরা জানান, কয়েক বছর ধরে শ্রীপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ব্যাপক দুর্নীতি চলে আসছিল। অফিসের নকলনবিশ সোহেলের ‘সংকেত’ ছাড়া সম্পাদনের জন্য দলিলে হাত দিতেন না সাবরেজিস্ট্রার। ওই সময় সৈয়দ নজরুল ইসলাম ব্যাপকহারে জাল পর্চায় দলিল সম্পাদন করেন। এ ছাড়া সম্পাদন হয়েছে গেজেট নোটিফিকেশনভুক্ত জমিও। দলিল লেখকরা অভিযোগ করেন, জমির সব কাগজ-পর্চা ঠিক থাকলেও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে ঘুষ দিতে হতো। গত ৩১ জানুয়ারি তিনি অবসরে যান। এরপর গাজীপুর সদর সাবরেজিস্ট্রারকে খণ্ডকালীন দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁকে কর্মস্থলে যোগ দিতে দেননি দলিল লেখকরা। পরে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলে সেখানে খণ্ডকালীন দায়িত্ব পান কালিয়াকৈর উপজেলার সাবরেজিস্ট্রার। তাঁকেও মেনে নেননি দলিল লেখকরা। তাঁরা শ্রীপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ‘ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত’ পূর্ণকালীন একজন সাবরেজিস্ট্রার চেয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

মন্তব্য