kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার নাজমা বেগম

জসীম পারভেজ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)   

৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার নাজমা বেগম

মোসা. নাজমা বেগম গ্রামের অতি সাধারণ এক গৃহবধূ। পড়াশোনাও করেছেন সামান্য। তবে বাল্যবিয়ে, নারী নির্যাতন বন্ধসহ নারী অধিকার আদায়ে তিনি বেশ সোচ্চার কণ্ঠ। এ কারণে এলাকায় তিনি বেশ জনপ্রিয়ও। এলাকাবাসীর দাবির মুখে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে হয়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের সরডুগী গ্রামের আলমগীর হাওলাদারের স্ত্রী নাজমা বেগমকে। তাতে ব্যাপক ভোটে তিনি জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন।

গত বুধবার নারী অধিকার আদায়ে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী নাজমা বেগমের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে একটি পারিবারিক সমস্যা সমাধানের জন্য বৈঠক করছেন। বৈঠক শেষে কথা হয় নাজমা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপাড়া করেছেন বড়বালিয়াতলী ইয়াকুব আলী সিনিয়র মাদরাসায়। ২৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে একই গ্রামের আলমগীর হাওলাদারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। সংসারে এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

২০১৪ সালে প্রতিবেশী মো. জাকির হোসেন তার স্ত্রী মোসা. নাজমা বেগমকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে বাড়ির আঙিনায় পুঁতে রাখে। তা ছাড়া আছাড় দিয়ে ছয় মাসের শিশুপুত্র ইয়ামিনকে হত্যার করে। এরপর জাকিরের পরিবারের সদস্যরা শিশুপুত্রকে নিয়ে পুত্রবধূ পালিয়ে গেছে বলে প্রচারণা চালায়; কিন্তু তাতে সন্দেহ হয় নাজমার। তিনি প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে হত্যার শিকার নাজমা বেগমের লাশ উদ্ধার করেন। এরপর শিশুপুত্রের লাশও উদ্ধার করা হয়। পরে ঘাতক স্বামী মো. জাকির হোসেনকে কৌশলে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেন নাজমা বেগম। সেই থেকে নারী নির্যাতন, বাল্যবিয়ে, যৌতুক প্রথাসহ নারী অধিকার আদায়ে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।

নাজমা বেগম জানান, ২০১৭ সালে টাকা চেয়ে ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের বরকতিয়া গ্রামের মো. হোসেন মোল্লা তাঁর স্ত্রী এক কন্যাসন্তানের মা মোসা. মহিমা বেগমের ওপর নির্যাতন চালান। এ ঘটনায় স্ত্রী মহিমা ওই বছর আদালতে মামলা করেন। তবে নাজমা উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে মামলা প্রত্যাহার করান। এরপর ওই পরিবার সুখে-শান্তিতে বসবাস করে আসছে।

মন্তব্য