kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

একান্ত সাক্ষাৎকারে স্পিকার

কেউ জায়গা ছেড়ে দেয় না আদায় করে নিতে হয়

নিখিল ভদ্র   

৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কেউ জায়গা ছেড়ে দেয় না আদায় করে নিতে হয়

“আমি তখন কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। একদিন পরই ভোটগ্রহণ। যেমন ব্যস্ততা, তেমনি টেনশন। বাসা থেকে হঠাৎ তোমাদের ভাইয়ের (স্পিকারের স্বামী) ফোন। ফোন ধরতেই তিনি জানতে চাইলেন, ‘জাফরানটা কোথায় রেখে গেছ? কেউ তো খুঁজে পায় না। মোরগ-পোলাও কি রান্না হবে না? ছেলে-মেয়েরা কি ঈদে পোলাও খাবে না?’...বোঝো তো অবস্থা!” ২০১৪ সালের অক্টোবরে আফ্রিকার দেশ ক্যামেরুনে থাকা অবস্থায় ওই অভিজ্ঞতা হওয়ার উদাহরণ তুলে ধরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি কালের কণ্ঠকে বলেন, এ ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়েই নারীদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়। ঘরে-বাইরে সমানভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস সামনে রেখে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সব কাজ সবাই পারবে না—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দায়িত্বে থাকাকালে শুধু নারী হওয়ার কারণে আমি একটি কাজ করতে পারলাম না, এমনটি যেন না হয়। কেউ যেন বলতে না পারে, নারী স্পিকার তো, তাই কাজটা হয়নি।’

শৈশবকাল থেকে স্পিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘নারীদের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে সুশিক্ষা। আমার পরিবার সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে পেরেছিল বলেই আমি ওপরে উঠতে পেরেছি। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে তুলে এনে এত বড় দায়িত্বে বসিয়েছেন।’ জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পেছনে অনন্য অবদানের কথা উল্লেখ করে জননেত্রী শেখ হাসিনা ও পিতা-মাতাসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, সংসদে ও সংসদের বাইরে নারীরা দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদ নেতা, স্পিকার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিসহ সাংবিধানিক অনেক পদেই এখন নারীরা আছেন। কয়েকবার বিরোধী দলের নেতাও ছিলেন নারী। সংসদের বাইরে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারে নারীর প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। তাঁরা সংরক্ষিত আসনের পাশাপাশি সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, নির্বাচিত হয়ে দায়িত্বও পালন করছেন। ফলে সমাজে নারী নেতৃত্ব এখন দৃশ্যমান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হওয়ার পর অনেকেই সাধারণ আসনে নির্বাচন করছেন উল্লেখ করে রংপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শিরীন শারমিন বলেন, ‘আমিও প্রথমে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ছিলাম। পরে সরাসরি নির্বাচন করে এসেছি। এমিলি, চুমকি, মমতাজসহ অনেকের ক্ষেত্রেই সেটা হয়েছে। স্থানীয় সরকারে দেখলে একই দৃষ্টান্ত পাওয়া যাবে। সবক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে।’

নির্বাচিত হলেও নারীদের কাজের ক্ষেত্রে অনেক বাধা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়—নারী প্রতিনিধিদের এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্পিকার বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই। সবার জন্য চ্যালেঞ্জ আছে। নারীদের জন্য দ্বিগুণ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সাহস অর্জন করতে হবে। বাধা থাকবেই। কেউ কাউকে সহজে জায়গা ছেড়ে দেয়? নিজের অধিকার নিজেকে আদায় করে নিতে হবে। সেই বাধা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারছে বলেই সারা দেশে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে।’

সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ছে উল্লেখ করে আইন বিষয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনকারী শিরীন শারমিন বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে এখনো সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য আন্দোলন হয়। আর বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে সেটা বাস্তবায়িত হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নারীর ক্ষমতায়নের স্বার্থে সংবিধানে এই বিধান রেখেছিলেন। এ কারণেই বাংলাদেশের সংবিধান অনন্য।

নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্পিকার বলেন, সংবিধান সংশোধন করে সংরক্ষিত নারী আসন ৫০ করা হলেও নারীর কাঙ্ক্ষিত ক্ষমতায়ন হয়নি। আইনে সব রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে ৩৩ শতাংশ নারীর থাকা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও সেটা এখনো হয়নি। তবে এক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি হচ্ছে। দ্রুতই সেই লক্ষ্য পূরণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্তব্য