kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

নারায়ণগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় ইয়াবা

সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

একমাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারায়ণগঞ্জে পুলিশের এক কর্মকর্তার বাসা থেকে ৪৯ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলার পর নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি কামরুল ইসলামকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই মামলায় এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক ও নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারকে (এসপি) এ নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার আসামি পুলিশ সদস্য আসাদুজ্জামানকে জামিন না দিয়ে এ আদেশ দেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিআইডি) নাজিম উদ্দিন আজাদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ। আসামি আসাদুজ্জামানের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী।

ওই মামলার আসামি আসাদুজ্জামানের জামিন আবেদনের ওপর শুনানিকালে আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তার হাজির হওয়ার কথা ছিল। সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা মেহেদী মাকসুদ আদালতে হাজির হয়ে জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিআইডি) নাজিম উদ্দিন আজাদকে। এরপর আদালত তাঁকে তলব করে আদেশ দেন। এ আদেশে গতকাল তিনি হাইকোর্টে হাজির হন। আদালত মামলার তদন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁর কাছে জানতে চান। তদন্ত সম্পন্ন করতে আর কত দিন সময় লাগবে তাও জানতে চান।

জবাবে ওই পুলিশ কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হবে। 

এ সময় আদালত তাঁকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য এক মাস সময় বেঁধে দেন। একই সঙ্গে ওসি কামরুল ইসলামকে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।

আদেশের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, মামলায় কয়েকজন আসামি তাঁদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওই ঘটনায় ওসির সম্পৃক্ততার কথা বলেছেন। এ কারণে আদালত মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ওসিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন।

গত বছর ৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জ সদর থানার এএসআই মোহাম্মদ সরওয়ার্দীর বাসা থেকে ৪৯ হাজার পিস ইয়াবা ও পাঁচ লাখ টাকা উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি পুলিশ সদস্য আসাদুজ্জামান, মোহাম্মদ সরওয়ার্দীসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশেই তাঁরা টাকা ও ইয়াবা রেখেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা