kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বেবিচকে দুর্নীতি প্রতিরোধে ১১ সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দুর্নীতির ১১টি খাত উল্লেখ করে সেসব প্রতিরোধে ১১টি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দাখিল করা প্রতিবেদনে।

১. বুয়েটের শিক্ষকসহ অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ক্রয় কমিটি গঠন করে ক্রয়ের মান ও মূল্যের যথার্থতা নির্ণয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পাশাপাশি অতীত ক্রয়ের ক্ষেত্রে এসব দুর্নীতি খতিয়ে দেখার জন্য এক্সপার্ট কমিটি গঠন করা যেতে পারে।

২. নির্মাণকাজ মূল্যায়নের জন্য বুয়েটের শিক্ষকসহ বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে নিরপেক্ষ মেয়াদি কমিটি গঠন করা যেতে পারে।

৩. বেবিচকে একটি সম্পত্তি অধিশাখা থাকলেও পরিচালক বা সমপর্যায়ের কর্মকর্তা নেই। নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার জন্য অভিজ্ঞ পরিচালক পদায়ন করা যেতে পারে। সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও অবৈধ

দখলদারমুক্ত করার জন্য একটি ম্যাসিভ পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে।

৪. বর্তমান দোকান ও বিলবোর্ডগুলো বরাদ্দ দেওয়ার যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখা যেতে পারে। অযৌক্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাতিলসহ বরাদ্দ প্রদানকারী এবং মতামত প্রদানকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দোকান নিয়ে ব্যবসা করছে তাদের চিহ্নিত করে বিধিমতে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ডেস্কে অতীত রেকর্ড দেখে স্বচ্ছ কর্মকর্তাদের পদায়ন করা সমীচীন হবে। একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠন করে যাত্রীদের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য মানসম্মত পণ্যদ্রব্য বিক্রির শর্তসাপেক্ষে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে মানানসই দোকান/স্টল বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। দশটি অপ্রয়োজনীয় দোকান বরাদ্দ না দিয়ে একটি মানসম্মত প্রয়োজনীয় দোকান বরাদ্দ দিতে হবে। যাত্রীদের প্রয়োজন, অধিকার, সুবিধা ও বিমানবন্দরের সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দিতে হবে।

৫. উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উপযুক্ত দেশি/বিদেশি অভিজ্ঞ কনসালট্যান্ট নিয়োগ দিতে হবে। এ যাবৎকালে নিয়োগকৃত কনসালট্যান্টদের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে হবে।

৬. বেবিচকের নিজস্ব কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং ভিন্ন সংস্থা থেকে ডেপুটেশনে পদায়ন নিরুৎসাহিত করতে হবে।

৭. জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট মনট্রিল কনভেনশন কেন এখনো র‌্যাটিফাই করা হয়নি তা খতিয়ে দেখার জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা যেতে পারে। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে কনভেনশনটি দ্রুত র‌্যাটিফাই করতে হবে।

৮. বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কারকাজ এবং সব কেনাকাটার ক্ষেত্রে ই-টেন্ডারিং ব্যবস্থা চালু ও তা নিশ্চিত করতে হবে।

৯. ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার ও এয়ার লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে দুর্নীতির ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করে এর বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

১০. ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি ও শিডিউল অনুমোদনে আবশ্যিকভাবে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার তথা বাংলাদেশ বিমানের অনাপত্তিপত্র নিতে হবে। যেসব ক্ষেত্রে অনাপত্তি নেওয়া হয়নি সেসব ক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

১১. দক্ষ ব্যক্তিদের যথাযথ জায়গায় পদায়ন করতে হবে। বিমানবন্দরে অপারেশনাল কাজের জন্য দক্ষ কর্মকর্তার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজের জন্য দক্ষ প্রশাসন/সমন্বয়ক নিয়োগ দিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা