kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিমানে দুর্নীতি প্রতিরোধে ৮ সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দাখিল করা প্রতিবেদনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে আটটি খাতে দুর্নীতির উল্লেখ করে সেসব প্রতিরোধে সুপারিশমালাও তুলে ধরা হয়েছে।

ক্রয় ও লিজের ক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধে সুপারিশে বলা হয়েছে, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে ক্রয় কমিটি গঠন করে যেকোনো ব্যয়বহুল ক্রয়ের যথার্থতা, স্পেসিফিকেশন ও  প্রাক্কলনসহ দরপত্র যাচাই-বাছাই করা যেতে পারে। নতুন ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে ক্রয় চুক্তিতে ব্যয়বহুল বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এ ছাড়া নিয়মিত ক্রয়ের ক্ষেত্রে মানসম্মত একাধিক আন্তর্জাতিক কম্পানির সঙ্গে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির মাধ্যমে মেয়াদি সরবরাহ-চুক্তি করা যেতে পারে। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের অনৈতিক প্রভাব এবং ঘুষ দেওয়া-নেওয়ার সুযোগ থাকবে না বলে মনে করে কমিশন।

সুপারিশে বলা হয়েছে, বিমান লিজের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে লিজ চুক্তির শর্ত নির্ধারণ করতে হবে এবং হজের ক্ষেত্রে হাতে সময় রেখে দরপত্র কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এক হজ শেষেই পরবর্তী হজের জন্য বিমান লিজের কার্যক্রম শুরু করা ঠিক হবে না। অতীতে কেনাকাটার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান বড় অসংগতিগুলোর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ যাবৎকালের অডিট আপত্তি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিরুসাহিত হয়।

বিমানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম ক্রয়ের তালিকা, কখন কেনা হয়েছে, কী দামে কেনা হয়েছে, কোন প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা হয়েছে, কত টাকা মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে—এসব রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দুর্নীতির পরিমাণ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ ও ওভারহলিং খাতে কেনাকাটার সময় আন্তর্জাতিক দরপত্রের নিয়ম সঠিকভাবে পরিপালন হচ্ছে কি না তা পর্যালোচনার জন্য বিষেশজ্ঞ টিম গঠন করা যেতে পারে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে ই-টেন্ডারিং বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের সঙ্গে বিমানের বড় ধরনের আয় এবং বিপুল রাষ্ট্রীয় কর্মসংস্থান সম্পৃক্ত। এ জন্য আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য গ্রাউন্ড হ্যান্ডলারের সঙ্গে ৩ থেকে ৫ বছর মেয়াদি চুক্তি করা যেতে পারে। চুক্তিবদ্ধ কম্পানি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং পরিচালনার পাশাপাশি এক্সপার্টাইজ শিফটের মাধ্যমে বিমানকে দক্ষ করে গড়ে তুলবে। চুক্তিবদ্ধ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলারের তত্ত্বাবধানে স্টাফ রোস্টারিং/এটেন্ডেন্স, ফ্লাইট হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্ট এবং সার্ভিস বিলিং ম্যানেজমেন্টের জন্য সফ্টওয়্যার ইনস্টলেশনসহ কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের জন্য যথাযথ গোডাউন ও অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন করা যেতে পারে। আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে ক্যাজুয়াল শ্রমিক নিয়োগ প্রথার পরিবর্তে কোয়ালিফায়েড সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক জনবল নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। তাতে নিয়োগ-দুর্নীতি রোধের পাশাপাশি কাজের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

কার্গো ওজনের কাজটি নিয়মিত মনিটরিং করা প্রয়োজন। এ ছাড়া ওজনপ্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে এ দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব।

ট্রানজিট/লে-ওভার প্যাসেঞ্জারের হিসাব বর্তমানে ম্যানুয়ালি সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। এটিকে ফ্লাইটের সঙ্গে লিংক করে মানসম্মত সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে ডিজিটালাইজড করতে হবে। হোটেলে প্রতি রুমে বাস্তবে কতজন অবস্থান করে তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য মনিটরিং টিমের মাধ্যমে আকস্মিক পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

অতিরিক্ত ব্যাগেজের চার্জ আত্মসাৎ রোধে মনিটরিং জোরদার করা যেতে পারে। আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে আগমনী যাত্রীদের বুকিং ট্যাগ ও বহনকৃত ওজন পরীক্ষা করে মিল না পাওয়া গেলে বোর্ডিংপাস ইস্যুকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ কাজের জন্য একটি নিরপেক্ষ টিম গঠন করে কার্যকর রাখা যেতে পারে।

বিমানকে সার্বক্ষণিক ওয়েবসাইট আপটেড রাখতে হবে, যাতে করে গ্রাহকরা ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ এবং পরিপূর্ণ তথ্য পেতে পারেন। বিমানকে সার্বিকভাবে ই-টিকেটিং, ই-রিজার্ভেশন এবং ই-প্রকিউরমেন্ট পদ্ধতিতে যাওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া ফলস বুকিং বন্ধ করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এজেন্টদের বুকিং-কোটা এবং বুকিং সময় কমিয়ে অনলাইন টিকিটের প্রাপ্যতা বাড়াতে হবে।

আন্তর্জাতিকমানের শেফ নিয়োগ দিয়ে খাবারের মান উন্নত করা যেতে পারে। এ ছাড়া বিএফসিসি শাখার নজরদারি বৃদ্ধি করা যেতে পারে, যাতে বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা