kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বৃহস্পতিবার শপথ নিচ্ছেন মনসুর ও মোকাব্বির

সংসদ সচিবালয়ের প্রস্তুতি ♦ ব্যবস্থা নেবে গণফোরাম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দুই নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খানের সংসদ সদস্য পদের শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেছে সংসদ সচিবালয়। স্পিকারের নির্দেশ অনুযায়ী শপথ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ জানিয়ে আজ-কালের মধ্যেই তাঁদের দাপ্তরিক চিঠি দেওয়া হবে। দুই নেতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী বৃহস্পতিবার ৭ মার্চই তাঁদের শপথগ্রহণের দিন চূড়ান্ত করা হয়েছে। গতকাল সংসদ সচিবালয় সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে গণফোরাম জানিয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নিলে এই দুই নেতার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু মতিঝিলে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এই কথা জানান।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত ওই দুই সদস্যের লিখিত আগ্রহ অনুযায়ী ওই দিন সকাল ১১টায় সংসদ ভবনে স্পিকারের দপ্তরে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্পিকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এরই মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার স্পিকারের দপ্তর থেকে ওই দুই এমপিকে শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠাতে বলা হয়েছে। আজ-কালের মধ্যেই তাঁরা ওই চিঠি পাবেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাঁদের শপথ পাঠ করাবেন।

এর আগে গত শনিবার শপথগ্রহণের আগ্রহ দেখিয়ে স্পিকারকে চিঠি লেখেন আলোচিত দুই সংসদ সদস্য। চিঠিতে তাঁরা ৭ মার্চ শপথ নিতে চান বলে উল্লেখ করা হয়।

একাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আটজন সদস্য এখনো শপথ নেননি। এর মধ্যে ছয়জন বিএনপির ও দুজন গণফোরামের। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম মনোনীত ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক এবং মোকাব্বির খান সিলেট-২ আসন থেকে গণফোরামের দলীয় প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। কিন্তু তাঁদের জোটের ভরাডুবি হওয়ায় নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে তাঁরা শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করেন।

গত ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। এর আগে গত ৩ জানুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর ৯০ দিনের মধ্যে কেউ শপথ না নিলে তাঁর আসন শূন্য হবে। বাকি ছয়জন নির্বাচিত সদস্য শপথ না নিলে আগামী ৩০ এপ্রিলের পর তাঁদের আসন শূন্য হবে।

অন্যদিকে গতকাল গণফোরামের কাউন্সিল উপলক্ষে দলটির নেতারা কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন। পরে দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু সাংবাদিকদের জানান, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে সুলতান মো. মনসুর ও মোকাব্বির খান শপথ নিলে তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে গণফোরাম।

সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত হচ্ছে সংসদে না যাওয়া। এটাতে দ্বিমতের কোনো অবকাশ নেই। যাঁরা এসব করছেন তাঁরা নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে করছেন—এটা দলীয় সিদ্ধান্ত নয়। তাঁরা (মনসুর ও মোকাব্বির) গেলে অবশ্যই আমরা তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। দল বসে এই সিদ্ধান্ত নেবে। দলীয় সিদ্ধান্ত ও আইনগত সিদ্ধান্ত যা নেওয়া দরকার সেগুলো আমরা নেব। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, জনগণের সঙ্গে আমরা প্রতারণা করব না। জনগণ যে আস্থা আমাদের ওপর রেখেছে সেই আস্থার আমরা খেয়ানত করব না।’

মন্টু বলেন, ‘আমাদের সভাপতি ড. কামাল হোসেন যিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা, তিনি নির্বাচনের ভোটের পর ৩০ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে পরিষ্কার বলে দিয়েছেন যে এটা অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন। এটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এটা অবিলম্বে বাতিল করা হোক। সভাপতি এ রকম কথা বলে দেওয়ার পর কিভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম তাঁদের পাঠানোর জন্য? সেই দিনও তো আমরা গণশুনানি করেছি। সেখানে তিনি (ড. কামাল) বলেছেন যে এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়, অবিলম্বে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে আমরা কী করে বলব যে তোমরা যাও।’

মন্টু আরো বলেন, যেখানে মূল দল বলছে না, সেখানে তাঁদের মাথা খারাপ না হলে যাওয়ার কথা নয়। সেখানে দলের পরিপন্থী হয়ে এ কাজ করবে—এটা গ্রহণযোগ্য নয়।

গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২৩ ও ২৪ মার্চ আমাদের কাউন্সিল হবে। সে জন্য আমরা বৈঠকে বসেছিলাম।’ তিনি জানান, এই দুই নেতা ৭ তারিখে শপথ নিলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা