kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

খুলনার প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক দপ্তর

জেঁকে বসেছে অনিয়ম

কৌশিক দে, খুলনা   

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রতিষ্ঠানটিতে ছিল না শূন্যপদ। তার পরও সংযুক্ত করা হয় অতিরিক্ত জনবল। তদন্তেও মেলে এ অনিয়মের সত্যতা। কিন্তু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষার খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক দপ্তরে ঘটেছে এ অনিয়ম। ফলে ভেঙে পড়েছে ওই দপ্তরের শৃঙ্খলা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব ঘটনার জন্য উপপরিচালক মেহেরুন নেছার ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পদ শূন্য না থাকলেও বিভিন্ন শিক্ষা দপ্তর থেকে অতিরিক্ত পাঁচজনকে ওই কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। এঁদের মধ্যে ডুমুরিয়ার সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার, পাইকগাছা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী জিএম আবু সাঈদ, বাগেরহাট পিটিআইয়ের উচ্চমান সহকারী মনির আহমেদ সিদ্দিকী, ডুমুরিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী আইরিন পারভীন ও খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী মেহেদী হাসান ওই দপ্তরে কাজ করছেন। ফলে উপপরিচালকের দপ্তরের কাজের শৃঙ্খলা যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি জনবল তুলে আনা দপ্তরগুলোয় কাজের সংকট তৈরি হচ্ছে। আবার এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী খুলনা নগরে বাস করলেও সেখানকার (নিজ অফিস) সুযোগ-সুবিধা নেন।

ডুমুরিয়ার উত্তর ডুমুরিয়া ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার তাঁর টিএ (যাতায়াত) ভাতা গ্রহণ, শিক্ষকদের সাব ক্লাস্টার ট্রেনিং করিয়ে টাকা নেন। ওই কর্মকর্তার বাড়ি উপপরিচালকের দপ্তরের কাছে নগরীর বয়রা এলাকায়। এই কর্মকর্তা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের রেস্ট হাউসের একটি কক্ষ অফিস হিসেবে ব্যবহার করছেন। 

অন্যদিকে বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষা দপ্তরের অফিস সহকারী ও উচ্চমান সহকারীদের উপপরিচালকের নিজ ক্ষমতায় তাঁর দপ্তরে সংযুক্ত করায় নিজ নিজ দপ্তরে কাজের সংকট তৈরি হয়েছে।

সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, অফিস আদেশ অনুযায়ী ডেপুটেশনে উপপরিচালক দপ্তরে কাজ করছি। তবে স্কুল ভিজিট, প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য জরুরি কাজ কর্মস্থলে থেকে করছি। দুই স্থানে কাজ করা সমস্যা হলেও অফিস আদেশের জন্য বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হয়।

অভিযোগ রয়েছে ডুমুরিয়ার পূর্ব বিল পাবলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিনা আরা, পাইকগাছার কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুজ্জামান, খুলনা সদরের উদয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম ও রহিমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. মহিমা আক্তার হিরার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তে সত্যতা মেলে। যথাসময়ে ওই দপ্তরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর মধ্যে জেসমিন আরার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ২০১৮ সালের ১১ মার্চ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সহকারী পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) মো. সানাউল্লা স্বাক্ষরিত একটি চিঠি আসে। এ ছাড়া মো. নুরুজ্জামানের বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা মেলায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর থেকে বদলিসহ বিভাগীয় মামলার সুপারিশ করা হলেও কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।

এ ছাড়া খুলনা সদরের উদয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সরকারি সম্পত্তিতে দোকানঘর ও গাড়ি গ্যারেজ নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া, আর্থিক অনিয়ম, তথ্য গোপন করে এক শিক্ষিকার মাতৃত্বকালীন ছুটি গ্রহণে সহযোগিতাসহ নানা অভিযোগের প্রমাণ মেলে। এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের বদলিসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। একইভাবে রহিমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. মহিমা আক্তার হিরার বিরুদ্ধেও শিক্ষকদের অসৌজন্যমূলক আচরণ, স্কুলের শিক্ষার্থী স্বল্পতাসহ অনিয়মের প্রমাণ মিললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রাথমিক শিক্ষার খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক মেহেরুন নেছা বলেন, ‘আমাদের ১০ জেলার কাজ করতে হয়। কিন্তু সে তুলনায় লোকবল কম বলে কয়েকজনকে ডেপুটেশনে কাজ করাতে হয়। এ ক্ষেত্রে তাঁদের কর্মস্থলের জরুরি কাজকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই এতে সংকট হওয়ার কথা নয়।’

তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথানিয়মেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। স্বজনপ্রীতি বা ছাড় দেওয়ার প্রশ্ন নেই। তবে অনেক সময় প্রক্রিয়াগত কারণে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা