kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

লম্পটের কারণে প্রাণ দিল স্কুলছাত্রী

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নবম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী সুমি রানী রায় (১৫)। তাকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত করত গ্রামের বখাটে যুবক দুই সন্তানের বাবা সূর্য রায় (৩৫)। সুমির পরিবার এ নিয়ে একাধিকবার নালিশও দেয় বখাটের অভিভাবককে। গত শনিবার বাড়িতে গোসলখানায় ছিল সুমি। সেখানে হঠাৎ ঢুকে পড়ে সুমির শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে সূর্য। সুমির চিৎকারে তার এক ভাই ছুটে এলে সূর্য পালিয়ে যায়। ভাই লম্পটের হাত থেকে তাকে রক্ষা করলেও লজ্জায় ও আতঙ্কে আত্মহত্যাই করে বসেছে মেয়েটি। তাকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নে। সুমি ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষ্মণপুর ভুজারীপাড়া গ্রামের দিনমজুর হরেন চন্দ্র রায়ের মেয়ে। সে পড়ত বাঙ্গালীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে। বখাটে সূর্য পেশায় একজন ইজি বাইকচালক বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে সুমির মা ময়না রানী সৈয়দপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

গতকাল রবিবার সকালে সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং সুমির মা-বাবাসহ গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি পরিবারটিকে আশ্বাস দেন, এ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) মো. নুরুজ্জামান বেগ বলেন, পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।

গতকাল স্কুলছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় মানুষের ভিড়। সুমির বাবা হরেন চন্দ্র রায় বাক্রুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। উঠানে সুমির মা ময়না রানী রায়, বড় বোন নীলা রানী রায় ও ববিতা বানী রায় এবং ছোট বোন ভরসা রানী রায় আহাজারি করছেন। জানা যায়, সুমির স্নানঘরে বখাটে ঢুকে পড়ার সময় মেয়েটির মা-বাবা বাড়িতে ছিলেন না। বড় বোন ববিতা রায় কাজে সৈয়দপুর শহরে ছিলেন এবং ছোট বোন ভরসা রায় বাড়ির বাইরে খেলছিল।

বাঙ্গালীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাজমুল হক বলেন, মেয়েটি খুব শান্তশিষ্ট এবং মোটামুটি মেধাবী ছিল। তবে ঘটনার দিন পারিবারিক কাজ থাকায় সে স্কুলে আসেনি। সুমির আত্মহত্যার খবরে তার সহপাঠীরাও গতকাল তাদের বাড়িতে আসে। তারা প্ররোচনাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে।

ওই হিন্দুপল্লীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, ‘সূর্য একজন দুশ্চরিত্র প্রকৃতির ছেলে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা