kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

যানজটে স্থির রাজধানী

ফার্মগেট-শাহবাগ রুটে প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণের চিন্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যানজটে স্থির রাজধানী

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে হকারদের সমাবেশকে কেন্দ্র করে গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। ছবিটি রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকার। ছবি : কালের কণ্ঠ

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে গতকাল রবিবার যানজটে স্থবির ছিল রাজধানী ঢাকা। সকালে আগারগাঁও, বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, সোনারগাঁ মোড়, বাংলামোটর, শাহবাগ, মৎস্য ভবনের সামনে স্থবির যানবাহনে বসে আপাত শীতল আবহাওয়াতেও ঘাম ঝরেছে যাত্রীদের।

রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর সেকশন থেকে ভরদুপুরে অটোতে উঠে ৬০ ফুট সড়ক হয়ে চলতে হলো থেমে থেমে। কলেজ গেটের সামনে এসেই চালককে স্টার্ট বন্ধ করে দিতে হলো। পুরো ২৫ মিনিট ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে গাড়ি চালু হলেও চলতে হচ্ছিল থেমে থেমে কচ্ছপগতিতে। এভাবে নিউ মার্কেটের কাছে যেতে অটোরিকশায় লাগল সাড়ে তিন ঘণ্টা। অটোচালক বাবুল মিয়া বললেন, ‘গ্যাস পোড়ে; কিন্তু চাকা নড়ে না।’

ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর থেকে এলিফ্যান্ট রোডের নিজ বাসায় রিকশায় যেতে শ্যামশ্রী রায়ের লেগেছে এক ঘণ্টা ২০ মিনিট। যানজটে রিকশায় বসেই আলাপ করছিলেন পাশেরজনের সঙ্গে। বিরক্তি প্রকাশ করে এই কম্পিউটার প্রকৌশলী বলেন, ‘ধানমণ্ডি ২৭ থেকে আমার বাসায় পৌঁছতে এতটা সময় আর কখনোই রাস্তায় এভাবে আটকে থাকতে হয়নি।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর বেশির ভাগ সড়কে গাড়িজটে যাত্রীদের ঘাম ঝরার বড় কারণ অব্যবস্থাপনা। ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গেল, মেট্রো রেল প্রকল্পের কাজের জন্য বিদ্যমান সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ার পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশ মোটরসাইকেলের চাপ সামলাতে না পারায় কয়েক দিন ধরে রাজধানীর সড়কে যানজটে নাকাল হতে হচ্ছে যাত্রীদের।

ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, পার্কিংয়ের নির্ধারিত স্থান না থাকায় প্রাইভেট কারের বেশি চলাচল ও সড়ক দখলের ফলে যানজট বেশি হচ্ছে। এক সোনারগাঁ মোড়েই মিনিটে ৫০০ প্রাইভেট কার চলছে। তিনি বলেন, সপ্তাহে পাঁচ দিন রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা এবং বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ফার্মগেট থেকে শাহবাগ পর্যন্ত প্রাইভেট কার চলাচল বন্ধ রাখার প্রস্তাব তৈরি করেছে ট্রাফিক বিভাগ। কেননা যানজট কমাতে প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

আগে মিরপুর ১ নম্বর থেকে ফার্মগেট হয়ে বাংলামোটর স্টপেজে নামতে পারত যাত্রীরা। গত মাসের প্রথম দিকে মিরপুর থেকে বিভিন্ন রুটের বাসগুলোর গতিপথ বদলে দেওয়া হয়েছে। মিরপুর থেকে বাসগুলো গাবতলী-আজিমপুর রুট হয়ে চলাচল করছে। মেট্রো রেল প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু হওয়ায় ফার্মগেট থেকে শাহবাগ পর্যন্ত সড়কে গাড়ি চলাচলের অংশ কমে গেছে। এ জন্য বাসগুলোর গতিপথ বদলে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মিরপুর রোড থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে আসা বাসগুলোকে ফার্মগেটের দিকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। বাসগুলো বিজয় সরণি থেকে তেজগাঁওয়ের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। শাহবাগ থেকে বাংলামোটর অংশে সড়কে বিভাজক উঠিয়ে বসানো হয়েছে কংক্রিটের বেষ্টনী। কোথাও আট লেনের সড়ক চার লেন হয়ে গেছে।

উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত হবে মেট্রো রেল। আগারগাঁও-ফার্মগেট-মতিঝিল সড়ক প্রস্থে ২২ মিটার। সড়কের মাঝামাঝি ১১ মিটার অংশে রেল প্রকল্পের কাজ চলায় একদিকের লেনে সাড়ে পাঁচ মিটারের মধ্যে গাড়িগুলোকে চলতে হচ্ছে। 

ঢাকার প্রধান রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দর-ফার্মগেট-শাহবাগ, জিরো পয়েন্ট-মতিঝিল, পল্টন-বাড্ডা-কুড়িল হয়ে বিমানবন্দর ও গুলিস্তান-মিরপুর সড়ক। এর মধ্যে বিমানবন্দর-মতিঝিল সড়কের অংশ

কমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে চারদিকে এর প্রভাব পড়ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা