kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

এবার প্রবাসীদের মেধা ও পুঁজি ঘরে আনার উদ্যোগ

আরিফুর রহমান   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এবার প্রবাসীদের মেধা ও পুঁজি ঘরে আনার উদ্যোগ

সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের এএবিজিএম নামের একটি কম্পানিতে কাজ করছেন নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশি (এনআরবি) আবদুল আলিম। জীবনের বড় একটি সময় দেশের বাইরে কাটালেও সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা নিজ দেশের জন্য কিছু করতে চান এই প্রবাসী বাংলাদেশি। আরেক প্রবাসী আহমেদ বদরুজ্জামান সৌর বিদ্যুৎ ও স্থিতিশীল গ্রিড ব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করেন। নিজ দেশের বিদ্যুতের স্থিতিশীল গ্রিড পদ্ধতি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী তিনি। সরকারও চাইছে, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এমন অসংখ্য প্রকৌশলী বাংলাদেশে এসে নিজের মেধা, মনন ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান। চাইলে বিনিয়োগও করতে পারেন তাঁরা। সেজন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।

গত এক দশক ধরে স্থবির হয়ে থাকা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা নতুন সরকারের চোখ এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর। প্রবাসীদের বিনিয়োগ টানতে ঢাকায় দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের আয়োজন করেছে যৌথভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও ব্রিজ টু বাংলাদেশ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে সম্মেলন শেষ হবে ২৭ ফেব্রুয়ারি। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

ইআরডির ভারপ্রাপ্ত সচিব মনোয়ার আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রবাসীরা নিজেরাই চায়, দেশের জন্য কিছু করতে। সরকারও তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে আগ্রহী। দুই পক্ষের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সম্মেলনটি হচ্ছে। সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রকৌশলী অনাবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় উন্নয়নে সম্পৃক্ত করা। বিশ্বের ১৩টি দেশ থেকে চার শতাধিক প্রবাসী প্রকৌশলী এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।’

ইআরডি থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, এবারের সম্মেলনে জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্যাটেলাইট, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া ন্যানো প্রযুক্তি, টেকসই পরিবেশ উন্নয়ন, নগর পরিকল্পনা উন্নয়ন, টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং কৃষি প্রযুক্তি উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা হবে।

প্রবাসী জিয়া ইসলাম ঢাকার যানজট নিরসনে উদ্ভাবনী কাজ করতে আগ্রহী। পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য একটি উদ্ভাবনী ও সৃষ্টিশীল ধারণা তৈরি করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি নাসিমা ভূঁইয়া। সৈয়দ হক ঢাকায় বাসের লেন ব্যবহার ও ট্রাফিক সিস্টেম নিয়ে কাজ করতে চান। এনামুল হক নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করতে চান। বাংলাদেশে মেগা প্রকল্প সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন করা কিভাবে সম্ভব তা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী আরেক প্রবাসী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। নগরায়ণে সবুজ অবকাঠামো কিভাবে গড়ে তোলা যায়, সেটি নিয়ে কাজ করবেন মোহাম্মদ সাদিক। এবারের সম্মেলনে তাঁদের ধারণাগুলো তুলে ধরা হবে। আবু বকর হানিফ যুক্তরাষ্ট্রের পিওপ্লেন টেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। এবারের সম্মেলনে তিনিও যোগ দিচ্ছেন। কাজ করতে চান সফটওয়্যার নিয়ে।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করে। যার মধ্যে ২৪ লাখ প্রবাসী স্থায়ীভাবে বসবাস করে। দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের অবদান মোট জিডিপির ১২ শতাংশ।

ইআরডির কর্মকর্তারা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাওয়ার পথে প্রবাসী প্রকৌশলীদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও প্রযুক্তি জ্ঞান কাজে লাগাতে চায় সরকার।

ভারত ও চীনের উদাহরণ টেনে ইআরডির এক কর্মকর্তা জানান, বুলেট ট্রেন বানানোর ক্ষেত্রে জাপান শীর্ষে। দেশটি কিভাবে বুলেট ট্রেন তৈরি করে, তা শিখতে চীনা প্রকৌশলীদের জাপানে পাঠানো হয়। এখন চীন নিজেই বুলেট রেল তৈরি করছে। সরকারও চাইছে, বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা বিশ্বের যেখানেই ভালো কিছু করুক, দেশে এসে নিজের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি কাজে লাগাতে পারেন। সেজন্য দুই দিনের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। যেটিকে বলা হয়েছে পিআইই (পিলানথ্রুপি, ইনভেস্টমেন্ট ও এক্সপার্টাইজ) অর্থাৎ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে একজন প্রবাসী বাংলাদেশি দেশে বিনিয়োগ এবং নিজের লব্ধজ্ঞান কাজে লাগাবেন।

জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নবিষয়ক সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা চাই, প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখানে বিনিয়োগ করুক। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগাতে পারে। কেউ চাইলে স্কুল, কলেজ ও হাসপাতাল করতে পারে। সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে। কেউ যদি বিনিয়োগ করতে চায়, আমরা বিনিয়োগের সুবিধা দেব। আর কেউ যদি মেধা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায়, সে ব্যবস্থাও করা হবে। এতে করে আমাদের রেমিটেন্স বাড়বে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। একই সঙ্গে দক্ষ মানবসম্পদও গড়ে উঠবে।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশে এবারই অনাবাসীদের নিয়ে প্রথম বৈঠক নয়। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে সম্মেলন হয়েছিল। এরপরে বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবাসীদের নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে সম্মেলন আয়োজন করা হলেও তাতে তেমন সুখকর কিছু বয়ে আনেনি। অবশ্য এবারের সম্মেলনকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এবারের সম্মেলন থেকে সুফল মিলবে বলে আশা করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বিদেশে কত সংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করে, তার সঠিক তথ্য এখনো সরকারের হাতে নেই। অনাবাসী বাংলাদেশিদের নিবন্ধনের কাজ চলছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। অনাবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দেশে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করার প্রস্তাব দীর্ঘদিনের। যদিও প্রস্তাবটি বেশিদূর এগোয়নি। এবারের সম্মেলনে অনাবাসীদের জন্য আলাদা একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করার দাবি আসতে পারে।

যদিও আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। তারা চাইলে সেখানে বিনিয়োগ করতে পারে। এ ছাড়া রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), হাইটেক পার্কেও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা