kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চলছে পোড়া বর্জ্য সরানোর কাজ

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চলছে পোড়া বর্জ্য সরানোর কাজ

উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর চকবাজারের চুড়িহাট্টাতে চলছে ধ্বংসস্তূপ থেকে পোড়া বর্জ্য সরানোর কাজ। পাশাপাশি চলছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।

গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মীদের এ কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। তবে ধ্বংসস্তূপ সরাতে গিয়ে মৃত মানুষের দেহাবশেষও পাওয়া যাচ্ছে। দুপুর ১২টার দিকে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একজন পরিদর্শক শরীফ বলেন, কিছুক্ষণ আগে পাশের একটি খাবারের দোকানের রান্নাঘর থেকে একটি পোড়া হাত পাওয়া গেছে।

ওই দোকানের বিপরীত দিকে ওয়াহেদ ম্যানশনের অবস্থান। আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে শরীফ বলেন, ‘আমরা জেনেছি প্রথমে একটি সিএনজিতে (সিএনজিচালিত অটোরিকশা) বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণে ওই সিএনজি ১০-১৫ ফুট ওপরে উঠে যায়। সম্ভবত সিএনজিটা ওয়াহেদ ম্যানশনে দোতলায় ঢুকে পড়ে এবং সিএনজির আগুন পারফিউমের গুদামে ছড়িয়ে পড়ে।’ কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন এ যুক্তি মেনে নিতে পারলেন না। তাঁদের প্রশ্ন, দোতলার দেয়াল ভেঙে সিএনজি সেখানে কিভাবে ঢুকবে?

ভবনটির দ্বিতীয় তলায় উঠে দেখা যায় পারফিউমের প্যাকেট ও বোতলের স্তূপ। পোড়া গন্ধের সঙ্গে পারফিউমের গন্ধ মিশে আছে। কয়েকজন সংবাদকর্মী অক্ষত একটি প্যাকেট পরীক্ষা করছিলেন। দেখা গেল, সেটি বিদেশি একটি নামিদামি ব্র্যান্ডের। একজন বলেন, এগুলো আসল না নকল? কিন্তু উত্তর দেওয়ার মতো কেউ সেখানে নেই। আরেকজন বলেন, এখানে অবস্থান করাও মনে হয় ঠিক হচ্ছে না। ভবনটিকে ইতিমধ্যে ব্যবহার অযোগ্য ঘোষণা করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

ওয়াহেদ ম্যানশনের পাশের ভবন জামাল সর্দার কমিউনিটি সেন্টারে সহকর্মীদের নিয়ে বসে ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ছলেহউদ্দীন। আগুন নেভানোর পর এখন আপনারা কী করছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, ‘স্থানীয় লোকজনের ভীতি দূর করার জন্য আমরা এখানে অবস্থান করছি।’

কিভাবে আগুন লেগেছিল—এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এটা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না।’ তিনি জানান, পাঁচটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো ব্যবহার অযোগ্য এবং ভেঙে ফেলতে হবে।

কমিনিউটি সেন্টারটির বিপরীতে ১৭৮/১৭৯ ওয়াটার ওয়ার্কস রোডের হাজী আব্দুর রশিদ মিয়া ভবনের হারুনর রশীদ বলেন, ওয়াহেদ ম্যানশনে পারফিউম ছাড়াও লাইটার রিফিল করার ক্যানের মজুদ ছিল। এগুলোর বিস্ফোরণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

আব্দুর রশিদ মিয়া ভবনের বাসিন্দরা জানায়, আশপাশে বেশ কয়েকটি নেইলপলিশ কারখানা রয়েছে। এসব কারখানা আরো বিপজ্জনক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা