kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

ভারতের নাগরিকত্ব বিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী

ভোটের রাজনীতি কি না?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভোটের রাজনীতি কি না?

অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে ভারতে যে বিল পাস হয়েছে, তা ভোটের রাজনীতির অংশ কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের গালফ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘যেসব কারণে এ বিল আনা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা আছে বলে আমি মনে করি না।’

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দিতে গত ৮ জানুয়ারি লোকসভায় (পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ) একটি বিল পাস হয়। বিলটি এখনো রাজ্যসভায় পাস হয়নি। সেখানে পাস হলে যেসব হিন্দু ২০১৪ সাল পর্যন্ত ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তারা দেশটির নাগরিকত্ব পাবে। ভারতের বিরোধী দলগুলো শুরু থেকে এ বিলের কঠোর সমালোচনা করে আসছে।

এ বিষয়ে গালফ নিউজকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেন এ ধরনের বিল লোকসভায় তোলা হলো, তা আমি বুঝতে পারছি না। এটা কি নির্বাচন মাথায় রেখে করা হয়েছে?’ প্রধানমন্ত্রীর মতে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন এ বিলের কোনো কারণ হতে পারে না। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের তেমন নজির নেই। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে; কিন্তু আমরা সেগুলোর ব্যাপারে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি।’

ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা শুধু বাংলাদেশের ব্যাপার নয়।’ প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, ভারতের ওই নাগরিকত্ব বিল নিয়ে সে দেশের মানুষও সন্তুষ্ট নয়। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি মনে করি, ভারত এমন কিছু করবে না, যেটা উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দেবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসামসহ বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বোমা হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে; কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ভারতের যেসব বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন পরিচালিত হতো, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় বোমা হামলার মতো ঘটনা বন্ধ হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে এসব বিষয় তাদের (ভারতের) বিবেচনা করা উচিত।

ব্লগার ও বুদ্ধিজীবীদের ওপর উগ্রপন্থীদের হামলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি আমাদের দেশে নতুন একটি ইস্যু হিসেবে আবির্ভূত হয়; কিন্তু সরকার এবং জনগণ এ ধরনের হামলাকে জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এ ছাড়া হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।’ ২০১৬ সালের পর এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটেনি বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস কিংবা প্রতিবেশীদের জন্য সমস্যা তৈরি করে—এমন কর্মকাণ্ডের জন্য আমি কাউকে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে দেব না। সন্ত্রাসের প্রতি আমরা জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। শান্তি বজায় থাকলে আপনি খুব দ্রুত উন্নতি করতে পারবেন।’

বাংলাদেশিরা নম্র ও কর্মঠ

এদিকে একই দিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের খালিজ টাইমসকে একটি সাক্ষাৎকার দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতিসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন। টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খুবই ভালো একটা সফর; শেখা ফাতিমাসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি এবং ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁরা অনেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। কারণ আমরা এ ক্ষেত্রে অনেক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি। আমরা ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশের শ্রমিকদের কর্মদক্ষতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জনগণ খুবই নম্র এবং পরিশ্রমী। বাইরের দেশে যাতে দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে পারি সে জন্য আমরা এরই মধ্যে প্রশিক্ষণকেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছি।’

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২১ বছর পর সরকার গঠন করেই আমি দেশের উন্নয়নকে নিজের লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে স্থির করি। জনসেবার সুযোগ পেয়ে আমি প্রথমেই খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, পানি—এ রকম মৌলিক বিষয়গুলো নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিই। এখন বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। আমি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে একটা স্থিতিশীল জায়গায় নিয়ে যেতে চাই।’ সূত্র : গালফ নিউজ, খালিজ টাইমস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা