kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

একসঙ্গে বাড়ছে সব পণ্যের দাম!

শওকত আলী   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



একসঙ্গে বাড়ছে সব পণ্যের দাম!

রাজধানীর রামপুরা কাঁচাবাজারে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে কেনাকাটা করছিলেন এক ক্রেতা। তাঁর নাম শরিফুল ইসলাম। চাকরি করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। তিনি ছোট আকারের ‘কক’ মুরগির দাম জিজ্ঞেস করলে দোকানি প্রতিটির দাম চাইলেন ২২০ টাকা। দাম শুনেই কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে পাশের দোকানে চলে যান শরিফুল। ওই দোকানিও একই ধরনের মুরগির একই দাম চাইলেন। তবে দোকানি জানালেন, বেশি নিলে ১০ টাকা করে কম রাখতে পারবেন।

শরিফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সব মুরগির দামই বেশি। যে কক মুরগি ২২০ টাকা দাম চাইছে সেটা সর্বোচ্চ ১৯০ টাকা দিয়ে কিনেছি। ব্রয়লার মুরগির কেজি এক লাফে ১৫-২০ টাকা বেড়ে ১৫৫ টাকা হয়ে গেছে।’ বছর শুরু হয়েছিল চালের দাম বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে। জানুয়ারি মাস পেরোতে না পেরোতেই বাড়তে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের দাম। মুরগি, ডিম, ডাল, তেল, মাছ, গরুর মাংসের দাম বেড়েছে খুবই অল্প সময়ের ব্যবধানে।    

রাজধানীর রামপুরা, সেগুনবাগিচা, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বাড্ডাসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি ‘কক’ মুরগির দাম বেড়েছে ৩০-৪০ টাকা। এর আগে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০-১৫ টাকা। মুরগির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির ডিমের দামও। বর্তমানে প্রতি হালি ডিমের দাম অন্তত ৩৬ টাকা, যা আগে ৩০-৩২ টাকা ছিল।

বাড্ডার মুদি দোকান আনিস ট্রেডার্সের মালিক আনিসুল ইসলাম জানান, কয়েক মাস ধরে ডিমের দাম বেশ উঠানামা করছে। কখনো ৩০-৩২-এ নামছে, আবার ৩৬-৩৮ টাকায় উঠছে। তিনি ডিমের দাম বাড়ার কারণ জানেন না।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা টিসিবি জানিয়েছে, এক মাসের ব্যবধানে ডিমের দাম বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ, আর ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ পর্যন্ত। 

তেজগাঁও ডিমের আড়ত মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হানিফ মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ডিমের চাহিদা এখন বেশি। সেই তুলনায় সরবরাহ বাড়েনি, বরং কমেছে।

ডিম ও মুরগির দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুব হাসান কালের কণ্ঠকে জানান, কয়েকটি রোগে গত চার মাসে প্রচুর লেয়ার মুরগি মরে গেছে। এতে করে কমেছে ডিমের উৎপাদন। এ ছাড়া মাঝখানে যখন ডিমের দাম কম ছিল তখন অনেকেই লেয়ার মুরগি পালন কমিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগি মরার কারণে অনেক খামারি ভয়ে মুরগি পালন বন্ধ করে দিয়েছে। এ সময়ে বেড়েছে গরুর মাংসের দাম। প্রতি কেজি গরুর মাংস বাজারভেদে ৪৮০-৫০০ টাকায় বিক্রি হতো। তবে মাংসের দাম বেড়ে হয়েছে ৫০০-৫২০ টাকা। বিভিন্ন সুপারশপে গরুর মাংস সপ্তাহখানেক আগেও ৪০০ টাকার নিচে বিক্রি হয়েছে। এখন এর দাম কেজিপ্রতি ৫১০-৫২০ টাকার মধ্যে। গুলশান গুদারাঘাটের গরুর মাংস বিক্রেতা কবির হোসেন বলেন, গরুর মাংস বিক্রি করে পোষানো যাচ্ছে না। খরচ বেশি, বিক্রি কমে গেছে। এদিকে খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে প্রতি লিটারে কমপক্ষে পাঁচ টাকা। বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৮৮-৯০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা বলছে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার কারণে পাইকারি বাজারে ১০-১২ দিনে প্রতি মণ ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ২৮০ টাকা পর্যন্ত। এর প্রভাব পড়ছে খোলাবাজারে। পাইকারি বাজারে প্রতি মণ খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৯৫০ টাকায়, যা আগে ছিল দুই হাজার ৭৫০ টাকা।

বছরের শুরুতে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম বেড়েছিল কেজিতে চার টাকা পর্যন্ত। তবে সেই দাম কিছুটা কমেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছে, চালের দাম চার টাকা পর্যন্ত বাড়লেও সেটা কমেছে এক-দুই টাকা করে। কোনো ধরনের ঘাটতি বা সরবরাহ সংকট না থাকলেও বর্ধিত দামেই স্থির হয়ে আছে চালের দাম। বাংলাদেশ অটো, মেজর ও হাস্কিং রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী দাবি করেন, ধানের দাম বাড়ার কারণে চালের দাম আর কমানোর কোনো সুযোগ নেই।

ফাল্গুনে এসে একটু একটু করে বাড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন সবজির দাম। শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি বাদে বেশির ভাগ সবজির দামই কেজিপ্রতি বেড়েছে কমপক্ষে পাঁচ টাকা। টিসিবি বলছে, প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম অন্তত সাড়ে ৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি মসুর ডালের দাম ১০০ টাকা। আমদানি করা মসুর ডালের দামও ৬৫-৭০ টাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা