kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রোহিঙ্গা নিয়ে নতুন কৌশল সরকারের

রোহিঙ্গাদের ফেরার অধিকার বৈশ্বিক এজেন্ডায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ : যুক্তরাজ্য

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ঘিরে সৃষ্ট সংকট সমাধানে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে সরকার। সেই কৌশলের বাস্তবায়ন দেখা যাবে শিগগিরই। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পেনি মরডন্টের সঙ্গে বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহিরয়ার আলম এ কথা বলেছেন।

জানা গেছে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিগত দশকগুলোতে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবেই কাজ করেছে বাংলাদেশ। তাতে কার্যকর ফল না আসায় মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গেছে। পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের সুযোগও খোলা রেখেছে সরকার। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে মিয়ানমারের সঙ্গে প্রত্যাবাসন চুক্তি সইয়ের পরও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় একজন রোহিঙ্গাও ফিরে যায়নি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর আমাদের দ্বিপক্ষীয় তৎপরতা (রোহিঙ্গা ইস্যুতে) শুরু হয়নি। জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানে (যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা) কী প্রয়োজন তার জন্য আমরা গত সপ্তাহের শেষে জেনেভায় বৈঠক করেছি। অন্যান্য দেশের সঙ্গেও আলোচনা করছি। পর্যালোচনা করে এরই মধ্যে নতুন কিছু কৌশল তৈরি করেছি। শিগগিরই সেসবের বাস্তবায়ন দেখা যাবে।’

শাহিরয়ার আলম বলেন, ‘ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী পেনি মরডন্ট মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে গত সোমবার কক্সবাজার সফর করেছেন। আমরা রোহিঙ্গা সংকটে, বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে তাঁর কাছে সহযোগিতা চেয়েছি।’

এরপর পেনি মরডন্ট সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এজেন্ডা হিসেবে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাও গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশ যে মহানুভবতা দেখিয়েছে, যুক্তরাজ্য তার প্রশংসা করছে।

বৈঠকে অর্থনীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য, বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য অংশীদারি নিয়েও আলোচনা হয়। পেনি মরডন্ট এই অংশীদারির জন্য বাংলাদেশকে ‘বিশাল ধন্যবাদ’ জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা করতে যুক্তরাজ্য প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না জানতে চাইলে পেনি মরডন্ট বলেন, যুক্তরাজ্য মিয়ানমারে নির্দিষ্ট কিছু প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য অর্থ ব্যয় করছে। রোহিঙ্গাদের ফেরার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে যুক্তরাজ্য। রাখাইনে প্রবেশাধিকার পাওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য মিয়ানমারকে চাপ দিচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন উদ্যোগকে সমর্থন করেন কি না জানতে চাইলে পেনি মরডন্ট বলেন, ‘রোহিঙ্গারা যা চায় তা-ই আমি সমর্থন করি। রোহিঙ্গারা তাদের বাড়িঘরে ফেরার সুযোগ চায়। তবে এই ফেরা যাতে স্বেচ্ছায় ও নিরাপত্তার মাধ্যমে হয় তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’

গণতন্ত্র, মানবাধিকারের ওপর বাংলাদেশের সাফল্য নির্ভর করছে : এদিকে গতকাল বিকেলে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশন ক্লাবে পেনি মরডন্ট বলেন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ওপর বাংলাদেশের সাফল্য নির্ভর করছে। 

বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সুশাসনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় ব্রিটিশ সরকার বাংলাদেশকে কিভাবে সহযোগিতা করতে পারে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পেনি মরডন্ট বলেন, ‘মৌলিক মানবাধিকার ছাড়া ব্যক্তি বা রাষ্ট্র তার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারে না। বিশ্বজুড়ে সত্যিকারের অগ্রগতি ও সফল রাষ্ট্রগুলো শক্তিশালী গণতন্ত্রের কারণেই সাফল্য পেয়েছে। তবে এগুলো মাঝেমধ্যেই পরীক্ষার মুখোমুখি হয়। যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ব্রেক্সিট ঘিরে পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা