kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা

মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও বিশ্বশান্তি কামনা

এ বছর বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের কারণে বিদেশি অতিথির উপস্থিতি ছিল কম। অতীতে শতাধিক দেশের ১৫-১৬ হাজার বিদেশি অতিথি এলেও এ বছর দুই পর্বে মাত্র ৩৫ দেশ থেকে এক হাজারের কিছু বেশি অতিথি এসেছেন

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টঙ্গীর তুরাগতীরে মাওলানা সাদ কান্ধলভিপন্থীদের আয়োজনে দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুই পর্বে মোট পাঁচ দিনের বিশ্ব ইজতেমা। মোনাজাতে ব্যক্তিজীবনের গুনাহ মাফ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও কল্যাণ ছাড়াও দেশ, জাতি ও বিশ্বের শান্তি কামনা করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ২ মিনিট পর্যন্ত আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন তাবলিগ জামাতের অন্যতম শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা মোহাম্মদ শামীম। এর আগে ফজরের নামাজের পর থেকে আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত ইজতেমায় অংশ নেওয়া মুসল্লিদের করণীয় ও দিকনির্দেশনামূলক হেদায়েতি বয়ান দেন তিনি।

আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ভোর থেকে টঙ্গী ও এর আশপাশের এলাকা থেকে মানুষের ঢল নামে ইজতেমা ময়দানের দিকে। সকাল ৮টার পর ঢাকা-ময়মনসিংহ, টঙ্গী-কালীগঞ্জ ও টঙ্গী-আশুলিয়া সড়ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বহু মুসল্লি সড়কের ওপর, আশপাশের বাড়িঘর, দোকানপাট ও কলকারখানায় বসে মোনাজাতে অংশ নেয়। মহিলা মুসল্লিরাও আশপাশের বাড়িঘরে থেকে অংশ নেয় মোনাজাতে।

সোমবার রাত ১২টার পর থেকে গতকাল মোনাজাত পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। মোনাজাতের পর ইজতেমা ময়দান থেকে বাড়ি ফিরতি মানুষ চারদিকে ছুটতে থাকে। মহাসড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। পর্যাপ্ত যানবাহনের অভাবে গাজীপুরের বোর্ড বাজার ও উত্তরা পর্যন্ত বহু মুসল্লিকে মালপত্র নিয়ে হেঁটে যেতে হয়।

এ বছর আগের নিয়মে বিশ্ব ইজতেমা পরিচালিত হয়নি। এবার তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষ দুই পর্বের নেতৃত্বে ছিল। উভয় পক্ষের ইজতেমায় ৬৪ জেলার নিজ নিজ অনুসারীসহ বিদেশি মেহমানরা অংশ নেন। মাওলানা জুবায়েরপন্থীদের আয়োজনে গত ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ইজতেমার প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। আর মাওলানা সাদপন্থীদের আয়োজনে গত রবিবার শুরু হয়েছিল ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।

দীর্ঘদিনের অরাজনৈতিক ও শান্তিপ্রিয় ধর্মীয় সংগঠন তাবলিগ জামাতে সম্প্রতি বিভেদ সৃষ্টি  হয় ও সহিংস ঘটনা ঘটে। এ কারণে এ বছর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ছিল অত্যন্ত তৎপর। সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোর। সরকারের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের সম্মতিতে এবার ইজতেমা মাঠের সব প্রস্তুতি কাজ সম্পন্ন করেছে জুবায়েরপন্থীরা আর ইজতেমার পর মাঠের প্যান্ডেল ও আন্তর্জাতিক নিবাসসহ সব কিছু খুলে নির্মাণসামগ্রী সংরক্ষণ করার কাজ করবে সাদপন্থীরা।

এ বছর বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের কারণে বিদেশি অতিথির উপস্থিতি ছিল কম। অতীতে শতাধিক দেশের ১৫-১৬ হাজার বিদেশি অতিথি এলেও এ বছর দুই পর্বে মাত্র ৩৫ দেশ থেকে এক হাজারের কিছু বেশি অতিথি এসেছেন। ইজতেমায় সাধারণ মুসল্লির সংখ্যা তুলনামূলক কিছুটা কম হলেও আখেরি মোনাজাতে মুসল্লির ঢল নেমেছিল। এবার মোনাজাতের পর প্রথম পর্বে দেশ-বিদেশে যাচ্ছে নতুন প্রায় এক হাজার ৬০০ জামাত এবং দ্বিতীয় পর্বে যাচ্ছে প্রায় এক হাজার নতুন জামাত। মাওলানা সাদপন্থীদের জন্য আগামী বিশ্ব ইজতেমার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয় ৩, ৪ ও ৫ জানুয়ারি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা