kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

চার ধারায় জামায়াত

তবে বিলুপ্ত করার পাল্লা ভারী

এম বদি-উজ-জামান   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতে বর্তমানে চারটি ধারা কাজ করছে। একটি অংশ জামায়াত রেখেই নতুন নামে দল করার পক্ষে। দ্বিতীয় অংশটি চায় জামায়াত বিলুপ্ত করে নতুন দল গড়তে। তৃতীয় ধারার মত হলো জামায়াত বহাল থাকাবস্থায় নতুন দল করা এবং এরপর জামায়াত বিলুপ্ত করা। আর চতুর্থ অংশটি একাত্তরের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে রাজনীতি ছেড়ে জামায়াত নামে ইসলামের ‘দাওয়াতি’ কাজ ও সামাজিক কাজ করার পক্ষে। তবে সার্বিকভাবে একাত্তরের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে ভিন্ন নামে দল করার পক্ষে বেশির ভাগ নেতা। দলের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জামায়াতের গঠনতন্ত্রে কেন্দ্রীয় আমির ও মজলিসে শুরার ব্যাপক ক্ষমতা থাকায় নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ নেই বললেই চলে। এর পরও শীর্ষস্থানীয় নেতারা ভীত-সন্ত্রস্ত। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের পদত্যাগ এবং মজলিসে শুরা সদস্য মুজিবুর রহমান মঞ্জুকে বহিষ্কার করা নিয়ে জামায়াতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। ওই দ্বন্দ্বের তথ্য যাতে প্রকাশ্যে না আসে এবং কেউ দল ছেড়ে না যায় সে লক্ষ্যে দলের মজলিসে শুরা থেকে সারা দেশে নেতাকর্মীদের প্রতি একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ওই নির্দেশনায়ই একটি নতুন সংগঠন গড়ে তোলার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ আছে। এতে বলা হয়েছে, ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি কাজ শুরু করেছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াতে ইসলামী বিলুপ্ত করে নতুন দল গড়ার পথে হাঁটছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এরই অংশ হিসেবে আপাতত জামায়াত নামে রাজনীতি না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অন্যদিকে দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা মুজিবুর রহমান মঞ্জু বিভিন্ন দলের তরুণ নেতাদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্ম দাঁড় করানোর চেষ্টায় আছেন বলে জানা গেছে। একটি সূত্রে জানা যায়, সিনিয়র নেতাদের দিয়ে দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট পরিবর্তন সম্ভব নয়—এমন ধারণা থেকেই নতুনের দিকে তিনি ছুটছেন।

এ বিষয়ে মুজিবুর রহমান মঞ্জু কালের কণ্ঠকে বলেন, গোটা বিশ্বের ইসলামী আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি বিবেচনা করেই জামায়াতে সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়। তিনি বলেন, ‘বর্তমান নেতৃত্ব দিয়ে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন অনিশ্চিত। সে কারণেই তরুণদের নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধুই জামায়াতে ইসলামীর তরুণ নেতৃত্ব নয়, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরুণ নেতৃত্ব নিয়ে এ কাজ করায় উদ্যোগী হই। এ অবস্থায় আমাকে দলটির সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন আমি মুক্ত। তাই আমার চেতনা নিয়ে কাজ করার অবারিত সুযোগ এসেছে। সে লক্ষ্যেই আমি কাজ অব্যাহত রেখেছি।’ নতুন দল গঠন করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব দলের তরুণদের নিয়ে একটি প্লাটফর্ম করা যায় কি না তা নিয়েই কাজ করছি।’

জামায়াতের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে দলের প্রচার বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা