kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জবি ও এমসি কলেজ

আধিপত্য নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আধিপত্য নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের পর এক পক্ষ এভাবেই ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়।

আধিপত্য নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়াধাওয়ির ঘটনা ঘটেছে। এতে সাংবাদিক, সাধারণ শিক্ষার্থীসহ আহত হয়েছে ১৭ জন। আধিপত্য নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে সিলেটের এমসি কলেজেও। সেখানে আহত হয়েছে চার ফটো সাংবাদিক। পণ্ড হয়ে গেছে কলেজের বসন্ত উৎসবও।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, আধিপত্য নিয়ে গতকাল সোমবার সকাল ১১টা থেকে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়াধাওয়ি শুরু হয়। একপক্ষে ছিল নতুন কমিটির দাবি জানিয়ে আসা নেতাকর্মীরা। অন্যপক্ষে ছিল স্থগিত কমিটির নেতাকর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, যারা নতুন কমিটি চায়, তারা গতকাল সকাল ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের ধাওয়া দেয় স্থগিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কর্মীরা। এতে নতুন কমিটির দাবি জানানো অংশের আট কর্মী আহত হয়। স্থগিত কমিটির আহত হয় দুজন। উল্লেখ্য, শাখা ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল নিজেদের কর্মীদের নিয়ে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন।

নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা ক্যাম্পাসের ফটক থেকে সরে গেলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে মোবাইলে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের নিচে থাকা শিক্ষার্থীদের তারা ধাওয়া দেয়। তাতে কমপক্ষে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়।

এরপর বিকেল ৩টার দিকে ক্যাম্পাস ফটকে অবস্থান নেয় স্থগিত কমিটির নেতাকর্মীরা। সেখানে তারা বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ ছাড়া তারা দৈনিক সংবাদ ও দৈনিক সমকালের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে মারধর করে।

এ বিষয়ে জবি ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল বলেন, ‘ক্যাম্পাসে কী হচ্ছে—তা আমরা জানি না।’

সহকারী প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ক্যাম্পাসে আমরা কোনো মারামারি হতে দেব না। সকাল থেকেই আমরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখনো (বিকেল ৫টা) অনেকে লাঠি নিয়ে বসে আছে। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ খারাপ করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করা হয়। এরপর ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নামে অবস্থান নেয় আরেকটি পক্ষ।

সিলেট অফিস জানায়, সেখানে সংঘর্ষের একপক্ষে ছিল জেলা ছাত্রলীগের স্কুলবিষয়ক সাবেক সম্পাদক হুসাইন আহম্মদের অনুসারীরা। অন্যপক্ষে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য নাজমুল ইসলামের কর্মী হিসেবে পরিচিত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে কলেজের সাংস্কৃতিক সংগঠন মোহনার আয়োজনে বসন্ত উৎসব শুরু হয়। তাতে সামনের সারিতে বসা নিয়ে ছাত্রলীগের দুটি পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। পরে দুই পক্ষ অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে গিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ওই সময় ছবি তুলতে গিয়ে চার ফটো সাংবাদিক ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা