kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সুইডিশ সরকারের নীতি

রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নকারীদের বিচার অগ্রাধিকার

পশ্চিমা বেশ কিছু দেশ রোহিঙ্গা সংকটকে গুরুত্ব দিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব আনার চেষ্টা করলেও চীন ও রাশিয়ার আপত্তিতে তা আর এগোয়নি

মেহেদী হাসান   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নকারীদের বিচারকে অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে সুইডেন সরকার। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সম্প্রতি সুইডেনের পার্লামেন্টে ওই প্রধানমন্ত্রী স্টিফান লোফভ্যান তাঁর সরকারের নীতি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গট ওয়ালস্ট্রম পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নকারীদের বিচারের আওতায় আনতে প্রচেষ্টা চালানোর কথা বলেছেন।

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী গত ২১ জানুয়ারি তাঁর সরকারের নীতি তুলে ধরতে গিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে সুইডেনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে গণতন্ত্র ও শান্তির প্রতি সুইডেনের আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী স্টিফান লোফভ্যান গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে সিরিয়া ও ইয়েমেন এবং ক্রিমিয়া সংকটের পরই রোহিঙ্গা সংকটের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হচ্ছে। এই সহিংসতা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে এবং সহিংসতার জন্য দায়ীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর গত বুধবার সুইডিশ পার্লামেন্টে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোচনা পর্বে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গট ওয়ালস্ট্রম বলেন, ‘মিয়ানমারের নিপীড়নের বিষয়ে রোহিঙ্গা নারীদের ভয়াবহ সাক্ষ্য আমি কখনো ভুলব না। জবাবদিহির (নিপীড়নকারীদের) জন্য সুইডেন উদ্যোগ নিচ্ছে।’

উল্লেখ্য, সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গট ওয়ালস্ট্রম ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে আসেম পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে মিয়ানমার সফরের আগে বাংলাদেশে এসেছিলেন। সে সময় তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গাশিবিরে গিয়ে রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর এক টুইট বার্তায় লিখেছিলেন, ‘রোহিঙ্গা নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর সংঘটিত যৌন সহিংসতার বর্ণনা বীভৎস।’

এদিকে সুইডিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থার (সিডা) মহাপরিচালক ক্যারিন জ্যামটিন, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও মানবিক সহায়তা বিভাগের উপপরিচালক আনিকা ওটারস্টেড কক্সবাজারে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে এবং প্রকল্প ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করতে বর্তমানে বাংলাদেশ সফর করছেন।

জানা গেছে, পশ্চিমা বেশ কিছু দেশ রোহিঙ্গাসংকটকে গুরুত্ব দিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব আনার চেষ্টা করলেও চীন ও রাশিয়ার আপত্তিতে তা আর এগোয়নি। গত ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দার ইগনাতোভ মিয়ানমারকে দায়ী করে যেকোনো প্রস্তাবে রাশিয়ার বিরোধিতা করার অবস্থানের কথা জানান।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, যে কয়েকটি দেশ রোহিঙ্গাসংকট এবং অপরাধীদের বিচারে আনার পক্ষে সোচ্চার, তাদের অন্যতম হলো সুইডেন। গত বছরের ২৮ আগস্ট জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিংয়ে সুইডিশ রাষ্ট্রদূত কার্ল স্কু মিয়ানমারের রাখাইন পরিস্থিতিকে ১৯৯৮ সালে ইরাকের হালাবজা, ১৯৯৫ সালের স্রেব্রেনিচা এবং ২০০৩ সালের দারফুরে হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে তুলনা করেন। রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচারে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণে আন্তর্জাতিক কাঠামো সৃষ্টির পক্ষেও সোচ্চার ছিল সুইডেন। গত মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ওই কাঠামো পরিচালনার জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) কৌঁসুলিও মিয়ানমার থেকে গণবাস্তুচ্যুত হয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসার প্রেক্ষাপট জানতে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। আগামী মাসের প্রথমার্ধেই আইসিসি কৌঁসুলির দপ্তরের একটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা