kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চট্টগ্রামে জীবন্ত দগ্ধ ৯ বস্তিবাসী

পরিকল্পিত আগুনের বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরিকল্পিত আগুনের বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে

চট্টগ্রামের চাক্তাইয়ে ভেড়া মার্কেট বস্তিতে পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গত শনিবার দিবাগত রাতে অগ্নিকাণ্ডের সময় তিন-চারজনের একটি দল মুখোশ পরে বস্তিতে ঢুকেছিল। বস্তিবাসী প্রকাশ্যে এমন অভিযোগের পর বিষয়টি ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে।

গতকাল সোমবার ঘটনাস্থলে গিয়ে নাশকতার অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এই এলাকার সংসদ সদস্য ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি বলেছেন, আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া মানুষগুলো নাশকতার শিকার কি না তারও সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।

আগুনে পুড়ে শিশুসহ ৯ বস্তিবাসীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি। কমিটির সদস্যরা গতকাল ভেড়া মার্কেট বস্তিতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাশহুদুল কবীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গতকাল সকাল থেকে বস্তিতে গিয়ে অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি, আরো কথা বলব। নাশকতাসহ সম্ভাব্য অনেক কারণ আমলে নিয়ে তদন্ত করছি। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নেব। এরপর সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেব। তদন্ত এখনো প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। কারণ বলার মতো সময় আসেনি।’

এদিকে গতকালও ভেড়া মার্কেট বস্তিতে গিয়ে আহাজারি শোনা গেছে। আগুনে সহায়-সম্বল হারানো বস্তির বাসিন্দারা রাতটা আত্মীয়স্বজনের বাসায় কাটিয়ে গতকাল সকালেই ফিরে আসে আগুনে ছাই হয়ে যাওয়া বস্তি এলাকায়। সব হারিয়ে তারা এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য দুষছে বস্তির দখলদারদের।

দুপুরে বস্তির নাসির কলোনির বাসিন্দা সুফিয়া বেগম বলেন, বিভিন্ন সময় পোশাকধারী বা পোশাক ছাড়া পুলিশ আসে কলোনিতে। পার্টির ছেলেপেলেরাও আসে। শনিবার রাত ১২টার পর নাসির কলোনির পেছন দিক দিয়ে কয়েকজন বস্তিতে ঢোকে। সবার মুখ বাঁধা ছিল, তাই চেনা যায়নি।

এমন কথা বস্তির অনেকের মুখেই। সাত্তার কলোনির বাসিন্দা নূর আয়শা বেগম বলেন, ‘রাত ১টার দিকে আমি টয়লেটে যাওয়ার জন্য উঠেছিলাম। দেখি গলির মুখে তিনজন মানুষ। সারা শরীরে কালো জামা। মুখটাও কালো রুমালে বাঁধা। কিন্তু অতটা পাত্তা দেই নাই। আর পাত্তা না দিয়েই স্বজনসহ সব হারাতে হলো।’

ভস্মীভূত বস্তিতে উপমন্ত্রী নওফেল : গতকাল সকালে পুড়ে যাওয়া ভেড়া মার্কেট বস্তি পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সমবেদনা জানান উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেল। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপমন্ত্রী নওফেল বলেন, ‘ইতিমধ্যে নাশকতার অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুড়ে মারা যাওয়া মানুষগুলো নাশকতার শিকার হয়েছে কি না সেটি আমরা জানতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা শুনেছি যে এখানে বেশ কিছু ব্যক্তি ভয়ভীতি দেখিয়ে নাকি কিছু মানুষকে আটকে রেখেছিল। কেউ যদি এখানকার অসহায় মানুষের কোনো পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যবহার থাকে তাহলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’

উপমন্ত্রী নওফেল বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নদীতীর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে। আবার উচ্ছেদের সঙ্গে পুনর্বাসনের বিষয়ও জড়িত। আবার মালিকানা থাকলে কেন উচ্ছেদ করা হবে সে বিষয়ও ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা