kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

সংসদে প্রশ্নোত্তরে শিক্ষামন্ত্রী

এমপিওভুক্তির তালিকায় ২০০০ প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অর্থপ্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্রুতই দুই হাজার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেছেন, সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় এরই মধ্যে সারা দেশে সাড়ে ৯ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্য প্রতিষ্ঠানের ধরন ও গুরুত্বানুসারে দুই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ধাপে ধাপে এই প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত করা হবে।

গতকাল রবিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য পীর ফজলুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে এমপিওপ্রত্যাশী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে অনলাইনে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে করা তালিকা অনুযায়ী এমপিওভুক্তির জন্য অর্থের প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে আন্তরিক। অর্থ সংস্থানের চেষ্টা চলছে। দ্রুতই কার্যক্রম শুরু হবে। একত্রে সম্ভব না হলেও ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

সরকারি দলের সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি জানান, যাচাই-বাছাইয়ে বিএনপি-জামায়াত আমলে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বেশি নম্বর পাওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক প্রশ্ন। গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি দলের আরেক সদস্য মোতাহের হোসেন নিজের এলাকা বঞ্চিত—এমন দাবি করে তাঁর এলাকার ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এমপিওভুক্তির সঙ্গে ন্যায্যতার প্রশ্নটি জড়িত। কারণ বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে অনেক এলাকা বঞ্চিত হয়েছে। সে কারণ এমপিওভুক্তির আগে সংসদীয় আসন অনুযায়ী তালিকা করা হবে। সে ক্ষেত্রে ন্যায্যতার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

প্রশ্ন ফাঁস : আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, মন্ত্রণালয় থেকে সময়োপযোগী ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে ২০১৮ সালের জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হয়নি, এমনকি প্রশ্ন ফাঁসের গুজবও রটেনি। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। তিনি জানান, পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়ে সরকারের কাছে বেশ কিছু প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। বাস্তবতার নিরিখে পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

কোচিং ব্যবস্থা বন্ধে নীতিমালা : অন্য এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নীতিমালা-২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছে। ওই নীতিমালায় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কোচিং বাণিজ্য বন্ধের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি হাইকোর্ট বিভাগ ওই নীতিমালাকে আপহোল্ড করায় কোচিং বাণিজ্য বন্ধে আরো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

মন্তব্য