kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

দিনে মসজিদের ইমাম রাতে জিনের বাদশা

কামরুল ইসলাম ওরফে কালা রতন ওরফে জিনের বাদশা।

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দিনে মসজিদের ইমাম রাতে জিনের বাদশা

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জিনের বাদশা সেজে প্রতারণা করে গত দুই বছরে এলাকার এক যুবকের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কামরুল ইসলাম ওরফে কালা রতন (৪৭) নামে এক প্রতারক। দিনের বেলা রতন মসজিদের ইমামতি করত। জিনের বাদশাহ সাজত রাতের বেলা। ঘটনা ঘটেছে উপজেলার লংগাইর ইউনিয়নের কাঁজা গ্রামের কুমারবাড়ী এলাকায়। এ ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন প্রতারককে আটক করে। গত শুক্রবার রাতে বিচার সালিসের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ২৫ লাখ টাকা থেকে সাড়ে ছয় লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতারক রতন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লংগাইর ইউনিয়নের কাঁজা গ্রামের শাহজাহান দপ্তরির ছেলে কামরুল দপ্তরির এলাকার এক মেয়ের সঙ্গে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলেও মেয়েটির অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায়। এতে কামরুল দপ্তরি মনঃকষ্টে সব সময় বিষণ্ন থাকতেন। কামরুল দপ্তরির এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে একই গ্রামের ফালু মিয়ার ছেলে ও স্থানীয় কুমারবাড়ী মসজিদের সভাপতি কাম ইমাম কামরুল ইসলাম ওরফে কালা রতন প্রতারণার ফাঁদ পাতে। কামরুল দপ্তরির মোবাইল ফোনে গভীর রাতে কালা রতন ফোন করে নাঁকিস্বরে নিজেকে জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে কামরুল সারা দিন কোথায় কী করেছে তার হুবহু বর্ণনা দেয়। জানায়, তার কথামতো কাজ করলে প্রেমিকাকে ফিরে পাবি।  তোর মঙ্গল হবে। আর কথামতো কাজ না করলে চরম বিপদে পড়বি।’ কালা রতন কামরুল দপ্তরিকে বাড়ির পাশের ঝোপের মধ্যে টাকা রেখে পেছন না ফিরে বাড়ি যেতে বলে। কামরুল দপ্তরি জিনের বাদশা কালা রতনের নির্দেশ মতো কাজ করেন। এভাবে গত দুই বছরে কালা রতন ওরফে জিনের বাদশা কামরুল দপ্তরির কাছ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গত বুধবার রাতের বেলা কালা রতনের প্রতারণা ধরা পড়ে গেলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে। শুক্রবার রাতে প্রতারণার শিকার কামরুল দপ্তরির ভগ্নিপতি আব্দুল কুদ্দুসের ভালুকার বাসায় লংগাইর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন বিপ্লব, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন সরদার ও আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে সালিস বসে। সেখানে প্রতারক কালা রতন তার কৃতকর্মের কথা স্বীকার করে প্রথম কিস্তিতে সাড়ে ছয় লাখ টাকা ফেরত এবং বাকি টাকা পর্যায়ক্রমে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। পরে প্রতারক কালা রতনকে মুক্তি দেওয়া হয়।

প্রতারণার শিকার কামরুল দপ্তরি বলেন, ‘গভীর রাতে জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে চিকন স্বরে এমনভাবে কথা বলত যে বিশ্বাস না করে উপায় ছিল না। আমি আসলে একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। প্রায় ২৫ লাখ টাকা গচ্চা দেওয়ার পর আমার হুঁশ ফিরেছে।’ লংগাইর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন বিপ্লব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা