kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ওবায়দুল কাদের বললেন

জামায়াত ক্ষমা চাইলেও বিচার বন্ধ হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার জন্য জামায়াতের ক্ষমা চাওয়ার গুঞ্জন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এটা এখনো আলাপ-আলোচনার মধ্যে, গুজব-গুঞ্জনের মধ্যে সীমিত আছে। তারা এখনো ক্ষমা চায়নি। তিনি বলেছেন, ‘জামায়াত ক্ষমা চাইলেও যারা মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে যুক্ত তাদের যে বিচারকাজ চলছে, এটা কিন্তু বন্ধ হবে না।’

গতকাল শনিবার দুপুরে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

জামায়াত নিষিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় ক্ষমা চাওয়ার নতুন কৌশল নিচ্ছে কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, ‘এটা তাদের কৌশলও হতে পারে। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর ক্ষমা চাওয়ার বিষয় কেন এল, সেটাও কোনো কৌশল কি না, ভেবে দেখতে হবে।’

জামায়াত নেতা আবদুর রাজ্জাকের পদত্যাগের প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা তাঁর ব্যক্তিগত, তাঁদের দলের সিদ্ধান্তের ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে।’

নতুন নামে জামায়াত রাজনীতি শুরু করলে আওয়ামী লীগ স্বাগত জানাবে কি না— জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নতুন বোতলে পুরাতন মদ যদি আসে, তাহলে পার্থক্য কোথায়? জিনিস তো একটাই। তাদের আদর্শটা ঠিক আছে, নতুন নামে একই আদর্শ আসবে, তাহলে পার্থক্যটা কোথায়? এ বিষয়গুলো দেখতে হবে। এগুলো পরিষ্কার হওয়া দরকার। পরিষ্কার হওয়ার আগে আমরা কেন মন্তব্য করতে যাব?’

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার আলোচনার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তিনি এর আগেও বিদায় নিতে চেয়েছিলেন। আমাদের দলের কাউন্সিলর ও নেতাকর্মীদের চাপের মুখে তিনি ঘোষণা দিয়েও সরে যেতে পারেননি। আসলে তিনি অনেক দিন ধরেই বলছেন যে ‘আর কত! আমি তো অনেক দিন দায়িত্ব পালন করলাম। বাস্তবতা হচ্ছে যে এখনো শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প আমাদের পার্টিতে নেই। তাঁর কোনো বিকল্প সমসাময়িক রাজনীতিতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নেই।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘গত ৪৩ বছরে শেখ হাসিনাকে কেউ অতিক্রম করতে পারেনি। তিনি সবাইকে অতিক্রম করে গেছেন এবং নিজেকেও অতিক্রম করে গেছেন। সে জন্য আমরা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাঁকে বলেন স্টেটসম্যান।’ তিনি আরো বলেন, ‘পলিটিশিয়ানরা ভাবেন পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে। কিন্তু শেখ হাসিনা ভাবেন পরবর্তী জেনারেশন নিয়ে। সেই জেনারেশনের ভাবনাটাও সুদূরপ্রসারী, সেটা ২০৪১ সালের সীমারেখায় সীমিত নেই, সেটা চলে গেছে ২১০০ সালের ডেল্টা প্ল্যানে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই পাঁচ বছর শেখ হাসিনা যদি শারীরিকভাবে সুস্থ ও সবল থাকেন, আমার মনে হয় তাঁর বিকল্পের চিন্তাভাবনা নেই। পাঁচ বছর পরে শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনায় অক্ষম হবেন, অসমর্থ হবেন—এটা আমরা এ মুহূর্তে ভাবতে পারি না। আর তিনি ছাড়তে চাইলেও সময় ও পরিস্থিতি তাঁকে ছাড়বে কি না, নেতাকর্মীরা তাঁকে ছাড়বে কি না সেটাও তো আমাদের চিন্তাভাবনা করতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা