kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

বিল না দিলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন

হায়দার আলী   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিল না দিলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন

তিন হাজার ৮৮৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা বকেয়া উদ্ধারে মাঠে নামছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেড। বছরের পর বছর ধরে তিতাস গ্যাস ব্যবহার করলেও হাজার কোটি টাকা বকেয়া বিল পরিশোধ করছে না দেশের নামিদামি শিল্প-কারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিগত বছরগুলোতে তিতাসের বিলখেলাপিরা কম্পানিটির গ্যাস ব্যবহার করতে পারলেও এবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিতাস কর্তৃপক্ষ বলছে, গ্যাসের বকেয়া টাকা পরিশোধ না করলে কাউকে আর গ্যাস সরবরাহ করা হবে না। এরই মধ্যে বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।

কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের আটটি সেক্টরে তিতাসের বকেয়া তিন হাজার ৮৮৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় বিলখেলাপি রয়েছে ৭৫৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সিএনজি খাতে ২৩৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। ক্যাপটিভ সেক্টরে ৫৫২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। বাণিজ্যিক বিভাগে ৭৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। মিটারযুক্ত আবাসিক এলাকায় ৪০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। মিটারবিহীন আবাসিক এলাকায় এক হাজার ২১২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। কলোনিতে ২৬ কোটি ২০ লাখ টাকা। যেসব শিল্প-কারখানা বিলখেলাপি হলেও উচ্চ আদালতে রিট মামলা করে বছরের পর বছর বিল পরিশোধ করছে—এমন শিল্প-কারখানায় বকেয়া ২৯২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বকেয়া রয়েছে ৩০৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। সার কারখানায় বকেয়া ৬৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বকেয়া ৩১৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

বিশাল অঙ্কের এই বকেয়া টাকা উদ্ধারে দ্রুততম সময়ে অভিযান চালাবে তিতাস। তিতাসের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘তিতাসের এক শ্রেণির বিলখেলাপি আছে, যাদের কাছে হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া। তারা সরকারি গ্যাসের টাকা পরিশোধ না করে কৌশলে উচ্চ আদালতে মামলা করে বছরের পর বছর গ্যাস ব্যবহার করে যাচ্ছে। দ্রুততম সময়ে আইনি প্রক্রিয়ায় ওই সিন্ডিকেটকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেব।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘বিলের টাকা উদ্ধার করতে হবে। বিগত বছরগুলোতে এসব বিলখেলাপি নানাভাবে পার পেয়ে গেলেও এখন আর তা হবে না। ’

দেশের অনেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান তিতাসের প্রায় ২০০ কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ করছে না। বিলখেলাপি এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে মাহাবুব স্পিনিং মিল। তাদের কাছে বকেয়া ১২ কোটি টাকা। মুন্নু ফেব্রিকসের কাছে ২০ কোটি ৬০ লাখ, হোসেন পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলসের কাছে ৩০ কোটি ৫০ লাখ, লিথুন ফেব্রিকসের কাছে ২৯ কোটি ৫০ লাখ, মুন্নু সিরামিকসের কাছে ১০ কোটি ৫০ লাখ, আনোয়ার ইস্পাতের কাছে ২০ কোটি ১২ লাখ, ম্যাক পেপারের কাছে ১২ কোটি ২৪ লাখ, শারিজা অয়েল রিফাইনারির কাছে ১৪ কোটি ৯০ লাখ, সিনহা ডায়িং অ্যান্ড ফিনিশিংয়ের কাছে ২৪ কোটি ২০ লাখ, সাত্তার টেক্সটাইলের কাছে ১০ কোটি এবং অন্তিন নিট কম্পোজিটের কাছে ২০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এভাবে পাঁচ থেকে ১০ কোটি টাকা বকেয়ার শিল্প-কারখানা রয়েছে অর্ধশত। তারা বছরের পর বছর তিতাসকে বকেয়া বিলের টাকা পরিশোধ করছে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা