kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

যুবলীগকর্মী মনি হত্যাকাণ্ড

হোতাদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দু’সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও কিশোরগঞ্জে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত যুবলীগকর্মী ইউসুফ মনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল হোতারা ধরা পড়েনি। তারা ধরা না পড়ায় আতঙ্কে রয়েছে পরিবারের লোকজন। পুলিশের দাবি সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে তারা।

গত ২৫ জানুয়ারি রাতে নজিরবিহীন সন্ত্রাসী ঘটনায় আঁঁতকে উঠে কিশোরগঞ্জ শহর। শহরের প্রাণকেন্দ্র ঈশাখাঁ রোডে প্রকাশ্যে দু’ভাইকে নির্মমভাবে কোপানো হয়। এতে যুবলীগকর্মী ইউসুফ মনি মারা যান। মারাত্মকভাবে জখম হন তার ছোটভাই কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ছয় নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইয়াকুব সুমন। কিছুটা সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেও সেই দিনের ভয়াবহ নৃশংসতা এখনো কেঁপে উঠেন তিনি।

আহত কাউন্সিলর কালের কণ্ঠকে বলেন, আমি জনপ্রতিনিধি, আমার ভাই যুবলীগের সক্রিয় কর্মী। পারিবারিকভাবেও এলাকায় আমাদের প্রভাব রয়েছে। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে এমন নৃশংসতা ও সন্ত্রাস হবে-এটা আমাদের মাথায় ছিল না। তিনি বলেন, শহরের বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে। তারা শহরের চুরি, ছিনতাই করে বেড়ায়। তাছাড়া জায়গা দখল, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ভাড়া খাটে। এদের থামাতে না পারলে এই শহরে শান্তিপ্রিয় মানুষরা বাস করতে পারবে না। কিশোরগঞ্জের রাতটা তাদের দখলে চলে যায়।

স্থানীয়রা বলছেন, সন্ত্রাসী কারা তা শহরবাসীর অজানা নয়। কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। মনি হত্যাকাণ্ডে জড়িতরাই অবাধে শহরে ত্রাস সৃষ্টি করে বেড়াচ্ছে। এইসব সন্ত্রাসীরা ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় না পেলে এতটা দুঃসাহস দেখাতে পারত না।

গতকাল মঙ্গলবার নিহত যুবলীগ কর্মী মনির বাসায় গিয়ে প্রথমে চোখে পড়ে সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবের চিহ্ন। বাসার দরাজা, জানালা, গেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত আলামত হিসেবে রয়ে গেছে। মনির একমাত্র সন্তান সিয়াম রাতে কেঁদে কেঁদে বাবাকে খোঁজে। মনির স্ত্রী আবেদা আক্তার শিখা জানান, মূলহোতা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ছেলেটিকে নিয়ে ভয়ে আছেন তিনি।

পরিবারের লোকজন জানায়, শতাধিক বখাটে তরুণের সমন্বয়ে গঠিত সন্ত্রাসী চক্রটি সেদিন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এক যোগে হামলা চালায় দু’ভাইয়ের ওপর। কেন হামলা হলো এর কারণ জানাতে গিয়ে তারা বলেন, ঈশাখাঁ সড়কে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনের মালিকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা। এ চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয় দু’ভাইয়ের ওপর। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের মদদে এরা হয়ে উঠেছে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী।

ঘটনার দুই দিন পর গত ২৭ জানুয়ারি রাতে নিহত যুবলীগকর্মী মনির স্ত্রী আবিদা আক্তার শিখা বাদী হয়ে ১২জনের নাম উল্লেখ ও ৪০ থেকে ৫০জনকে অজ্ঞাত আসামি করে কিশোরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন। পুলিশ এজাহারভুক্ত দুই আসামিসহ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১১জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে দু’জন আবার ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। তবে  হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূলহোতা নিয়াজ, রাকিব, নয়ন ও রাজিবসহ কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের ধরতে পারেনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আহসান হাবিব বলেন, কারা হামলা করেছে, কেন করেছে তা পুলিশের কাছে স্পষ্ট। পুলিশ এরই মধ্যে ১১জনকে গ্রেপ্তার করেছে। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, পুলিশ এ মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে তত্পরতা চালাচ্ছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা