kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

পুলিশ পরিচয়ে একের পর এক ছিনতাই

যশোরে আতঙ্ক, ধরিয়ে দিলে পুরস্কার

বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘এই তুই চোর। তোর ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন চোরাই। চল, থানায় চল।’ পুলিশ পরিচয়ে দুই ব্যক্তি পিস্তল উঁচিয়ে, হাতকড়া দেখিয়ে প্রকাশ্যেই এক ব্যক্তিকে ইজিবাইকে তুলে থানায় আসতে বলল। নিজেরাও মোটরসাইকেলে থানার দিকে রওনা দিল। সব কিছু হারিয়ে ভুক্তভোগী ব্যক্তি থানায় এসে জানতে পারল, ‘ওরা পুলিশ নয়।’ সাদা পোশাকে পুলিশ পরিচয়ে যশোর শহরের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক এভাবেই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু পুলিশ ছিনতাইকারীদের আটক করতে পারছে না। ভিডিও ফুটেজ দেখে ছিনতাইকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পুলিশের কয়েকটি দল নকল পুলিশদের ধরার জন্যে অভিযানে নেমেছে। এই ছিনতাইকারীদের ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিশ। গত ২৯ জানুয়ারি ও ২ ফেব্রুয়ারি পর পর দুই দিন শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ পরিচয়ে ১৪টি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন বলেন, আসল পুলিশ এসব কাজ করতে পারে না। যারা এ কাজ করছে তারা পুলিশ নয়। ছিনতাই করার জন্য তারা পুলিশ পরিচয় ব্যবহার করছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি শহরের কাঠেরপুল এলাকায় মোটরসাইকেলে এসে পুলিশ পরিচয়ে যশোর এমএম কলেজের ছাত্র সাংস্কৃতিককর্মী আনন্দ কুমার সরকারকে পকেটে ইয়াবা আছে, তল্লাশি করার কথা বলে কিল-ঘুষি মেরে দুটি মোবাইল ফোনসেট ছিনিয়ে নেয়। এরপর এই নকল পুলিশ যশোর পলিটেকনিক কলেজের সামনে ওই কলেজের ছাত্র সুমন মণ্ডলকে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে দুটি ল্যাপটপ কেড়ে নেয়। সুমনও থানায় এসে জানতে পারে, পুলিশ এ কাজ করেনি। যারা করেছে, তারা ভুয়া পুলিশ। ২ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে থেকে একইভাবে পুলিশ পরিচয়ে মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি পিস্তল, হাতকড়া নিয়ে স্টেডিয়ামপাড়া এলাকার নাফিজ ইমতিয়াজ ও এমএম কলেজের ছাত্র অর্ঘ্য মণ্ডলের মোবাইল ফোনসেট কেড়ে নেয়। এসব ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় জিডি হয়েছে।

ছিনতাইয়ের শিকার অর্ঘ্য মণ্ডল বলেন, ‘দুই ব্যক্তি পুলিশ পরিচয়ে পিস্তল উঁচিয়ে আমার কাছে আসতে চায়। আমি মনে করি, ওরা আমার পকেটে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেবে। তখন আমি প্রতিবাদ করি। কাছে আসতে নিষেধ করলে ওরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পিস্তল দেখিয়ে ভয় দেখায়। এভাবেই তারা আমার মোবাইল কেড়ে নেয়। পরে আমি জানতে পারি ওরা নকল পুলিশ। থানায় এসে জানতে পারি, এদিন আরো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। 

একটি সূত্র জানায়, পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ বেশ বিব্রত। শহরের বিভিন্ন স্থানের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে ছিনতাইকারীদের শনাক্তের জন্যে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ওসি অপূর্ব হাসান বলেন, ছিনতাইকারীদের ধরার জন্য পুলিশ রাত-দিন কাজ করছে। শিগগিরই এদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এদের ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা