kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

এক অঙ্কে নামেনি ঋণের সুদহার

কোনো কোনো ব্যাংক বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন এফবিসিসিআই সভাপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন তো হয়ইনি, উল্টো বিভিন্ন ব্যাংক বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন।

গতকাল মঙ্গলবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত কাউন্সিল অব চেম্বার প্রেসিডেন্টের সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে এফবিসিসিআইয়ের প্রস্তাব তৈরিতে জেলা চেম্বারগুলোর মতামত নেওয়ার জন্য এ সভার আয়োজন করা হয়। রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম।

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন বলেন, সব ব্যাংক মালিক ওয়াদা করেছিলেন যে তাঁরা এক অঙ্ক সুদহারে ব্যাংক ঋণ দেবেন। অথচ কিছু ব্যাংক ছাড়া বাকিরা কথা রাখেনি। তিনি বলেন, সরকার ব্যবসা-বিনিয়োগের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ জন্য ব্যবসায়ীদের এখন দাবি হতে হবে সুনির্দিষ্ট।

মহিউদ্দীন বলেন, ‘দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ৭০ শতাংশ অবদান রাখে ব্যবসায়ীরা। অথচ ব্যবসায়ীরা যখন পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে যায় তখন একটি তালা লাগানো হয় কাভার্ড ভ্যানে। অস্থায়ী এ তালার দাম রাখা হয় ৬০০ টাকা, প্রতি ঘণ্টায় আলাদাভাবে আরো চার্জ দিতে হয়। এ ভোগান্তির শেষ হয়নি এখনো। আমরা এ নিয়ে বহুবার তৎকালীন অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন চেম্বারের ব্যবসায়ী নেতারা ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো, জেলা পর্যায়ে সহজে ঋণ বিতরণ, জেলা পর্যায়ে প্রকল্প অর্থায়নে উদ্যোক্তার অংশ (ইক্যুইটি) কমানো, বিভিন্ন সীমান্ত জেলার বন্ধ থাকা স্থলবন্দর চালু ও জেলা চেম্বারগুলোকে শক্তিশালী করাসহ কর হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ী নেতারা বলেছেন, তাঁরা স্তরভিত্তিক ভ্যাট চান। আয়করের হার কমানোও তাঁদের দাবি। পাশাপাশি রাজস্ব কর্মকর্তাদের হয়রানি থেকে মুক্তি চান। দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব আহরণে করের আওতা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন তাঁরা। এজন্য উপজেলা পর্যায়ে ভ্যাট ও আয়করের আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে জেলা চেম্বারগুলো সরকারকে সহযোগিতা করবে। 

এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা বিশ্বাস করে দেশের উন্নয়নে রাজস্ব আহরণের বিকল্প নেই। তবে তা হতে হবে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে। বড় রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য অর্জনে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ দেওয়া হয়। আবার রাজস্ব কর্মকর্তারা অনেক সময় হয়রানিও করে থাকেন। ব্যবসায়ীরা হয়রানি মুক্ত পরিবেশ চায়। বর্তমানে যারা করের আওতায় নেই, তাদের করের আওতায় আনলে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার দরকার হবে না।’

রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলন বলেন, ব্যবসায়ীরা রাজস্ব দিতে চায়। তবে তা হতে হবে সাধ্য অনুযায়ী, ব্যবসার আকার অনুযায়ী। সরকার কর ও ভ্যাটের হার বাড়ালে রাজস্ব বাড়বে না, বরং করের আওতা বাড়ালেই রাজস্ব আয় বাড়বে।

রাজশাহী চেম্বারের সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, অবকাঠামো ঘাটতি ও নীতি সহায়তার অভাবে জেলা পর্যায়ে শিল্প হচ্ছে না। সরকারকে রাজস্ব বাড়াতে হলে জেলা পর্যায়ে শিল্পায়নের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এতে রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনীতি চাঙ্গা হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে। এজন্য তিনি প্রকল্প ঋণে উদ্যোক্তার অংশ কমানোর দাবি জানান।

কক্সবাজার চেম্বারের সভাপতি আবু মোর্শেদ বলেন, ব্যবসায়ীরা কর দিতে চায়। কিন্তু কর নেওয়ার প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে অনেকে এ থেকে দূরে থাকে। সরকারকে সহজ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে কর দেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। তিনি কক্সবাজারসহ সারা দেশের পর্যটনশিল্প উন্নয়নে নীতি সহায়তা দেওয়া ও শিল্পে ব্যবহারের লবণ আমদানিতে কর বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।

সিলেট ওমেন চেম্বারের সভাপতি স্বর্ণলতা রায় বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে ভ্যাট ছাড় দিতে হবে। জেলা বা উপজেলা শহরে নারীরা যে ব্যবসা করে সেখানে অন্যান্য ব্যবসার সঙ্গে তালমিলিয়ে ভ্যাট নিলে নারী উদ্যোক্তারা দাঁড়াতে পারবে না। তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের এসএমই খাতে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহারে ঋণ দেওয়ার কথা বলা হলেও ব্যাংকগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা করে না। এসব কথায় থাকলে এগোনো যাবে না, বাস্তবায়ন হতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা