kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

মিরসরাইয়ে লরি-মাইক্রো সংঘর্ষে আগুন, নিহত ৩

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিরসরাইয়ে লরি-মাইক্রো সংঘর্ষে আগুন, নিহত ৩

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে লরি ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে সৃষ্ট আগুনে চালকসহ তিনজন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। পুড়ে সংকটাপন্ন অবস্থা দুই শিশুর। গতকালই রাজধানীতে বাবা-ছেলেসহ পাঁচজনের প্রাণহানি হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়। নারায়ণগঞ্জ সড়কে প্রাণ গেছে দুজনের। নিজস্ব প্রতিবেদক ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন বিস্তারিত।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিজামপুর এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চলন্ত লরিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে মাইক্রোবাসটি লরির পেছনে আটকে যায়। এ অবস্থায় লরিটি চলতে থাকলে দুই গাড়ি ও সড়কে উপর্যুপরি ঘর্ষণে মাইক্রোবাসের সামনের দিকে আগুন ধরে যায়। একপর্যায়ে পুরো মাইক্রোবাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে মাইক্রোবাসের সাত আরোহীর মধ্যে তিনজন পুড়ে মারা যান। দগ্ধ হয় একই পরিবারের দুটি শিশু। মাইক্রোবাসের দরজা খুলে লাফিয়ে পড়ে প্রাণে বেঁচে যান দুজন। চিকিৎসাধীন শিশু দুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

 

নিহতরা হলেন আব্দুর রহমান (৬৫) ও তাঁর স্ত্রী বিবি কুলছুম (৫৫) ও মাইক্রোবাসের চালক রুহুল আমিন। দগ্ধ দুই শিশু আব্দুল মালেক রনি (১২) ও রাসেলকে (৯) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত আব্দুর রহমানের নাতি এ দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহত অন্য দুজন হলেন আবদুর রহমানের ছেলে আবুল কালাম ও ছেলের শ্যালক আবুল হাসান।

জানা গেছে, চালক ছাড়া হতাহতরা একই পরিবারের সদস্য। বাড়ি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ থানার হাসনাবাদ ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামে। চালকের বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বানসা এলাকায়। জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) সোহেল সরকার জানান, নিহতদের দেহাবশেষ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জানা যায়, বিদেশ থেকে ফিরছেন ছেলে। তাই সবাইকে নিয়ে সন্তানকে আনতে যাচ্ছিলেন আব্দুর রহমান ও বিবি কুলছুম। সঙ্গে নাতি রনি ও রাসলেকেও নিয়েছিলেন। নিহতদের দেহাবশেষ উদ্ধারের পর জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে আসেন আব্দুর রহমানের ছেলে রুবেল হোসেন। সঙ্গে ছিলেন বিদেশফেরত বড় ভাই আব্দুল মোমিন। স্বজনদের এমন করুণ মৃত্যুতে তাঁরা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।

এদিকে রাজধানীতে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত পৃথক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সন্ধ্যায় পোস্তগোলা ব্রিজের পাশে বাস চাপায় অটোরিকশা (সিএনজি) যাত্রী বাবা ও ছেলেসহ তিনজন নিহত হন। নিহতরা হলেন বাবা বাচ্চু মিয়া (৬০) ও ছেলে জোবায়েদ (২৮)। অন্যজনের নাম সৈয়দ আহামেদ (৩০)। বাচ্চু মিয়ার ভাই লিটন মিয়া জানিয়েছেন, অটোরিকশাযোগে শ্যামপুর ইকুরিয়া এলাকা থেকে পোস্তগোলা হাসপাতালে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এদিকে সকাল ১১টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালীতে বাসের ধাক্কায় রুবেল চৌকিদার (৩০) নামে রিকশা আরোহী এবং এক রং ব্যবসায়ী নিহত হন।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের ডেমরায় ট্রাকের ডালার আঘাতে কাজল মিয়া (৪৫) নামের এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে গলাকাটা ব্রিজসংলগ্ন ইউসুফ ফ্লাওয়ার মিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার মোলাইপত্তন গ্রামের ইয়াছিন মিয়ার ছেলে কাজল পরিবারসহ দক্ষিণ বক্সনগরে ভাড়া থাকতেন। ট্রাকটিসহ ওই ট্রাকের হেলপার শামীমকে ডেমরা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

এদিকে জেলার রূপগঞ্জে ট্রাক্টরের চাপায় পিষ্ট হয়ে আয়মন হোসেন নামে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদরাসা শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। গতকাল বিকেলে উপজেলার কাঞ্চন-বিরাবো সড়কের বিরাবো এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আয়মন বিরাবো এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে এবং তারাইল দাখিল মাদরাসার ছাত্র। জানা গেছে, মাদরাসা ছুটি শেষে বাড়ি ফিরছিল শিশুটি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা