kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

ছাত্রসংসদের অস্তিত্ব শুধু চাঁদার রসিদে

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

শাহাদত হোসেন, শেকৃবি   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) আইনে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের অস্তিত্ব না থাকলেও এ খাতে প্রতি সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। আর এ অর্থের আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে রাজি নয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি করছে ছাত্রসংগঠনগুলো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০১ সালে বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট থেকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পর এখন পর্যন্ত ছাত্রসংসদ নির্বাচন হয়নি। এর আগে ইনস্টিটিউট থাকাকালে ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০০০ সালে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ওই নির্বাচন আর আলোর মুখ দেখেনি। ২০০১ সালে বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট রূপান্তরিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। তখন থেকে ছাত্রসংসদ নির্বাচন না হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় থেমে নেই। প্রতি সেমিস্টারে ‘সেন্ট্রাল ছাত্র ইউনিয়ন’ ফি বাবদ প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকা। এ খাতে আয়-ব্যয়ের হিসাব জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এমনকি তথ্য অধিকার আইনে এসংশ্লিষ্ট তথ্য জানতে চাইলে তাতেও সাড়া মেলেনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শেকৃবিতে তিন হাজার ৫৭০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। সেই হিসাবে ১৮ বছরে এ খাতে দেড় কোটি টাকা জমা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মুনতাকিম উদ্ দৌলা মাসুম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় আইনে না থাকা সত্ত্বেও ছাত্রসংসদের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দুর্নীতির একটি অংশ। প্রশাসনের উচিত এ খাতের আয়-ব্যয়ের হিসাব শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা। সেই সঙ্গে এবিষয়ক নীতিমালা প্রণয়ন করে দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।’

শেকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ‘শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্রসংসদের বিষয়ে উল্লেখ আছে কি না, এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত না। আইনে না থাকলে তা নীতিমালা প্রণয়ন করে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রশাসনের দায়িত্ব। আমরা এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের কথা উল্লেখ নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রসংসদ নিয়ে খুবই ইতিবাচক। উপাচার্য মহোদয় আমাদের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ বিষয়ক আইনের কপি সংগ্রহের জন্য মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন। এসব সংগ্রহের পর সিন্ডিকেটে প্রয়োজনীয় নীতিমালা পাস করা হবে।’ এ খাতে আদায় করা টাকার বিষয়ে তিনি বলেন, এ খাতের টাকা তহবিলে জমা আছে। ছাত্রসংসদ নির্বাচন হলে এ টাকা ব্যয় করা হবে।

মন্তব্য