kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ডিএসসিসির নতুন ওয়ার্ড ৬১

স্বচ্ছ খালে আশার ছটা জলাবদ্ধতা যাবে তো!

উন্নয়নের ছোঁয়া লাগায় খুশি এলাকাবাসী। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে ভোটাররা বলছে, নবসৃষ্ট ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের নানা সমস্যা রয়েছে

ওমর ফারুক   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বচ্ছ খালে আশার ছটা জলাবদ্ধতা যাবে তো!

এলাকাটি আগে ছিল ইউনিয়ন পরিষদের অধীন, এখন সিটি করপোরেশনের। সিটি করপোরেশনে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। নিচু রাস্তাগুলো এরই মধ্যে উঁচু হয়েছে। নোংরা-আবর্জনা পরিষ্কার করে পরিচ্ছন্ন এলাকা করা হচ্ছে। পরিষ্কার করা হয়েছে কুতুবখালী খালটিও। উন্নয়নের ছোঁয়া লাগায় খুশি এলাকাবাসী। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে ভোটাররা বলছে, নবসৃষ্ট ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের নানা সমস্যা রয়েছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার নুরবাগ, দনিয়া, সরাই, দক্ষিণ কুতুবখালী, কবিরাজবাগ, রসুলপুর, দাসপাড়া ও নয়াপাড়া এলাকা নিয়ে গঠিত হয়েছে ৬১ নম্বর ওয়ার্ডটি।

গতকাল ওয়ার্ড এলাকায় গেলে এলাকাবাসী জানায়, ওয়ার্ডটি ২০১৭ সালের জুলাই মাসের আগেও দনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের অধীন ছিল। সিটি করপোরেশনে সম্পৃক্ত হওয়ায় উন্নয়নের আশায় বুক বেঁধেছে তারা। প্রতি বছর বর্ষকালে তাদের জলাবদ্ধতার কারণে ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হয়। স্কুলের ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় অবর্ণনীয় কষ্টে।

এলাকাটি ঘুরে দেখা গেছে, যেসব রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যেত সেগুলো উঁচু করা হয়েছে। কুতুবখালী এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কের পাশের গলিতে দেখা গেছে রাস্তা এতটাই উঁচু করা হয়েছে যে অনেক পুরনো বাড়ির নিচতলার প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত নিচে পড়ে গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছে, এই রাস্তাগুলোতে বৃষ্টি হলেই পানি জমে যেত। কিছুদিন আগে উঁচু করে রাস্তা করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয় আগামী বর্ষাকালে কী অবস্থা দাঁড়ায়।

এলাকার বাসিন্দা শাহাদত হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, একদিকে রাস্তা উঁচু করা হয়েছে। অন্যদিকে কুতুবখালী খালটিও পরিষ্কার করার কারণে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা হবে না বলে মনে হচ্ছে। তবে বর্ষাকাল না এলে প্রকৃত চিত্র বোঝা যাবে না। দনিয়া এলাকার বাসিন্দা সায়েমুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের এলাকায় সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। বর্ষাকাল এলেই আমরা কষ্টে পড়ে যাই। পানি জমে গেলে সরতে চায় না। কোনো কোনো গলিতে হাঁটু পানিও জমে থাকে। তখন এলাকার মানুষকে বেশ কষ্ট করতে হয়।’

এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুতুবখালী খালটি ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে বৃষ্টি হলেই পানি উঠে যেত বাড়িঘরে। খালটি কিছুদিন আগে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিষ্কার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, খালের পার থেকে দখলদারদের উচ্ছেদও করা হয়েছে। যে কারণে এলাকাবাসী খুশি। কুতুবখালীর বাসিন্দা আলাউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কিছুদিন আগে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে খালপারকে দখলমুক্ত করেছেন। এরপর ভেকু দিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে খালটি। এখন পরিষ্কার আছে। যদি এমন থাকে তাহলে আমাদের এলাকার জলবদ্ধতা কমে যাবে বলে মনে করি।’ তিনি বলেন, এখন তো শীতকাল। বর্ষকালে বোঝা যাবে আসলে কী কাজ হয়েছে।

রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা হযরত আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইউনিয়ন থেকে সিটি করপোরেশনে আসায় আমরা খুব খুশি। যেসব রাস্তায় পানি উঠত সেগুলোতে দুই-তিন ফুট উঁচু করে তৈরি করা হয়েছে। এলাকার ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে। যা দেখে ভালো লাগছে।’

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি নব সৃষ্ট অন্য ওয়ার্ডগুলোর মতো ৬১ নম্বর ওয়ার্ডেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর মাত্র কয়েক দিন পরই ভোট হওয়ার কথা থাকলেও এলাকায় এর উত্তাপ লক্ষ করা যায়নি। স্থানীয়রা জানায়, এখানে এবার বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জুম্মন মিয়া, শাহ আলম মেম্বার, জাহিদ হোসেন অনুসহ ছয়-সাতজনের কাউন্সিলর নির্বাচনের কথা শুনতে পাচ্ছেন। তবে ভোটের তোড়জোড় এখনো শুরু হয়নি। ভোটারদের মাঝে আগ্রহও তেমন নেই।

এলাকার বাসিন্দা আবদুল মজিদ জানান, যাঁরা নির্বাচন করছেন তাঁদের মধ্যে জুম্মন মিয়া ছাড়া অন্যদের মধ্যে প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। জুম্মন চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।

গতকাল কথা হয় বর্তমান চেয়ারম্যান মো. জুম্মন মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, তিনি বর্তমানে দনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। তিনি গতকালই মার্কা পেয়েছেন। তাঁর মার্কা ঘুড়ি। এই এলাকায় আরো নির্বাচন করছেন শাহ আলম মেম্বার ও জাহিদ হোসেন অনু।

জুম্মন মিয়া দাবি করেন, তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর এলাকার অনেক উন্নতি করেছেন। নতুন করে যদি কাউন্সিলর নির্বাচিত হতে পারেন তাহলে তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে ভূমিকা রাখবেন। এ ছাড়া মাদক ও চাঁদাবাজি নির্মূল তাঁর প্রথম প্রায়োরিটি।

এ এলাকা থেকে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন জাহিদ হোসেন অনু নামের একজন। তিনি পেয়েছেন ফুলের ঝুড়ি মার্কা। নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন বলে জানান। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাস্তাঘাট, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।’ এলাকাটিতে ঠেলাগাড়ি  মার্কায় নির্বাচন করতে যাচ্ছেন শাহ আলম মেম্বার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা