kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

উপজেলা নির্বাচনে আ. লীগ

এবার ১২২ উপজেলায় প্রার্থী ঘোষণা, নতুন মুখ ৬৭

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে ১২২ উপজেলায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে ৬৭ জনই এবার উপজেলায় প্রথমবারের মতো লড়ছেন। বাকি ৫৫টির মধ্যে উপজেলা পরিষদের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান এবং এর আগে একাধিকবার আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীরা রয়েছেন। গতকাল রবিবার ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব নাম ঘোষণা করা হয়।

আওয়ামী লীগ ঘোষিত তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অর্ধেকের বেশি উপজেলায় এবার নতুন মুখ মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁওয়ে তিনটি, রংপুরে দুটি, দিনাজপুরে সাতটি, গাইবান্ধায় পাঁচটি উপজেলায় নতুন মুখ নৌকার প্রার্থী হচ্ছে। রাজশাহী বিভাগের বগুড়ায় সাতটি, নওগাঁয় ছয়টি, পাবনায় তিনটি উপজেলায় নতুন মুখ যুক্ত হয়েছে। ঢাকা বিভাগের ফরিদপুরের ৯ উপজেলার ছয়টিতেই নতুন প্রার্থী দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। সিলেট বিভাগের সিলেট জেলার ছয়টি উপজেলায় নতুন মুখ মনোনয়ন পেয়েছে। তবে মৌলভীবাজার জেলার কোনো উপজেলায়ই প্রার্থী বদল করেনি আওয়ামী লীগ। চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙামাটিতে সাতটি, বান্দরবানে চারটি, খাগড়াছড়িতে ছয়টি, চট্টগ্রামে চারটি ও কক্সবাজারে একটি উপজেলায় নতুন প্রার্থী দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় প্রার্থী বদল করেনি আওয়ামী লীগ।

গতকাল প্রার্থীদের নাম ঘোষণাকালে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটি তালিকা প্রকাশের দ্বিতীয় ধাপ। ১৯ সদস্যের মনোনয়ন বোর্ড এই তালিকা চূড়ান্ত করেছে।’ তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের প্রার্থীদের মনোনয়ন কবে দেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারির সভায় তা চূড়ান্ত করা হবে।’ এরই মধ্যে মনোনয়ন পাওয়াদের মধ্যে যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সদস্য থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এমন অভিযোগ থাকলে খতিয়ে দেখব, প্রয়োজনে তাদের মনোনয়ন বাতিল করব।’ দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে পাকেরহাট কলেজের (সরকারীকরণের ঘোষণা আসা) প্রভাষক শফিউল আজম চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তার পরও কোনো সমস্যা থাকলে আমরা যাচাই করে দেখব।’

দিনাজপুর : সদরে ইমদাদ সরকার, কাহারোলে এ কে এম ফারুক, বিরলে এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, বোচাগঞ্জে মো. আফছার আলী, চিরিরবন্দরে আহসানুল হক, ফুলবাড়ীতে আতাউর রহমান মিল্টন, বিরামপুরে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান পারভেজ কবীর, হাকিমপুরে হারুন উর রশীদ, বীরগঞ্জে বর্তমান চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, নবাবগঞ্জে আতাউর রহমান, পার্বতীপুরে হাফিজুল ইসলাম প্রামাণিক, খানসামায় সফিউল আযম চৌধুরী ও ঘোড়াঘাটে আবদুর রাফে খন্দকার।

ঠাকুরগাঁও : সদরে অরুণাংশু দত্ত টিটো আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন। তিনি আগেরবার দলীয় মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। পীরগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আখতারুল ইসলাম প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন। রানীশংকৈলে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল হক, হরিপুরে প্রথমবারে মতো মনোনয়ন পেয়েছেন জিয়াউল হাসান মুকুল, বালিয়াডাঙ্গীতে নতুন মুখ আহসান হাবীব বুলবুল।

গাইবান্ধা : সদরে শাহ সারোয়ার কবীর, সাদুল্যাপুরে সাহারিয়া খান বিপ্লব, গোবিন্দগঞ্জে আবদুল লতিফ প্রধান, ফুলছড়িতে জি এম সেলিম পারভেজ, সাঘাটায় এস এম সামশীল আরেফিন টিটু, পলাশবাড়ীতে এ কে এম মোকছেদ চৌধুরী।

রংপুর : তারাগঞ্জে বর্তমান চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান, বদরগঞ্জে বর্তমান চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি, কাউনিয়ায় বতর্মান চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, পীরগঞ্জে বর্তমান চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মণ্ডল এবারও দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। রংপুরের দুই উপজেলায় নতুন মুখ হলো গঙ্গাচড়ায় মো. রুহুল আমিন ও পীরগাছায় আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মিলন।

বগুড়া : সদরে মো. আবু সুফিয়ান, নন্দীগ্রামে মো. রেজাউল আশরাফ, সারিয়াকান্দিতে অধ্যক্ষ মুহম্মদ মুনজিল আলী সরকার, আদমদীঘিতে মো. সিরাজুল ইসলাম খান রাজু, দুপচাঁচিয়ায় মো. মিজানুর রহমান খান, ধুনটে মো. আবদুল হাই (খোকন), শাজাহানপুরে মো. সোহরাব হোসেন, শেরপুরে মো. মজিবর রহমান মজনু, শিবগঞ্জে মো. আজিজুল হক, কাহালুতে মো. আবদুল মান্নান, গাবতলীতে এ এইচ এম আযম খান এবং সোনাতলায় মো. মিনহাদুজ্জামান লিটন, শাজাহানপুরে সোহরাব হোসেন ছান্নু।

জানা গেছে, সারিয়াকান্দিতে স্থানীয় ও জেলা আওয়ামী লীগ সাংসদ আবদুল মান্নানের স্ত্রী সাহাদারা মান্নানকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়, কিন্তু কেন্দ্র তাঁকে বাদ দিয়ে সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ত্যাগী নেতা অধ্যক্ষ মুনজিল আলী সরকারকে মনোনয়নয় দিয়েছে। একইভাবে শাজাহানপুরে দলের সাধারণ সম্পাদক তালেবুল ইসলাম তালেবকে বাদ দিয়ে যুবলীগ নেতা সোহবার হোসেন ছান্নুকে, দুপচাঁচিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হককে বাদ দিয়ে সভাপতি মিজানুর রহমান খানকে মনোনয়ন দিয়েছে।

তবে এবারের যে ১২ জনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাঁদের মধ্যে আটজন নতুন মুখ। বাকি চারজন গতবারের পরাজিত প্রার্থী। তাঁরা হলেন শেরপুরে মজিবর রহমান মজনু, আদমদীঘিতে সিরাজুল ইসলাম খান রাজু, শিবগঞ্জে আজিজুল হক ও গাবতলীতে এ এইচ এম আযম খান। এ ছাড়া ২০০৯ সালে নন্দীগ্রাম উপজেলায় বিজয়ী যুবলীগ নেতা রেজাউল আশরাফ জিন্নাহকে এবার দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

নওগাঁ : ১১ উপজেলার মধ্যে ছয় নতুন মুখ হলেন নওগাঁ সদরে রফিকুল ইসলাম রফিক, রাণীনগরে আনোয়ার হোসেন, বদলগাছীতে আবু খালেদ বুলু, মহাদেবপুরে আহসান হাবীব, ধামইরহাটে আজাহার আলী, নিয়ামতপুরে ফরিদ আহমেদ। এ ছাড়া মনোনয়ন পেয়েছেন আত্রাইয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান এবাদুর রহমান প্রামাণিক, সাপাহারে বর্তমান চেয়ারম্যান শামছুল আলম শাহ্ চৌধুরী, পোরশায় আনোয়ারুল ইসলাম, পত্নীতলায় আবদুল গাফফার, মান্দায় জসিম উদ্দীন।

পাবনা

সদর উপজেলায় মো. মোশারোফ হোসেন, আটঘরিয়ায় মো. মোবারক হোসেন, বেড়ায় আবদুল কাদের, ভাঙ্গুড়ায় মো. বাকি বিল্লাহ, চাটমোহরে সাখাওয়াত হোসেন সাখো, ঈশ্বরদীতে মো. নুরুজ্জামান বিশ্বাস, সাঁথিয়ায় মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, সুজানগরে শাহীনুজ্জামান এবং ফরিদপুরে মো. খলিলুর রহমান সরকার।

ফরিদপুর : সদর উপজেলায় আবদুর রাজ্জাক মোল্লা, বোয়ালমারীতে বর্তমান চেয়ারম্যান এম এম মোশাররফ হোসেন, চরভদ্রাসনে মো. কাউছার, সদরপুরে শায়েমিন জামাল শিশু, সালথায় দেলোয়ার হোসেন, আলফাডাঙ্গায় এস এম আকরাম হোসেন, মধুখালীতে মির্জা মনিরুজ্জামান বাচ্চু, নগরকান্দায় মনিরুজ্জামান সরদার এবং ভাঙ্গায় জাকির হোসেন মিয়া।

সিলেট : ছয় নতুন মুখ হলেন বিশ্বনাথে মো. নুনু মিয়া, কোম্পানীগঞ্জে মো. জাহাঙ্গীর আলম, গোয়াইনঘাটে মো. গোলাম কিবরিয়া হেলাল, কানাইঘাটে আবদুল মোমিন চৌধুরী, জকিগঞ্জে মো. লোকমান উদ্দিন চৌধুরী ও জৈন্তাপুরে লিয়াকত আলী। এ ছাড়া মনোনয়ন পেয়েছেন সদর উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান আশফাক আহমেদ, দক্ষিণ সুরমায় বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আবু জাহিদ, বালাগঞ্জে মোস্তাকুর রহমান, গোলাপগঞ্জে ইকবাল আহমেদ চৌধুরী, বিয়ানীবাজারে বর্তমান চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান।

মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজরে পুরনো প্রার্থী ও চেয়ারম্যানদেরই আবারও মনোনীত করেছে আওয়ামী লীগ। বর্তমান চেয়ারম্যানরা মনোনয়ন পেয়েছেন বড়লেখায় রফিকুল ইসলাম, জুড়ীতে গুলশান আরা মিলি, কুলাউড়ায় কামরুল ইসলাম, রাজনগরে আকছির খান, কমলগঞ্জে রফিকুর রহমান, শ্রীমঙ্গলে রণধীর কুমার দেব। গতবার নির্বাচন করে পরাজিত হওয়া কামাল হোসেন এবারও মৌলভীবাজার সদরে মনোনয়ন পেয়েছেন।

নোয়াখালী : হাতিয়া উপজেলায় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মাহবুব মোর্শেদ।

চট্টগ্রাম : সন্দ্বীপে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, সীতাকুণ্ডে বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন, রাউজানে বর্তমান চেয়ারম্যান এ কে এম এহেছানুল হায়দর চৌধুরী। চট্টগ্রামে নতুন মুখ হলেন রাঙ্গুনিয়ায় খলিলুর রহমান চৌধুরী, ফটিকছড়িতে মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, মীরসরাইয়ে জসিম উদ্দিন, হাটহাজারীতে এস এম রাশেদুল আলম।

খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ি সদরে শানে আলম, মানিকছড়িতে জয়নাল আবেদীন, লক্ষ্মীছড়িতে বাবুল চৌধুরী, দীঘিনালায় মো. কাশেম, মহালছড়িতে কাজাই মার্মা, পানছড়িতে বিজয় কুমার দেব, মাটিরাঙ্গায় রফিকুল ইসলাম, রামগড়ে বিশ্ব প্রদীপ কুমার কার্বারি।

বান্দরবান : সদর উপজেলায় এ কে এম জাহাঙ্গীর, রোয়াংছড়িতে চহাইমং মারমা, আলীকদমে জামাল উদ্দীন, থানচিতে থোয়াই হলা মং মারমা, লামায় মো. ইসমাইল, রুমায় উহলাচিং মার্মা, নাইক্ষ্যংছড়িতে মোহাম্মদ শফিউল্লাহ।

রাঙামাটি : কাউখালী উপজেলায় সামশু দোহা চৌধুরী, রাঙামাটি সদরে শহীদুজ্জামান মহসীন, রাজস্থলীতে বর্তমান চেয়ারম্যান উবাচ মারমা, লংগদুতে আবদুল বারেক সরকার, বিলাইছড়িতে জয় সেন তঞ্চঙ্গ্যা, কাপ্তাইয়ে মো. মফিজুল হক, বরকলের সবির কুমার চাকমা, জুড়াছড়িতে রূপকুমার চাকমা। বাঘাইছড়িতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ফয়েজ আহমেদকে। যদিও তিনি ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফরম সংগ্রহ করেছিলেন।

কক্সবাজার : চকরিয়া উপজেলায় মনোনয়ন পেয়েছেন গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা