kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : রাজশাহী

কোন্দলে ঘোলা হতে পারে আ. লীগের ফাঁকা মাঠ

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজশাহীর ৯ উপজেলাতেই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এসব উপজেলায় বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। সেই হিসাবে আওয়ামী লীগপ্রার্থীদের জন্য ভোটের মাঠ একরকম ফাঁকা। কিন্তু তাঁদের জন্য ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এরই মধ্যে প্রার্থী নিয়ে অন্তত ছয়টি উপজেলায় দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

দুর্গাপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম। কিন্তু তাঁর চেয়ে আব্দুল মজিদকে জনপ্রিয় দাবি করে গত শনিবারই বিক্ষোভ করেছে অনেক নেতাকর্মী। তারা নজরুলের সমর্থকদের ধাওয়া দিয়ে উপজেলা সদর থেকে তাড়িয়েও দেয়। গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এমনও শোনা যাচ্ছে, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

বাগমারা উপজেলাতেও একই পরিস্থিতি। সেখানে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু এবার মনোনয়ন পাননি। পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অনিল কুমার, যিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য এনামুল হকের আস্থাভজন হিসেবে পরিচিত। কিন্তু অনিল কুমারের পক্ষে এখনো কোনো নেতাকর্মীকে মাঠে দেখা যায়নি। সেখানে জাকিরুল ইসলাম বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। জাকিরুল ইসলাম মনে করেন, তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়েছে।

পবা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ফারুক হোসেন ডাবলু। কিন্তু মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত মুনসুর রহমানকে। এ নিয়ে ফারুক হোসেন ডাবলু ফেসবুকে লিখেছেন, ‘হায়রে তৃণমূল দরদি নেতা, তৃণমূলের চাওয়া-পাওয়ার কোনো মূল্যায়ন হয় না।’

এদিকে তানোর ও গোদাগাড়ীতেও তৃণমূলের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বাদ দিয়ে সেখানে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সরাঞ্জয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি লুৎফর হায়দার ময়নাকে। এ নিয়ে মামুনের সমর্থকরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ। ময়নার পক্ষে কাজ না করার ঘোষণাও দিয়েছে তারা।

গোদাগাড়ীতে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর আলমকে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ আসাদ সমর্থকরা।

একই অবস্থা পুঠিয়াতেও। সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জি এম হিরা বাচ্চুকে। মাসুদ দাবি করেন, তাঁকে মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সংসদ সদস্যদের পছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও এমপির আত্মীয়-স্বজনও মনোনয়ন পেয়েছেন। এতে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা