kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাজধানীর কুতুবখালী খাল

দখল ও আবর্জনামুক্ত হচ্ছে চলবে ওয়াটার ট্যাক্সি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দখল ও আবর্জনামুক্ত হচ্ছে চলবে ওয়াটার ট্যাক্সি

গতকাল রাজধানীর দোলাইরপাড় এলাকার কুতুবখালী খালের আবর্জনা পরিষ্কার করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর খাল দখল ও আবর্জনামুক্ত করে ওয়াটার ট্যাক্সি চালানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি গতকাল রাজধানীর দোলাইরপাড় এলাকায় গিয়ে কতুবখালী খালের আবর্জনা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধনের সময় এ পরিকল্পনার কথা জানান।

গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দোলাইরপাড় এলাকার কুতুবখালী খালের পাশে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। এতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনের পর সাঈদ খোকন নিজেই হ্যান্ড মাইক নিয়ে কিছুদূর পর্যন্ত মাইকিং করে এলাকাবাসীকে খালে আবর্জনা না ফেলার আনুরোধ জানান। তিনি দোকানে দোকানে গিয়ে বলেন, কেউ যেন খাল পরিষ্কারের পর ময়লা-আবর্জনা না ফেলে। এ সময় উপস্থিত লোকজন তাঁকে ময়লা না ফেলার বিষয়ে কথা দেয়।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মেয়র। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই এলাকার খাল অনেকটা বিস্তৃত। খালগুলো সংস্কার হলে আরো অনেক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হবে। খালগুলোতে ওয়াটার ট্যাক্সি চালানোরও পরিকল্পনা রয়েছে।

গতকাল বিকেলে এলাকাটিতে গিয়ে দেখা গেছে দুটি এক্সকাভেটর দিয়ে খাল থেকে আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। খালের পাড়ে দায়িত্ব পালন করছেন কয়েকজন সেনা সদস্য।

এলাকাবাসী জানায়, খালটিতে আবর্জনা ফেলার কারণে ভরাট হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই পানি সরতে না পেরে জলবদ্ধতা দেখা দেয়। কতুবখালী এলাকার মো. রফিক নামের এক বাসিন্দা জানান, একসময় খালটি খোলা ছিল। বছরখানেক আগে দুই দিকে পাইলিং করে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। চার মাস আগে খালটি পরিষ্কার করা হয়। কিন্তু আবারও লোকজন ময়লা ফেলে খালটি ভরাট করে ফেলেছে।

এলাকার একাধিক বাসিন্দা কালের কণ্ঠকে জানান, কয়েকজন প্রভাবশালী খালপাড় দখল করে বিভিন্ন দোকান বসানোর সুযোগ দিয়ে টাকা উঠায়। তাঁরা দাবি জানিয়ে বলেন, এখন যেমন দখলমুক্ত অবস্থায় আছে, সব সময় যেন সে রকম থাকে।

গতকাল বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত খালটিতে এক্সকাভেটর দিয়ে যেটুকু স্থান পরিষ্কার করা হয়েছে সেখানে পানি জমেছে। কিন্তু এরপর প্রায় দুই কিলোমিটার খালে কোথাও পানি দেখা যায়নি। পুরোটা আবর্জনায় ঢেকে আছে।

পরিষ্কারে নিয়োজিত কর্মীরা জানান, পরিষ্কারের কাজটি করছে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। খালপাড় দখলমুক্ত করার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

গতকাল সকালে সাঈদ খোকন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘বর্তমান অবস্থায় যদি কোথাও কোনো ধরনের খাল দখল করার অপচেষ্টা করা হয় তাহলে সব শক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করা

হবে। ডিএসসিসিতে নতুন যুক্ত হওয়া ইউনিয়ন পরিষদগুলোর ৯৩ কিলোমিটার খালের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৭৪ কিলোমিটার খাল অবৈধ দখল থেকে উদ্ধার করেছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা