kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

২০ মাস পর ‘নিখোঁজ’ রিজওয়ান হারুন ধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২০ মাস পর ‘নিখোঁজ’ রিজওয়ান হারুন ধরা

যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার ২০ মাস পর জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতায় অভিযুক্ত রিজওয়ান হারুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি জঙ্গিবাদের ঘটনায় আলোচিত লেকহেড গ্রামার স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, গতকাল রবিবার ভোরে রাজধানীর ধানমণ্ডি থেকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল হারুনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুসলিমিনের (জেএম) মাধ্যমে জঙ্গিবাদের মদদ দিতেন এবং তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জঙ্গি প্রশিক্ষণ হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার কয়েকটি এলাকায় আল-কায়েদার মতাদর্শী জেএমের হয়ে সদস্য সংগ্রহের কাজ করেছেন রিজওয়ান। তাঁকে ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। জঙ্গি তৎপরতার কারণে লেকহেড ও রিজওয়ানকে নজরদারিতে আনা হলে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান। তবে ২০০৫ সালেই জেএমের কার্যকলাপ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে এসেছিল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, গতকাল ভোর ৬টার দিকে ধানমণ্ডির ঈদগাহ মসজিদের সামনে থেকে ডিবি দক্ষিণ বিভাগের একটি দল রিজওয়ান হারুনকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি লেকহেড গ্রামার স্কুলে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। রিজওয়ান জেএমের প্রত্যক্ষ মদদদাতা। তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ছিল। ২০০৫ সালে জামাতুল মুসলিমিনের কার্যকলাপ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে এলে সংগঠনটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে সরকার।

সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ১০ মে সকালে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে লন্ডন থেকে ঢাকায় আসেন রিজওয়ান। এরপর তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ইমিগ্রেশন পার হয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়। কারণ এর আগে থেকে সন্দেহভাজন জঙ্গি পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তাঁকে শনাক্ত করা হয়েছিল। তিনি ঢাকার লেকহেড গ্রামার স্কুলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এই স্কুলে আলোচিত অনেক জঙ্গি বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকতা করেছেন। ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনে রিজওয়ান হারুনকে আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই চিঠির আলোকে ওই বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে উপসচিব হাবিব মো. হালিমুজ্জামান স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনা দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশ সদর দপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। গোয়েন্দাসংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে রিজওয়ানের সন্ধান না পেয়ে ২০১৭ সালের ১৫ মে বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন তাঁর বাবা হারুন রশীদ। ওই জিডিতে বলা হয়, ১১ মে বিকেলে বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউতে একটি কালো রঙের গাড়িতে রিজওয়ানকে তুলে নেওয়া হয়েছিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা