kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

দুজনের লাশ উদ্ধার ট্রলার মালিক গ্রেপ্তার

মেঘনায় ট্রলারডুবি

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি    

২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুন্সীগঞ্জে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ছয় দিনের মাথায় গতকাল রবিবার দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ও চাঁদপুরের ষাটনল এলাকায় নদীতে লাশ দুটি ভেসে উঠেছিল। এ ছাড়া ডুবে যাওয়া ট্রলারের মালিক জাকির দেওয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

যে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তাঁরা হলেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার গজাইল গ্রামের মৃত মইজউদ্দিনের ছেলে রহমত আলী (৩৯) ও পাবনার ভাঙ্গুরা উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের মুণ্ডুমালা গ্রামের লয়ান ফকিরের ছেলে রফিকুল ইসলাম।

গতকাল রাতে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রহমতকে শনাক্ত করেন তাঁর ভাই সোহেল রানা। চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে রফিকুলকে শনাক্ত করে তাঁর স্বজনরা।

নৌ পুলিশের এসপি (পুলিশ সুপার) হুমায়ূন কবির সাংবাদিকদের জানান, সকাল ৯টার দিকে সম্ভাব্য দুর্ঘটনাস্থলের তিন কিলোমিটার উত্তরের গজারিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় পাওয়া গেছে রহমতের লাশ। রফিকুলের লাশ পাওয়া গেছে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকায়।

মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর-গজারিয়া) খন্দকার আশফাকুজ্জামান জানান, রহমত আলীর শরীরে জখম থাকায় ধারণা করা হচ্ছে জাহাজের পাখার সঙ্গে আঘাতে এমনটি হয়েছে। তবে মুখ বাঁধা থাকার ঘটনা সঠিক নয়। রাতেই লাশ দুটি স্বজনরা যাতে নিয়ে যেতে পারে সে প্রক্রিয়া চলছিল বলে তিনি জানান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গতকাল পঞ্চম দিনের মতো চাঁদপুরের ষাটনলের কাছে মেঘনায় নৌবাহিনী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ), পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালান।

বিআইডাব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর মোজাম্মেল হক জানান, গতকাল পর্যন্ত ট্রলারটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজদের স্বজন ও বেঁচে যাওয়া শ্রমিকরা বাড়ি ফিরে গিয়েছিল। তাদের স্থানীয়ভাবে ৫০ হাজার টাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। লাশ উদ্ধারের খবরে তাদের কেউ কেউ আবার দুর্ঘটনাস্থলে ফিরে আসছে। জেলা প্রশাসকের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় লাশ দুটি তাদের গ্রামের বাড়ি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া সরকারি অনুদান হিসেবে প্রত্যেককে পাবনা জেলা অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে তাত্ক্ষণিক ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ৪টার দিকে মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে তেলের ট্যাংকার ধাক্কায় ট্রলারটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় ট্রলারের ২০ শ্রমিক নিখোঁজ হয়। গত শুক্রবার বেঁচে যাওয়া শ্রমিক শাহ আলম গজারিয়া থানায় একটি মামলা করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা আশফাকুজ্জামান জানিয়েছেন, ট্রলারের মালিক জাকির দেওয়ানকে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে মুন্সীগঞ্জের বিচার বিভাগীয় হাকিম আরফাতুল রাকিবের আদালতে (আমলি আদালত-৫) সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। আদালত তাঁকে জেলহাজতের নির্দেশ দেন এবং আজ সোমবার রিমান্ড শুনানির দিন রাখেন।

এখনো নিখোঁজ ১৮ জন

পাবনার ভাঙ্গুরা উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের মুণ্ডুমালা গ্রামের গোলাই প্রামাণিকের ছেলে সোলেমান হোসেন, জব্বার ফকিরের ছেলে আলিফ হোসেন ও মোস্তফা ফকির, গোলবার হোসেনের ছেলে নাজমুল হোসেন-১, আব্দুল মজিদের ছেলে জাহিদ হোসেন, নূর ইসলামের ছেলে মানিক হোসেন, ছায়দার আলীর ছেলে তুহিন হোসেন, আলতাব হোসেনের ছেলে নাজমুল হোসেন-২, দাসমরিচ গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে ওমর আলী ও মান্নাফ আলী, তোজিম মোল্লার ছেলে মোশারফ হোসেন, আয়ান প্রামাণিকের ছেলে ইসমাইল হোসেন, সমাজ আলীর ছেলে রুহুল আমিন, মাদারবাড়িয়া গ্রামের আজগর আলীর ছেলে আজাদ হোসেন, চণ্ডিপুর গ্রামের আমির খান ও আব্দুল লতিফের ছেলে হাচেন আলী, রজব আলীর ছেলে শফিকুল ও অন্যজন হলেন সিরাজ মিস্ত্রি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা