kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৪ অক্টোবর ২০১৯। ৮ কাতির্ক ১৪২৬। ২৪ সফর ১৪৪১       

মুন্সীগঞ্জে মেঘনায় ট্রলারডুবি

খোঁজ মিলল না ২০ শ্রমিকের

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

২০ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খোঁজ মিলল না ২০ শ্রমিকের

মুন্সীগঞ্জের চরঝাঁপটার মেঘনা নদীতে তেলবাহী জাহাজের ধাক্কায় মাটিভর্তি ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ ২০ শ্রমিকের খোঁজ গত পাঁচ দিনেও মেলেনি। চতুর্থ দিনের মতো ওই এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনার পর গতকাল শনিবার বিকেল ৫টায় তা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। গত চার দিনে মুন্সীগঞ্জে মেঘনা নদীর প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে।

আজ রবিবার থেকে চাঁদপুরের ষাটনলের কাছে মেঘনা নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানো হবে।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা সাংবাদিকদের জানান, উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়, নৌযান শনাক্তকারী বিশেষ জাহাজ অগ্নিশাসকও ছিল উদ্ধার অভিযানে। পাশাপাশি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) ও নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সাইড স্কেন সোনারের মাধ্যমে ট্রলারটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টাও চলছে। নৌবাহিনীর একটি, বিআইডাব্লিউটিএর দুটি ও ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযানে কাজ করছেন জেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা।

গত সোমবার কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ট্রলারে মাটি তুলে ৩৪ জন শ্রমিক নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলী নিয়ে যাচ্ছিল। ট্রলারটি ওই দিন রাত ৩টার দিকে মুন্সীগঞ্জের চরঝাঁপটার মেঘনা নদীতে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি তেলবাহী জাহাজ ট্রলারটিকে ধাক্কা দিয়ে চাঁদপুরের দিকে চলে যায়। এতে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে ১৪ জন সাঁতরে প্রাণে বাঁচলেও ট্রলারটির কেবিনের ভেতরে ঘুমন্ত ২০ শ্রমিকের ভাগ্যে কী হয়েছে এখনো জানা যায়নি। নিখোঁজ শ্রমিকদের বেশির ভাগেরই বাড়ি পাবনা জেলায়। ঘটনাটি সোমবার দিবাগত রাতে ঘটলেও উদ্ধার অভিযান শুরু হয় বুধবার সকালে। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রলারচালক পালিয়ে গেছেন। তেলবাহী জাহাজটিকেও শনাক্ত করা যায়নি।

গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান সাদিক জানান, চতুর্থ দিনের মতো গতকাল সকাল থেকে বিআইডাব্লিউটিএ ও নৌবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে। তিনি আরো জানান, নির্দিষ্ট স্থান না জানায় পুরো মেঘনা চষে বেড়ানো সম্ভব নয়। তারপর কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে খোঁজা হয়েছে। কিন্তু ট্রলার ও কারো লাশ পাওয়া যায়নি। এ জন্য ঘটনাস্থলে ট্রলারচালকের উপস্থিতি দরকার।

ট্রলারচালক শরীয়তপুরের শিবচর উপজেলার হাজি শুক্কুর হালদারকান্দির হাবিব বেপারী দুর্ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।

গজারিয়া থানার ওসি হারুন-উর-রশিদ জানান, বেআইনিভাবে বেপরোয়া গতিতে নৌযান চালিয়ে প্রাণহানি ও দুর্ঘটনা ঘটানোর দায়ে শুক্রবার রাতে বেঁচে যাওয়া ট্রলারের যাত্রী শাহ আলম বাদী হয়ে চালক হাবিব বেপারী, মালিক জাকির দেওয়ান ও তেলবাহী জাহাজের চালককে (অজ্ঞাতনামা) আসামি করে গজারিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা