kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

জীবিতদের মৃত দেখিয়ে তিন আসামির জামিন

পাঁচবিবি থানার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

জয়পুরহাট ও পাঁচবিবি প্রতিনিধি   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাদকের পৃথক তিন মামলায় জেলহাজতে থাকা তিন আসামির জীবিত বোন, স্ত্রী ও বাবাকে মৃত দেখিয়ে অবকাশকালীন জজ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ আসামিদের বিরুদ্ধে জয়পুরহাট ও পাঁচবিবি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। পাঁচবিবি থানার ওসিকে পৃথকভাবে মৃত তিন ব্যক্তির বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ আসামিরা হলেন পাঁচবিবি উপজেলার কুয়াতপুর গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন (৩০), পাঁচবিবি পৌরসভার বালিঘাটা বাজারের আমির হোসেন ওরফে সোহেল (২৬) এবং বাগজানা ইউনিয়নের কয়া গ্রামের আতোয়ার হোসেন (৩৫)।

তাঁদের মধ্যে ইব্রাহিম হোসেন জয়পুরহাট সদর থানার ১৫ নম্বর মামলার আসামি, আমির হোসেন পাঁচবিবি থানার ৫৬ নম্বর এবং আতোয়ার হোসেন একই থানার ৬৩ নম্বর মামলার আসামি।

সংশ্লিষ্ট থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১১ ডিসেম্বর জয়পুরহাট শহরের বিশ্বাসপাড়া এলাকা থেকে ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ইব্রাহিম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ১৯ নভেম্বর পাঁচবিবি পৌরসভার বালিঘাটা বাজার কলোনির বাড়ি থেকে ২০টি ইয়াবাসহ আটক করা হয় আমির হোসেনকে। ২১ নভেম্বর আতোয়ারকে ১৮ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করা হয় পাঁচবিবির আয়মা রসুলপুরের ছোট মানিক মোড় থেকে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জেলা জজ আদালতে আতোয়ার হোসেনের হাজির হওয়ার ধার্য তারিখ ছিল ৮ জানুয়ারি। কিন্তু ২৭ ডিসেম্বর তাঁর জীবিত বাবা নাজির উদ্দিনকে মৃত দেখিয়ে তাঁর আইনজীবী নাজমুল ইসলাম জনি জামিন প্রার্থনা করেন। মৃত্যুর প্রমাণপত্র হিসেবে বাগজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হকের স্বাক্ষর করা সনদ দাখিল করা হয় আদালতে। আদালত বিষয়টি বিবেচনা করে আতোয়ারকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আদেশ দেন। কিন্তু ৮ জানুয়ারি তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় জেলা জজ আদালতের বিচারক মমতাজ পারভিন জামিন বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পাশাপাশি তাঁর বাবার মৃত্যুর বিষয়ে পাঁচবিবি থানার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। ওসি বজলার রহমান ১৪ জানুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন, যেখানে আসামি আতোয়ারের বাবা নাজির উদ্দিনের ছবি দিয়ে জানানো হয়, তিনি জীবিত আছেন। আরেক আসামি আমির হোসেনের মামলার ধার্য তারিখ ছিল ২৩ জানুয়ারি। কিন্তু একই আইনজীবী ৩১ ডিসেম্বর আদালতকে জানান, ওই দিন আমিরের স্ত্রী ইয়াসমিন প্রসব বেদনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রমাণ হিসেবে পাঁচবিবি পৌর মেয়র স্বাক্ষরিত মৃত্যু সনদ দাখিল করা হয়। আদালত আমিরকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।

আরেক আসামি ইব্রাহিম হোসেনের আদালতে হাজির হওয়ার ধার্য তারিখ ছিল ১৪ জানুয়ারি। তাঁর আগে ১৯ ডিসেম্বর সেই আইনজীবী নাজমুল ইসলাম জনি বোন মারা যাওয়ার তথ্য দিয়ে আদালতে ইব্রাহিমের জামিন চেয়ে আবেদন করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি কৌশলে জামিনের আবেদনপত্রে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুলতান আলম মোল্লার স্বাক্ষর নেন। কিন্তু আবেদন শুনানিতে অংশ নিয়েছেন নাজমুল ইসলামই। তিনি আদালতকে জানান, আসামির বোন আনোয়ারা বেগম ওই দিন সকাল সাড়ে ৬টায় মৃত্যুবরণ করেছেন। আইনজীবীর দাখিল করা তথ্য-প্রমাণ বিবেচনা করে আদালত পরবর্তী ধার্য তারিখ ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ইব্রাহিমের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।

জানতে চাইলে আসামি আতোয়ার হোসেনের বাবা নাজির উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ছেলে হাজতে থাকার পর আইনজীবী নাজমুল ইসলাম জনি ও তাঁর সহকারীর (মুহুরি) কাছে জামিনের জন্য যাই। তাঁরা আমার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নেন। ছেলের জামিনের পর জানতে পারছি আমাকে মৃত দেখিয়ে ছেলের জামিন নেওয়া হয়েছে। এখন বাড়িতে পুলিশ আসছে, সাংবাদিক আসছে। আমরা এর কিছু জানি না।’

আরেক আসামি আমির হোসেনের মা আমেনা বেগম বলেন, ‘আমিরের জামিনের বিষয়ে কিছুই জানি না। আমরা আইনজীবীকে কোনো কাগজপত্রও দেইনি। পরে শুনছি বউমা ইয়াসমিনকে মৃত দেখিয়ে আমিরের জামিন করা হয়েছে, যা করেছে আইনজীবী করেছে আমরা কিছুই জানি না।’

পাঁচবিবি পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বালিঘাটা বাজারের আসামি আমির হোসেনের স্ত্রী ইয়াসমিনকে মৃত দেখিয়ে আমার পরিষদের জাল মৃত্যুর প্রত্যয়নপত্র আদালতে দেখানো হয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর কাছে লিখিত দিয়ে জানিয়েছি, ওই মৃত্যুর সনদ আমার পরিষদ থেকে ইস্যু করা হয়নি। আসামির স্ত্রী ইয়াসমিন বেঁচে আছেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা