kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

পরিপাটি রেস্টুরেন্টে রান্নাঘরেই সমস্যা

ঢাকায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গুলশান-১-এর ১২৩ নম্বর সড়ক ধরে সামনে এগিয়ে গেলে শেষ মাথায় হাতের ডান পাশে পড়ে কোরিয়ানা রেস্টুরেন্ট। মূল ফটক বরাবর দ্বিতল ভবনটি দেখলেই ভেতরের পরিবেশটা আন্দাজ করা যায়। ভবনের মার্জিত সৌন্দর্যে চোখ আটকে যায়। দুই পাল্লার দরজাটা খুলে ভেতরে ঢুকলে প্রথমেই পড়ে অভ্যর্থনার জায়গা। সেটি পেরিয়ে সামনে গেলেই রেস্টুরেন্টের বসার স্থান। ভেতরটা বেশ পরিপাটি। বসার জায়গাটা বাঁয়ে রেখে হাতের ডানে ঢুকলেই পড়ে একটি রান্নাঘর। ঘরটি অতটা গোছানো না। আরেকটু এগিয়ে গেলে মূল রান্নাঘর। যেখানে অনেক কিছু ঠাসাঠাসি অবস্থায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আছে বড় বড় দুটি ফ্রিজ। প্রথম সমস্যাটা ধরা পড়ল এই ফ্রিজের ভেতরেই। শূকরের মাংস, মুরগির মাংস, বিভিন্ন মসলা, নানা জাতের সামুদ্রিক মাছ, অক্টোপাসসহ নানা ধরনের কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে রাখা হয়েছে। আইনত এটা অপরাধ। বাইরে রাখা অন্যান্য জিনিসপত্রের মধ্যে দেখা গেল ডিমের কেসে হাঁসের ডিম রাখা, যেগুলোর গায়ে লেপ্টে আছে বিষ্ঠা। এর পাশেই রান্নার জন্য জিনিসপত্র বের করে কাটা হচ্ছে।

গতকাল বুধবার ভরদুপুরে এই রেস্টুরেন্টে অভিযান পরিচালনা করছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজিদ আনোয়ার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সংস্থার গোটা দশেক কর্মকর্তা আর জনা বিশেক টিভি ও পত্রিকার সাংবাদিক।

অভিযানের সময় রেস্টুরেন্টটির রান্নার ঘরে একটি লম্বা তাকের পাশে পাচক তাঁর সাত-আটজন সহযোগী নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের চেহারায় কিছুটা হলেও আতঙ্কের চি ডিগ্রি স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। মনে হচ্ছিল এর আগে আর কখনো তাঁরা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি।

এরই মধ্যে রেস্টুরেন্টটিতে হাজির হন উত্তর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. জামাল মোস্তফা। কর্মকর্তারা নিজেদের করিৎকর্মা প্রমাণ করতে তাঁর কাছে একে একে অপরাধের বর্ণনা দিয়ে যাচ্ছিলেন। একেকজন একেকদিক থেকে টেনেটুনে একেকটা অপরাধ খুঁজে বের করতেও ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। গাদা গাদা লোক ও ক্যামেরার সামনে কেউ একজন খুঁজে বের করলেন আরেকটি বড় অপরাধ। অপরাধটি হলো ফ্রিজে রাখা খাবারগুলোর অধিকাংশই প্যাকেট করে রাখলেও সেগুলোতে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ নেই। ফেঁসে গেলেন রেস্টুরেন্টের মালিক বেচারা কোরিয়ান ভদ্রলোক সান ইয়ং লি।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্নার উপকরণ রাখা, খাদ্যদ্রব্য খোলা অবস্থায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা, খাবারের প্যাকেটে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ না থাকা, কর্মচারীদের ফিটনেস সনদ না থাকা, যথাযথ ট্রেড লাইসেন্স না থাকা—এসব অপরাধে কোরিয়ানা রেস্টুরেন্টকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করে তা আদায় করা হলো। এ সময় ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. জামাল মোস্তফা সাংবাদিকদের জানালেন, আবাসিক এলাকা থেকে বাণিজ্যিক রেস্টুরেন্ট সরিয়ে দেওয়া, ফুটপাত দখলমুক্ত করা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য যা যা করা দরকার তার সবই করবেন তাঁরা।

এখান থেকেই বিদায় নেন মেয়র। অভিযান পরিচালনাকারীদের পরবর্তী গন্তব্য ১০১ নম্বর সড়কের পিএইচও-১০১ রেস্টুরেন্ট। জাপানিদের জন্য করা এই রেস্টুরেন্টের পরিবেশও বেশ গোছানো। ভেতরে রয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা। বিদেশি ও দেশি ভোক্তাদের খাবার তৈরির জন্য রয়েছে আলাদা রান্নাঘর। মূল পাচককে দেখা গেল, সাধারণ একটি পোশাকে খাবার তৈরি করছেন। ফ্রিজে রান্না ও কাঁচা খাবার একসঙ্গে রাখা। কর্মচারীদের ফিটনেস সনদ নেওয়া হয়নি। ট্রেড লাইসেন্সেও ঝামেলা। এসব অপরাধে রেস্টুরেন্টটিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

ট্রেড লাইসেন্সে ঝামেলা থাকার পরও কেন রেস্টুরেন্টটিকে শুধু জরিমানা করেই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে—কালের কণ্ঠ’র এই প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজিদ আনোয়ার যে ব্যাখ্যা দিলেন সেটা বেশ অস্পষ্টই। তিনি বললেন, ‘আপনার কথা ঠিক। ট্রেড লাইসেন্স ঠিক না করার আগ পর্যন্ত রেস্টুরেন্টটির ব্যবসা বন্ধ করা উচিত। তবে মনে হয় রাজউকের সঙ্গে মামলা রয়েছে (বিষয়টি তিনি পরীক্ষা করে দেখেননি)। সেখান থেকে অনুমতি নিয়ে তারা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে।

‘নিরাপদ খাদ্য’ ও ‘নিরাপদ সড়ক’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কয়েক দিন ধরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা