kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা

সাক্ষ্য দিলেন চার কর্মচারী

মামলার কার্যক্রম আগামী ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি

আদালত প্রতিবেদক   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন আরো চার কর্মচারী। তাঁরা হলেন তরুণ গোমেজ, মো. হোসেন, মো. লেলিন মোল্লা ও সঞ্জয় বড়ুয়া। এ নিয়ে অভিযোগপত্রের ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো।

ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন এ মামলায় গতকাল বুধবার সাক্ষ্যর জন্য দিন ধার্য ছিল। সংশ্লিষ্ট বিচারক মো. মজিবুর রহমান উপস্থিত সাক্ষীদের জবানবন্দি নিয়ে লিপিবদ্ধ করেন। আসামিদের পক্ষে জেরা শেষে মামলার কার্যক্রম আগামী ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

সাক্ষীদের মধ্যে সঞ্জয় বড়ুয়া আদালতে ঘটনার বিষয়ে জবানবন্দি দেন। সঞ্জয় আদালতকে জানান, ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে তিনি ওই রেস্তোরাঁয় কর্মরত ছিলেন। ২০১৬ সালের ১ জুলাই ঘটনার রাতে গোলাগুলি শুরু হলে তিনি একটি কক্ষে আশ্রয় নেন। সারা রাত অন্যদের সঙ্গে সেখানেই ছিলেন। পরদিন সকাল ১০টার দিকে কক্ষ থেকে বের হয়ে বাসায় চলে যান। তিন দিন পর ৫ জুলাই গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে তাঁর মোবাইল ফোনসেটটি জব্দ করে।

অন্য সাক্ষীরা তাঁদের নাম ও ঠিকানা বলেছেন। অন্য কোনো বক্তব্য তাঁদের জবানিতে প্রকাশ পায়নি। রাষ্ট্রপক্ষ তাঁদের টেন্ডার ঘোষণা করে। আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা এই তিনজনকে কোনো জেরা করেননি। এ মামলার কার্যক্রম শুরুর আগেই রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষীদের হাজিরা দাখিল করে। কারাগারে থাকা ছয় জঙ্গিকে এজলাসে হাজির করা হয়।

গত বছরের ২৬ নভেম্বর মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করার মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। এর আগে ২৩ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রের আসামিরা হলেন জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, রাশেদুল ইসলাম, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, হাদিসুর রহমান সাগর, শরিফুল ইসলাম (পলাতক) ও মামুনুর রশিদ (পলাতক)। তাঁদের নামে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাসহ আগ্নেয়াস্ত্র, গ্রেনেড তথা বিস্ফোরক দ্রব্যাদি ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে পুলিশের দুজন পদস্থ কর্মকর্তা এবং ১৭ জন বিদেশিসহ ২০ জনকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গিরা অবস্থান নেয়। সেখানে থাকা দেশি-বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করে। এ সময় অভিযান চালাতে গিয়ে জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন খান নিহত হন। রাতের বিভিন্ন সময় তিন বাংলাদেশিসহ ২০ জন জিম্মিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে জঙ্গিরা। পরদিন সকালে যৌথ বাহিনী কমান্ডো অভিযান চালায়। এতে ছয় হামলাকারী নিহত হয়। জীবিত উদ্ধার করা হয় ১৩ জিম্মিকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা