kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

খাদ্য মন্ত্রণালয়কে জানালেন ডিসিরা

মোটা চালের দাম বাড়েনি!

শওকত আলী   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মোটা চালের দাম বাড়েনি!

চালের বাজারের অস্থিরতার বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ডিসিদের কাছে তথ্য চেয়েছিল খাদ্য মন্ত্রণালয়। ডিসিরা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, দেশে মোটা চালের দাম বাড়েনি। তবে মধ্যম মানের সরু চালের দাম বেড়েছে কেজিতে এক থেকে দুই টাকা পর্যন্ত। যার মূল কারণ, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়কার পরিবহন সংকট। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে চালের দাম বাড়ার চিত্র উঠে না এলেও দেখা গেছে, চালকল মালিকরা নির্বাচনকালীন দুই-তিন দিনের পরিবহন সংকটকে কাজে লাগিয়ে বাজার অস্থির করে তুলেছে। বাড়িয়ে দিয়েছে সব ধরনের চালের দাম। যার প্রভাবে বর্তমানে রাজধানীতে সব ধরনের চাল কেজিতে দুই থেকে চার টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

রাজধানীর কৃষি-মার্কেট, শিয়া মসজিদ মার্কেট, মোহাম্মদপুর টাউনহল মার্কেটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনের পর কেজিতে চালের দাম বেড়েছে দুই থেকে চার টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চালের এই দাম বাড়ানোর পেছনে রয়েছে রশিদ ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল। 

কৃষি মার্কেটের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিন জানান, রশিদ মিনিকেটের দাম নির্বাচনের আগে ছিল ৪৮ টাকা কেজি। নির্বাচনের পরে হয়েছে ৫২ টাকা। এখনো ওই দামেই বিক্রি হচ্ছে। ২৮ চালের দাম পাইকারিতে ৩৫ থেকে বেড়ে ৪০ টাকায় উঠেছিল। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৮ টাকায়।  স্বর্ণা মোটা চাল নির্বাচনের আগে ছিল ২৮ টাকা। পরে হয়েছে ৩২ টাকা। বর্তমানে খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪২ টাকা কেজিতে। 

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিসিদের কাছ থেকে পুরো দেশের চালের দামের একটি চিত্র চাওয়া হয়েছিল। তাঁরা জানিয়েছেন, মোটা চালের দাম বাড়েনি। বেড়েছে মধ্যম মানের চিকন চালের। যেটুকু বেড়েছে তাও সপ্তাহখানেকের মধ্যে কমে আসবে। নির্বাচনকালীন দুই-তিন দিনের পরিবহন সংকট ছাড়া দাম বাড়ার অন্য কোনো কারণ খুঁজে পাননি ডিসিরা।

দুই দিন আগে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি চালের দাম বাড়ার ঘটনাকে অযৌক্তিক বলেছেন। সংবাদিকদের তিনি  বলেছেন, চালের দাম নিয়ে মিল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করলেও দাম কমানো হয়নি। যেটা বেড়েছে তা কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হয়েছে। দেশে চালের কোনো সংকট নেই। এ জন্য তিনি খাদ্যমন্ত্রীকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজার মনিটরিংয়ে আমরা ঢাকায় চারটি টিম গঠন করেছি। এরা নিয়মিত বাজার পরিস্থিতি মনিটরিং করবে। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায়ও কমিটি করা হয়েছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি সপ্তাতে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে বলা হয়েছে ওই সব কমিটিকে।’

কালের কণ্ঠ’র নওগাঁ প্রতিনিধি ফরিদুল করিম মিল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন, মিল গেটে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৫৫০ টাকা। অর্থাৎ কেজিপ্রতি দাম পড়ছে ৩০-৩১ টাকা, যা আগে ছিল ২৮-২৯ টাকা। তবে এই ৩০-৩১ টাকা কেজি দরের চাল পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে ক্রেতার হাতে পৌঁছতে ৪২-৪৪ টাকা কেজিতে ঠেকছে। মিল মালিকদের পাশাপাশি পাইকারি ও খুচরা বাজারেও মনিটরিংয়ের দাবি তুলেছেন অনেকে।

যদিও নওগাঁর চাতাল ব্যবসায়ী ও ধান-চাল আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিরোদ বরণ সাহা দাবি করেছেন, গত দুই মাসে চালের দাম বাড়েনি।

এদিকে কুষ্টিয়ার মিলগুলোতে মোটা চালের দাম দুই টাকা পর্যন্ত কমেছে বলে জানা গেছে। দাম কমে মিল গেটে প্রতি কেজি মোটা চাল ২৮-২৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র কুষ্টিয়া প্রতিনিধি তারিকুল হক তারিক।

কালের কণ্ঠ’র রংপুরের নিজস্ব প্রতিবেদক স্বপন চৌধুরী জানান, উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা যে আমন ধান তুলেছে এর ৮০ শতাংশই বিক্রি করে দিয়েছে। ওই ধান এখন মিলারদের কাছে। এ কারণে মিল ও চাতাল মালিক এবং চাল ব্যবসায়ীদের হাতে চলে গেছে চালের মজুদ। এ সুযোগটাই নিচ্ছে তারা। ইচ্ছামতো বাজারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে তারা। রংপুরের মাহিগঞ্জ, দিনাজপুরের পুলহাট এবং বগুড়া, নওগাঁ ও রাজশাহী থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক চাল ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। এসব মোকামে এক সপ্তাহ আগে থেকে মিল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা