kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

সংশোধিত মজুরি ঘোষণার পর কাজে ফিরছে গার্মেন্ট শ্রমিকরা

অচলাবস্থা কাটেনি কয়েকটিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও সাভার   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গার্মেন্ট শ্রমিক ও কর্মচারীদের মজুরি কাঠামো পুনর্নির্ধারণের পর গতকাল সোমবার কাজে যোগ দিয়েছে আন্দোলনরত শ্রমিকদের বেশির ভাগ। তবে আশুলিয়া ও গাজীপুর এলাকায় ২৫-৩০টি কারখানায় কাজ হয়নি। তবে সড়ক অবরোধ ও ভাঙচুরের সংবাদ মেলেনি। এদিকে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে কিছুটা সরে এসেছে বিজিএমইএ। জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পক্ষের অনুরোধে আপাতত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত রয়েছেন মালিকরা।

সূত্র জানায়, পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি গত রবিবার সমন্বয় করা হলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি শ্রমিক আন্দোলন। গতকাল বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ করেছে। আশুলিয়া ও গাজীপুরের ২০-২৫টি কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়নি। কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকরা ঢুকে হাজিরা দিয়ে চলে গেছে। তবে রাস্তা অবরোধ বা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কার্যত পরিস্থিতি উন্নতির দিকে।

বিজিএমইএ নেতারা আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা নতুন মজুরি কাঠামো মেনে না নিলে কারখানা বন্ধ করে দেবেন। পরিস্থিতির আংশিক উন্নতি ঘটলে গতকাল সন্ধ্যায় বৈঠকে বসেন সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীসহ বিজিএমইএ নেতারা।

বিজিএমইএর সহসভাপতি এস এম মান্নান কচি বলেন, “কোনো কারখানার শ্রমিকরা আজ থেকে কাজে না ফিরলে ওই সব কারখানা ১৩/১ ধারায় অর্থাৎ ‘নো ওয়ার্ক নো পে’ ধারায় বন্ধ করে দেওয়া হবে। গতকাল বেশির ভাগ কারখানায় কাজ চালু ছিল। মাত্র ২০ থেকে ২৫টি কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলন করেছে। সামাজিক উদ্যোগ ও পরামর্শ থাকায় আমরা আপাতত কারখানা বন্ধ করছি না।”

এফবিসিসিআই সভাপতি ও গার্মেন্ট উদ্যোক্তা সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘মঙ্গলবারের পর যেখানেই গণ্ডগোল হবে, সঙ্গে সঙ্গে ওই কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

সরকার রবিবার মজুরি কাঠামোতে কিছুটা পরিবর্তন এনে তা ডিসেম্বর মাস থেকে কার্যকর হবে বলে ঘোষণা দেওয়ার পর শ্রমিক অসন্তোষ কিছুটা কমে। গতকাল সকাল থেকেই সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে দল বেঁধে শ্রমিকদের কারখানায় প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তবে সকাল ৯টার দিকে আশুলিয়ায় টঙ্গী-আশুলিয়া-ডিইপিজেড সড়কের ইউনিক, জামগড়া, বেরন এবং নরসিংহপুর এলাকার হা-মীম গ্রুপ, শারমিন গ্রুপ, এনভয়, উইনডিসহ বেশ কিছু নামিদামি ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা কাজে যোগদানের পর আবারও তাদের বাইরে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। পরে তারা শিল্পাঞ্চলের জামগড়া ছয়তলা এলাকায় সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সঙ্গে আলাপ করে সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পরিদর্শক মাহমুদুর রহমান জানান, সকালে আশুলিয়ায় বেশির ভাগ কারখানায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়। কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় পোশাক শ্রমিক মারা গেছে—এমন গুজবকে কেন্দ্র করে প্রায় তিন ঘণ্টা সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবরোধ করেছিল শ্রমিকরা। বিক্ষুুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা সিটি করপোরেশনের (উত্তর) ময়লাবোঝাই কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। গতকাল সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের আমিনবাজারের অদূরে তুরাগ ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সেখানে সকাল ৮টার দিকে ময়লাবাহী একটি ট্রাকের সঙ্গে সালেহপুর এলাকার ব্যান্ডো অ্যাপারেলস কারখানার শ্রমিকবাহী একটি বাসের সংঘর্ষ হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের বাগিবতণ্ডা হয়। সিটি করপোরেশনের শ্রমিকরা একপর্যায়ে একজন গার্মেন্ট শ্রমিককে মাথায় আঘাত করে। আহত গার্মেন্ট শ্রমিককে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা