kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

খুলনা-কলকাতা বন্ধন একপ্রেস

যাত্রীদের অনেক অভিযোগ, সুরাহার উদ্যোগ নেই

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মো. আকবার আলী গত বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) কলকাতা থেকে বন্ধন এক্সপ্রেসযোগে খুলনা রেলস্টেশনে নামেন। তিনি দেড় বছর ধরে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাতায়াত করেন। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে খুলনা-কলকাতা সরাসরি রেল যোগাযোগ শুরু হলে তিনি এতেই যাওয়া-আসা করেন। কিন্তু ভ্রমণটি তাঁর কাছে বিরক্তিকর। তিনি বেশ কিছু অসুবিধার কথা জানান। খুলনা থেকে ট্রেন গিয়ে যখন ভারতের চিতপুর ইমিগ্রেশনে পৌঁছে তখন রাত হয়ে যায়। সেখান থেকে সহজে অন্য স্থানে যাতায়াত করা যায় না। যাতায়াতের জন্য নির্ভর করতে হয় ট্যাক্সি বা উবারের ওপর। বাংলাদেশি যাত্রী দেখে ট্যাক্সিচালকরা ভাড়া দ্বিগুণ, তিন গুণ হাঁকায়।  একই কথা বলেন খুলনা থেকে কলকাতায় গমনেচ্ছু নিভা বিশ্বাস। নিভা বিশ্বাসের মতে, খুলনা থেকে ট্রেন ছাড়ার সময়সূচি পরিবর্তন করলে ভ্রমণ সহজ, নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত হতো। সার্ভিসটি বেশ আরামদায়ক, বিন্তু কিছু অসুবিধার জন্য জনপ্রিয় হচ্ছে না। যাত্রীসংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমছে।

কলকাতাগামী যাত্রীদের সুবিধার জন্য ২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর খুলনা-কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেসের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে এই ট্রেনে যাত্রীসংখ্যা প্রায় দু শ হলেও এখন তা এক শর নিচে নেমে এসেছে। সপ্তাহের বৃহস্পতিবার এই ট্রেন সার্ভিস কলকাতার চিতপুর ইমিগ্রেশন হয়ে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টায় ছেড়ে আসে। খুলনা স্টেশনে পৌঁছেয় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। খুলনা থেকে আবার দুপুর দেড়টায় ছেড়ে যায়, কলকাতা স্টেশনে পৌঁছেয় সন্ধ্যা ৭টায়। তবে প্রায়ই দেরি হয়। 

খুলনা থেকে কলকাতাগামী যাত্রীরা হয় ভ্রমণ অথবা চিকিৎসা ভিসা নিয়ে সেখানে যায়। চিকিৎসাসেবা নিতে যাত্রীরা কলকাতার পিয়ারলেস, রুবী, উডল্যান্ডসহ বাইপাস এলাকার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নেয়। আবার খুলনা এলাকার মানুষের বেশির ভাগ আত্মীয়-স্বজন পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর, নদীয়া, বারাসাত এলাকায় বসবাস করায় অনেকে সেসব জায়গায় গিয়ে ওঠে। এ কারণে ওই ট্রেনটি যদি পশ্চিমবঙ্গের দমদম স্টেশন বা শিয়ালদহ স্টেশনে থামে, তবে ভারতগামীদের সমস্যা হয় না; কিন্তু ইমিগ্রেশনের ব্যবস্থা চিতপুরে থাকায় সেখানেই যেতে হয়, তাতেই প্রাথমিক বিড়ম্বনার শুরু। 

খুলনা থেকে কলকাতাগামী বন্ধন এক্সপ্রেসে ভাড়া ভ্রমণ করসহ এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। ১৭০ কিলোমিটার পথে এই ভাড়া অনেক বেশি বলে ভ্রমণকারীরা মনে করে। খুলনা থেকে ঢাকায় যেতে ট্রেনের এসি সিটে ভাড়া ৯০০ টাকা। সেই হিসাবে খুলনা-কলকাতার ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি। অথচ বেনাপোল হয়ে খুলনা থেকে কলকাতায় পৌঁছতে খরচ হয় ভ্রমণ করসহ মাত্র সাত শ থেকে সাড়ে সাত শ টাকা।

নিয়মিত ভারতে যাতায়াতকারী জাহিদুর রহমান বলেন, খুলনা-কলকাতা ট্রেন সার্ভিস সচল রাখতে হলে সময়কে গুরুত্ব দিতে হবে। বেনাপোলে বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন শেষ হওয়ার পর যদি ভারতে গিয়ে একই সঙ্গে ইমিগ্রেশন শেষ হয় তাহলে যাত্রীদের ভোগান্তি কম হয়। সঙ্গে থাকা লাগেজ নিয়েই যাত্রীদের নামতে হয়, যা খুবই বিরক্তিকর।

জানতে চাইলে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, ‘বন্ধন এক্সপ্রেসটি জনপ্রিয় করতে চাইলে সময় ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা আরো সহজতর করতে হবে।’ ট্রেনটি জনপ্রিয় না হওয়ার জন্য যশোর ও বেনাপোল স্টেশনে টিকিট বিক্রি না করা, যশোর ও  বেনাপোল স্টেশনে যাত্রীদের জন্যে স্টপেজ না দেওয়া, অন্যদিকে সপ্তাহে মাত্র এক দিন এই রুটে ট্রেন চালু রাখা ট্রেনটি জনপ্রিয় না হওয়ার অন্যতম কারণ কবলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব কারণে ট্রেনটির যাত্রীসংখ্যা ক্রমাগত কমছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

খুলনা রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানায়, দুই দেশের শীর্ষপর্যায়ের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা-কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেস চালু হয়েছে। বর্তমান শিডিউল অনুযায়ী চলাচল করায় যাত্রীরা ভোগান্তির কথা বলছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে খুলনা-কলকাতা ট্রেন সার্ভিসকে লাভজনক করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা