kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

বন্ধুর বাবার হাতে কিশোর খুন

কথা-কাটাকাটির জের

জামালপুর প্রতিনিধি   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাত্র দুই হাজার টাকার লেনদেন নিয়ে বিতর্কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে এক কিশোরকে। ঘটনাটি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার। রবিবার রাতে পোগলদিঘা ইউনিয়নের রুদ্র বয়ড়া গ্রামে বন্ধুর বাড়িতে পাওনা টাকা চাইতে গেলে হামলার শিকার হয় পলাশ মিয়া (১৫)। তাকে কুড়াল দিয়ে কোপানোর পর লেপ জড়িয়ে ফেলে দেওয়া হয় এক কিলোমিটার দূরবর্তী আব্দুল্লাহ মোড়ে। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজনরা জানায়, নিহত পলাশ এসএসসি পরীক্ষার্থী। বাড়ি পোগলদিঘা ইউনিয়নের তারাকান্দি কান্দারপাড়া গ্রামে। বাবার নাম সাইফুল ইসলাম। পোগলদিঘা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পলাশের অন্যতম বন্ধু ফাহিম ও সাগর।

বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পলাশের বন্ধু ফাহিমের ছোট ভাইয়ের জন্য স্কুল থেকে জেএসসির প্রশংসাপত্র তুলে দেওয়ার কথা বলে সাগর দুই হাজার টাকা নিয়েছিল।

 প্রশংসাপত্র না তুলে সে টাকাগুলো খরচ করে ফেলে। এরপর টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে সাগরদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে পলাশকে। সাগর ও তার

বাবা আব্দুর রশিদ কুড়াল দিয়ে কুপিয়েছে পলাশকে।’

তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মোহাম্মদ মোহব্বত কবীর বলেন, ‘পলাশকে কুপিয়ে জখম করার পর পালিয়েছেন আব্দুর রশিদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাদের আটক করার চেষ্টা চলছে। অভিযুক্ত সাগরের দাদি রওশন আরাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে পলাশের বন্ধু ফাহিমের ছোট ভাইয়ের জেএসসি পাসের প্রশংসাপত্র তোলার প্রয়োজন হয়। এ সময় কাজটি করে দিতে দুই হাজার টাকা নেয় সাগর। কিন্তু কাজটি করে দিতে না পারায় বন্ধুদের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়।

টাকা ফেরতের বিষয়ে নানা টালবাহানা করতে থাকে সাগর। রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পলাশ দৌলতপুর গ্রামে যায় আব্দুস ছালাম নামের একজন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে। এ সময় মোবাইলে ফোন করে টাকা দেওয়ার কথা জানায় সাগর। ফাহিমকে তাদের বাড়ি গিয়ে টাকা আনতে বলে। এ সংবাদের পর রাতেই ফাহিম, পলাশসহ কয়েকজন টাকা নিতে সাগরদের বাড়িতে পৌঁছে।

দুই হাজার টাকা লেনদেনের বিষয় নিয়ে আলাপকালে বন্ধুদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। সাগরের পরিবারের সদস্যরা এতে যুক্ত হয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। একপর্যায়ে সাগর ও তার বাবা আব্দুর রশিদ হামলা চালায় পলাশদের ওপর।

অন্যরা পালিয়ে গেলে পলাশ পড়ে যায়। তখন পলাশকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন সাগরের অভিভাবকরা। এরপর পলাশকে লেপ দিয়ে পেঁচিয়ে অটোরিকশাভ্যানে করে নিয়ে আব্দুল্লাহ মোড়ে ফেলে রাখা হয়। রাতেই পলাশকে উদ্ধার করে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। রাত ৩টার দিকে পলাশকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। ময়নাতদন্ত শেষে পলাশের লাশ গতকাল বিকেলে দাফনের জন্য বাড়িতে নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা