kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

যবিপ্রবিতে অধ্যাপককে হুমকি

ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা শিক্ষক সমিতির

যশোর অফিস   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইকবাল কবীর জাহিদকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। তা ছাড়া গতকাল সোমবার দুপুরে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন থেকে হুমকিদাতা যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুলের বিচার দাবি করা হয়।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করা, হত্যার হুমকি দেওয়া ছাড়াও আজ (সোমবার) মানববন্ধনে মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর ও গালাগাল করা হয়েছে। এসবের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সে ক্ষেত্রে কর্মচারী ইউনিয়নও শিক্ষকদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে।

অধ্যাপক ইকবাল কবীর জাহিদ জানান, গত ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল মোবাইল ফোনে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, ‘টেন্ডারের মাধ্যমে শহীদ মশিয়ুর রহমান হলে নিম্নমানের চেয়ার ও টেবিল সরবরাহ করা হয়েছে। বিলে আমি আপত্তি জানিয়েছি। তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। সম্ভবত আনোয়ার হোসেন বিপুলই নেপথ্যের টেন্ডার আহ্বানকারী।’

এদিকে শিক্ষকদের মানববন্ধন চলাকালে শেখ হাসিনা হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হুমাইয়ারা আজমীরা এরিনের নেতৃত্বে মিছিল করা হয়। এ সময় তাঁরা অধ্যাপক ইকবাল কবীর জাহিদের অপসারণের দাবি জানান।

হুমাইয়ারা আজমীরা এরিন দাবি করেন, ক্যাম্পাসে নৌকা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অধ্যাপক ইকবাল কবীর জাহিদকে অপসারণ করতে হবে। তবে আনোয়ার হোসেন বিপুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি কোনো টেন্ডার দাখিল বা চেয়ার-টেবিল সরবরাহ করিনি। জামায়াত-বিএনপি ঘরানার অধ্যাপক ইকবাল কবীরের নেতৃত্বে নৌকা সরানো হয়েছে। তা ছাড়া তিনি ছাত্রলীগকে গালাগাল করেছেন। আমি এর প্রতিবাদ করেছি মাত্র।’

এ বিষয়ে গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ছাত্রলীগের একজন নেত্রীর নেতৃত্বে আজ (সোমবার) যা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আনোয়ার হোসেন বিপুল নামে ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় অধ্যাপক ইকবালকে হুমকি দিয়েছে। হুমকির বিষয়টি দুঃখজনক।’

উপাচার্য আরো বলেন, ‘ক্যাম্পাসে গতবার নতুন শিক্ষার্থীদের র‌্যাগিং করা হয়েছে। এবার আমরা আগে থেকে র‌্যাগিংবিরোধী সচেতনতামূলক পোস্টার করেছি। সেগুলো ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তারা নৌকা ভেঙে ফেলা বা পোড়ানোর অভিযোগ করছে। তাদের এই অভিযোগ সঠিক নয়। তা ছাড়া নির্বাচনের পর এসব সরিয়ে নেওয়ার কথা। তারা যদি সত্যিকারের নৌকার সৈনিক হয়, তাহলে তাদেরই সরিয়ে ফেলা উচিত ছিল। আমি নিজে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে নৌকার পোস্টার, বিলবোর্ড সরিয়ে ফেলতে বলেছি। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের এসব সরিয়ে নিতে বলেছেন। এটা নিয়ে তো ইস্যু করার দরকার নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা