kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

বদ্বীপ পরিকল্পনা নিয়ে সম্মেলন শেষ

গঙ্গা ব্যারাজের কাজ দ্রুত শুরুর তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লবণাক্ততা কমানোর পাশাপাশি নদী রক্ষায় যত দ্রুত সম্ভব গঙ্গা ব্যারাজের কাজ শুরু করার তাগিদ এসেছে শতবর্ষী পরিকল্পনা ‘বদ্বীপ ২১০০’ নিয়ে আয়োজিত এক সম্মেলন থেকে। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) আয়োজিত দুই দিনের সম্মেলনের শেষ দিনে বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করেছেন, সরকার শতবর্ষী ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ অনুমোদন দিলেও এই পরিকল্পনায় তাঁদের মতামত নেওয়া হয়নি। বদ্বীপ পরিকল্পনায় অনেক প্রকল্প ঢুকে গেছে অপরিকল্পিতভাবে। হাওরাঞ্চল নিয়ে আগে যেসব পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, বদ্বীপ পরিকল্পনার সঙ্গে তা সাংঘর্ষিক। দেশের যে বিস্ময়কর উন্নয়ন হচ্ছে, ৭ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে, তা অনেকটা অপরিকল্পিতভাবেই হচ্ছে বলে অভিযোগ বিশেষজ্ঞদের। নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সকালের অধিবেশনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আইডাব্লিউএমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক এম মনোয়ার হোসেন, সিইজিআইএসের উপদেষ্টা গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ ড. স্বপন আদনানসহ অন্যরা।

ড. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের যেসব অভিন্ন নদী আছে, সেগুলো দিন দিন মরে যাচ্ছে। কোথাও বাঁধের মাধ্যমে, কোথাও ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে পানির প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে আমাদের অভ্যন্তরীণ নদীগুলোও প্রাণহীন হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। আমাদের জনসংখ্যা বাড়ছে। ফলে খাদ্যের চাহিদাও বাড়ছে। ফসল উৎপাদনে আমাদের যতটুকু পানির প্রয়োজন, তা আমরা পাচ্ছি না। এ জন্য আমাদের গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।’

গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার ১০০ বছরের জন্য বদ্বীপ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। যুদ্ধের আগে সেনাবাহিনী যেমন যুদ্ধের ছক কষে, জলবায়ু বিপর্যয়ের প্রভাব মোকাবেলাসহ নদী রক্ষায় বদ্বীপ পরিকল্পনা তেমনি একটি কৌশল। তবে এর মধ্যেও অনিশ্চয়তা আছে, কখন কী পরিবর্তন হয়ে যায়। মূলত বদ্বীপ একটি কৌশলগত পরিকল্পনা। পাঁচ বছর পর পর এই পরিকল্পনা সংশোধনের সুযোগ আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা নিয়ে যতটা বিশ্লেষণ, চিন্তা ও মতামত নেওয়া দরকার ছিল, তা নেওয়া হয়নি। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বদ্বীপ পরিকল্পনায় পূর্ব ঢাকায় বাঁধ নির্মাণে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। কোনো ধরনের দূরদর্শী চিন্তা ছাড়া প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল। আমরা তাতে বাধা দিয়েছিলাম। প্রকল্পটি নিয়ে আমরা আপত্তি করার কারণে পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সেখানে বাঁধ না দিয়ে বাইপাস করা যেতে পারে।’ সরকার ঢাকার চারপাশে কমপ্যাক্ট টাউনশিপ করার যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তার সমালোচনা করে নগর বিশেষজ্ঞ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘চিন্তুা করুন। এটা কি ভালো?’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা