kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জাতীয় সংসদ নির্বাচন

চট্টগ্রামে এখনো বৈধ অস্ত্র জমার নির্দেশনা আসেনি

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রামে এখনো বৈধ অস্ত্র জমার নির্দেশনা আসেনি

চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার ৩২টি থানা এলাকায় বৈধ অস্ত্রধারীদের হাতে অস্ত্র আছে চার হাজার ২৬২টি। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এসব বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা এখনো জারি করেনি নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে নগর ও জেলা পুলিশ অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে। চলমান অভিযানে কিছু অস্ত্র উদ্ধার ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন নানা কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বৈধ অস্ত্র থানায় জমা নেওয়া প্রয়োজন। না হলে নির্বাচনের মাঠে কিংবা প্রচারের সময় সংঘাতে অস্ত্র ব্যবহার হলে সেই অস্ত্র বৈধ নাকি অবৈধ অস্ত্র ছিল তা শনাক্ত করতেই পুলিশকে ঘাম ঝরাতে হবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত অস্ত্রের লাইসেন্সধারীরা নিজেদের নিরাপত্তার জন্যই লাইসেন্স পেয়ে থাকেন। এখন নির্বাচনের দিন বা প্রচারের সময়ে সাম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কা থেকে আত্মরক্ষার্থে কেউ কেউ অস্ত্র বহন করে থাকতে পারেন। তখন প্রচারাভিযানের মাঠে অস্ত্রের ব্যবহার হলে তদন্তকাজে পুলিশেকে বেশি বেগ পেতে হবে। অর্থাৎ বৈধ-অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ‘একাকার’ হওয়ার আশঙ্কা আছে। 

চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের এই দুটি ইউনিটই স্ব স্ব কর্ম এলাকার সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের তালিকা হালনাগাদ করেছে। এই তালিকায় সন্ত্রাসীর নাম, রাজনৈতিক পরিচয়, মামলার সংখ্যা, অস্ত্রধারী কি না—এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সন্ত্রাসীদের নামের পাশে ‘অস্ত্রধারী’ শব্দটি লেখা থাকলেও অস্ত্রের ধরন ও সংখ্যা সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। ফলে চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অস্ত্রের প্রকৃত সংখ্যা জানা সম্ভব হয় না। তবে সন্ত্রাসীদের কাছে ক্ষুদ্রাস্ত্রই সর্বাধিক প্রিয় বলে জানিয়েছেন পুলিশের অপরাধ বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা।

জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে একাধিক দফায় দায়িত্ব পালন করেছেন এমন একজন পুলিশ কর্মকর্তা চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা। তিনি বলেন, ‘সাধারণত জাতীয় বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে বৈধ অস্ত্র থানায় জমা দেওয়ার জন্য লাইসেন্সধারী ব্যক্তিদের নির্বাচন কমিশন নির্দেশনা দেয়। আবার কোনো কোনো সময় বৈধ অস্ত্র সরাসরি থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশনা না দিয়ে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন ও ব্যবহার না করার নির্দেশনাও দিয়ে থাকতে পারে নির্বাচন কমিশন। এবার এখনো অস্ত্র সরাসরি থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেয়নি কমিশন। তবে এরই মধ্যে আমরা কিছু নির্দেশনা পেয়েছি, যে নির্দেশনা অনুযায়ী বৈধ অস্ত্রধারীদের মধ্যে সরকারি বাহিনী ছাড়া অন্য কেউ বৈধ অস্ত্রও প্রদর্শন ও বহন করতে পারবেন না।’

নির্বাচন কমিশন এখনো বৈধ অস্ত্রধারীদের অস্ত্র স্ব স্ব থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. ইলিয়াস হোসেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা জারি করলে সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের অস্ত্র শাখার উচ্চমান সহকারী মেরী চৌধুরী জানান, চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি থানায় মোট চার হাজার ২৬২টি বৈধ অস্ত্র এখনো লাইসেন্সধারী ব্যক্তিদের কাছে আছে।

নির্বাচন কমিশন যদি বৈধ অস্ত্র থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশনা জারি না করে তাহলে বৈধ-অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ‘একাকার’ হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এমন আশঙ্কার কথা সরাসরি বলা ঠিক হবে না। কারণ বৈধ অস্ত্র ও গুলির হিসাব থাকে। একজন বৈধ অস্ত্রধারীকে তার অস্ত্র ও গুলির হিসাব কর্তৃপক্ষকে দিতে হয়। এ কারণে বৈধ অস্ত্র অবৈধভাবে ব্যবহারের সুযোগ কম।’ তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলমান আছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা