kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চট্টগ্রামের ১৬ আসন

আ. লীগ ১৩, শরিকরা ৩ বিএনপি ১১, শরিকরা ৫

ক্ষমতাসীনদের বর্তমান এমপিদের বিপরীতে বিরোধীদের নতুন মুখ ১১

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। সব আসনেই শক্তিশালী প্রার্থী দিয়েছে তারা। তাঁদের মধ্যে তিনজন মন্ত্রী ও দুজন সাবেক মন্ত্রীসহ ১৫ জনই বর্তমান সংসদ সদস্য। আর নতুন মুখ মাত্র একজন। এই ১৬ আসনের মধ্যে ১৩টিতে আওয়ামী লীগ এবং তিনটিতে মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টি, জাসদ ও তরীকত ফেডারেশনের প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জাপার প্রার্থী ছাড়া বাকি ১৫টি আসনেই নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবেন প্রার্থীরা।

অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্ট থেকে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে গতকাল শনিবার পর্যন্ত ১৪টি আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে এবার ১১টি আসনে বিএনপির প্রার্থী এবং দুটিতে এলডিপির ও একটিতে কল্যাণ পার্টির প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন। বাকি দুটি আসনের একটি চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপি অথবা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কোনো একজন এবং চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া) জামায়াতের একজন প্রার্থী দেওয়ার কথা রয়েছে।

বিএনপির ১১টি আসনে দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে সাতজনই নতুন মুখ। এই জোট থেকে ১৬টি আসনের  মধ্যে চারজন প্রার্থী রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী। সব মিলিয়ে বিএনপি জোটের তুলনায় আওয়ামী লীগ জোট থেকে পুরনোরাই বেশি মনোনয়ন পেয়েছেন। এর মধ্যে একটি আসনে আওয়ামী লীগে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী রয়েছে। আর বিএনপি চিন্তিত, দুটি আসনে তাদের জোট শরিক জামায়াতে ইসলামীর স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায়।

আওয়ামী লীগ  ও মহাজোট : চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা মিলে মোট ১৬টি আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীরা হলেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী এমপি, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আওয়ামী লীগের মাহফুজুর রহমান মিতা এমপি, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-নগর আংশিক) আওয়ামী লীগের দিদারুল আলম এমপি, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-নগর দুটি ওয়ার্ড) বন ও পরিবেশ মন্ত্রী জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আওয়ামী লীগের এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-নগর আংশিক) জাসদ (আম্বিয়া) কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল এমপি, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আওয়ামী লীগের ব্যারিস্টার মহীবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, খুলশী, হালিশহর) আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন এমপি, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আওয়ামী লীগের এম আবদুল লতিফ এমপি, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আওয়ামী লীগের সামশুল হক চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) ভূমি প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আওয়ামী লীগের আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী এমপি, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আওয়ামী লীগের মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এমপি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫টি আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার পর চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ছাড়া অন্য আসনগুলোয় প্রার্থী নিয়ে দৃশ্যত কোনো দূরত্ব নেই দল ও জোট শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের মাঝে। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীকে টানা দ্বিতীয়বার মহাজোট থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে এখন নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম। তিনি ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনে আ. লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে হেরে যান। দলীয় কঠোর সিদ্ধান্ত মেনে আজ তিনি নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন নাকি নির্বাচনী মাঠে থাকবেন তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

এই জোটে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনেও ‘ঝামেলা’ চলছে। কারণ এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পাশাপাশি এখনো জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী মাঠে আছেন।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বৃহত্তর স্বার্থে সব কিছু বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী যাঁকে যে আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন আমরা তাঁদের সবাইকে বিজয়ী করে আনার জন্য ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি। দফায় দফায় সাংগঠনিক বৈঠক করছি।’

একই বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে যেসব দল আমাদের জোটে এসেছে, তাদের প্রার্থীদেরও বিজয়ী করা আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের আসনগুলোতে যাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, প্রত্যেকে শক্তিশালী প্রার্থী। 

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী : চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন চট্টগ্রাম-১ উপজেলা বিএনপির নুরুল আমিন; চট্টগ্রাম-২ কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার; চট্টগ্রাম-৪ বিএনপির ইসহাক কাদের চৌধুরী; চট্টগ্রাম-৫ কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম; চট্টগ্রাম-৬ বিএনপির জসিম উদ্দিন সিকদার; চট্টগ্রাম-৭ এলডিপির নুরুল আলম (সাবেক এমপি); চট্টগ্রাম-৮ বিএনপির সাবেক মন্ত্রী এম মোরশেদ খান (গতকাল প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় প্রায় চূড়ান্ত); চট্টগ্রাম-৯ ডা. শাহাদাত হোসেন; চট্টগ্রাম-১০ বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান; চট্টগ্রাম-১১ বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; চট্টগ্রাম-১২ বিএনপির এনামুল হক এনাম; চট্টগ্রাম-১৩ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য সারোয়ার জামাল নিজাম; চট্টগ্রাম-১৪ এলডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এবং চট্টগ্রাম-১৬ বিএনপির জাফরুল ইসলাম চৌধুরী।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম-৩ আসনে বিএনপির সাবেক এমপি মোস্তফা কামাল পাশাসহ তিনজনকে মনোনয়ন চিঠি এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সেলিম উদ্দিন হায়দারকে মনোয়ন দেওয়া হয়েছে। আজ রবিবার তাঁদের কেউ একজন চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আ ন ম শামসুল ইসলাম চৌধুরীকে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা রয়েছে। এটিও আজ চূড়ান্ত হওয়ার কথা।

এই বাইরে চট্টগ্রাম-১০ ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনে জামায়াতের দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন নির্বাচনী মাঠে। তাঁরা হলেন চট্টগ্রাম-১০-এ জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-১৬ আসনে উপজেলা জামায়াতের আমির ও সদ্য পদত্যাগ করা উপজেলা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। আসন দুটিতে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া নোমান ও জাফরুল ইসলাম রয়েছেন।

বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে এবার বেশির ভাগ আসনে নতুন মুখের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুনদের সুযোগ দেওয়াটা দরকার ছিল। পুরনোদের পাশাপাশি নতুনদেরও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এটা দলের জন্য ভালো। মানুষ পরিবর্তন চায়, আর পরিবর্তনের জন্য দলে নতুন মুখ। এবার নবীনে-প্রবীণে মিলে আমাদের মনোনয়ন শক্তিশালী হয়েছে।’

একই বিষয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আহমেদ হাসনাত বলেন, কে মনোনয়ন পেল বা পেল না তা বড় কথা নয়। ধানের শীষ প্রতীকে মানুষ ভোট দেবে। এই নির্বাচনে প্রার্থীর চেয়ে দলের প্রতীক বড়। ভোটাররা প্রতীক দেখেই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা