kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কেরানীগঞ্জে চার সন্তানের মাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কেরানীগঞ্জে চার সন্তানের জননীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহতের নাম নুর নাহার খাতুন (২৮)। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন পূর্ব আগানগরে একটি মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, নুর নাহার খাতুন ওই মার্কেটের চারতলার একটি কারখানার কয়েকজন গার্মেন্ট শ্রমিককে ভাত সরবরাহ করতেন। বাসায় রান্নার পর নিজেই খাবার পৌঁছে দিতেন শ্রমিকদের কাছে। অন্যান্য দিনের মতো শুক্রবার সন্ধ্যার পর রাতের খাবার নিয়ে তিনি মাকসুদা গার্ডেন সিটি নামের ওই মার্কেটে যান। তাঁর ফিরতে দেরি হলে মেজো মেয়ে ফাহিমা মাকে খুঁজতে সেখানে যায়। কর্তব্যরত নৈশপ্রহরী মো. নাসিরকে জিজ্ঞেস করে তার মাকে দেখেছেন কি না। তখন নৈশপ্রহরী বলেন, ‘তুমি ভেতরে গিয়ে দেখো একটি লাশ পড়ে আছে, ওটা তোমার মায়ের কি না’। ফাহিমা লাশের কাছে গিয়ে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন জানান, অন্ধকারে লাশটি পড়ে ছিল। জামাকাপড় এলোমেলো ও শরীরে ধস্তাধস্তির চিহ্ন এবং ইট দিয়ে মাথা থেঁতলানো ছিল। তাঁর বিশ্বাস, হত্যার আগে নুর নাহারকে ধর্ষণ করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি মেম্বার দেলোয়ার হোসেন দিলু জানান, শুক্রবার ছিল সাপ্তাহিক বন্ধের দিন। ওই নারী সন্ধ্যার দিকে রাতের খাবার নিয়ে মার্কেটে আসেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময় দুর্বৃত্তরা তাঁকে জোরপূর্বক মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ডে নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর পরে ধরা পড়ার ভয়ে তাঁকে ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

নিহত নারীর কনিকা, ফাহিমা, মারজানা ও ইব্রাহিম নামে চার সন্তান রয়েছে। তাঁর স্বামীর নাম কবির হোসেন। তাঁরা আগানগর ছোট মসজিস এলাকায় সেন্টু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে এক নারীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণের পর ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।

এ ঘটনায় শনিবার নিহতের ছোট ভাই ওসমান বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা